ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Amar Sangbad

ইনস্টাগ্রাম

Amar Sangbad

এক্স

Amar Sangbad


লিংকডইন

Amar Sangbad

পিন্টারেস্ট

Amar Sangbad

গুগল নিউজ

Amar Sangbad


হোয়াটস অ্যাপ

Amar Sangbad

টেলিগ্রাম

Amar Sangbad

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Amar Sangbad


ফিড

Amar Sangbad

ঢাকা শনিবার, ১৮ জুলাই, ২০২৬

তীব্র গরমে বিদ্যুতের হাহাকার, লোডশেডিংয়ের কবলে দেশ 

নিজস্ব প্রতিবেদক

নিজস্ব প্রতিবেদক

এপ্রিল ২৩, ২০২৬, ০১:২১ পিএম

তীব্র গরমে বিদ্যুতের হাহাকার, লোডশেডিংয়ের কবলে দেশ 

ভয়াবহ তাপপ্রবাহ আর অসহ্য গরমে যখন জনজীবন ওষ্ঠাগত, ঠিক তখনই দোসর হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে তীব্র বিদ্যুৎ সংকট। একদিকে দেশের ২৪টি জেলায় বয়ে যাচ্ছে মাঝারি থেকে তীব্র তাপপ্রবাহ, অন্যদিকে জ্বালানি সংকট ও কারিগরি ত্রুটির অজুহাতে বাড়ছে লোডশেডিং। 

বিশেষ করে গ্রামীণ জনপদে বিদ্যুতের এই সংকট এখন মানবিক বিপর্যয়ের পর্যায়ে পৌঁছেছে। চাহিদার তুলনায় উৎপাদন কম হওয়ায় সারা দেশে দৈনিক আড়াই থেকে তিন হাজার মেগাওয়াট পর্যন্ত ঘাটতি দেখা দিচ্ছে, যার বড় অংশই বইতে হচ্ছে পল্লী বিদ্যুতের গ্রাহকদের।

সরকারি হিসাব মতে, বর্তমানে দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় ২৯ হাজার মেগাওয়াট। কিন্তু খাতা-কলমে এই সক্ষমতা থাকলেও বাস্তবে জ্বালানির অভাবে কেন্দ্রগুলো চালু রাখা সম্ভব হচ্ছে না। গত মঙ্গলবার রাতে দেশে লোডশেডিংয়ের পরিমাণ ২ হাজার ১৬৮ মেগাওয়াট ছাড়িয়ে গেলেও বুধবার দিনের বেলায় তা আড়াই হাজার মেগাওয়াট অতিক্রম করেছে।

তবে সরকারি সংস্থা পিজিসিবি (পাওয়ার গ্রিড পিএলসি বাংলাদেশ) এবং বিতরণ সংস্থা আরইবি-র (পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড) তথ্যে ব্যাপক গরমিল লক্ষ করা গেছে। আরইবি-র দাবি অনুযায়ী, বুধবার দুপুরেই তাদের এলাকায় ঘাটতি ছিল ৩ হাজার ৩৫০ মেগাওয়াট। বিতরণ সংস্থাগুলো বলছে, চাহিদার সঠিক হিসাব পাওয়া না যাওয়ায় এবং উৎপাদন কেন্দ্র থেকে পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ না মেলায় সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ছে।

বিদ্যুৎ সংকটের মূলে রয়েছে জ্বালানির তীব্র অভাব। বিগত সরকারের আমল থেকে চলে আসা বিপুল বকেয়া পরিশোধ না করায় তেল ও কয়লা আমদানি ব্যাহত হচ্ছে। ফলে ফার্নেস ওয়েলচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর একটি বড় অংশ অলস বসে আছে।

এর মধ্যে 'মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা' হিসেবে দেখা দিয়েছে ভারতের আদানি গ্রুপের বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিপর্যয়। ঝাড়খন্ডে অবস্থিত ১ হাজার ৬০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার এই কেন্দ্রের একটি ইউনিট কারিগরি ত্রুটির কারণে বন্ধ হয়ে গেছে। আগে যেখানে আদানি থেকে ১৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আসত, এখন তা কমে ৭৫০ মেগাওয়াটে নেমেছে। পিডিবি সূত্র জানিয়েছে, এই সংকট কাটতে আরও কয়েক দিন সময় লাগতে পারে। এছাড়া পটুয়াখালীর পায়রা ও চট্টগ্রামের বাঁশখালী বিদ্যুৎকেন্দ্রও কয়লা সংকটে পূর্ণ ক্ষমতায় চলতে পারছে না।

রাজধানী ঢাকাসহ বড় শহরগুলোতে লোডশেডিং তুলনামূলক কম হলেও গ্রামের চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ম তামিমের মতে, ঘাটতি হলেই তা গ্রামের ওপর চাপিয়ে দেওয়া এক ধরণের অলিখিত নিয়মে পরিণত হয়েছে।

বিভাগীয় ও আঞ্চলিক চিত্র:

ময়মনসিংহ অঞ্চল: দেশের সবচেয়ে বেশি লোডশেডিং হচ্ছে এই অঞ্চলে। আরইবি-র তথ্যমতে, এখানে চাহিদার তুলনায় ৪৮ শতাংশ কম বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, দিনে ৬ থেকে ৭ বার বিদ্যুৎ যাচ্ছে এবং গড়ে ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা অন্ধকারেই থাকতে হচ্ছে।

রংপুর ও খুলনা: উত্তরবঙ্গে তাপমাত্রার পারদ ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছুঁলেও বিদ্যুৎ সরবরাহ কম প্রায় ৪০ শতাংশ। বিশেষ করে সেচ মৌসুমে বিদ্যুৎ না থাকায় বোরো ধান চাষিরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।

ঢাকা ও চট্টগ্রাম: ডেসকো ও ডিপিডিসি এলাকায় এখন পর্যন্ত বড় কোনো ঘাটতি নেই বললেই চলে। তবে মাঝে মাঝে কারিগরি ত্রুটির কারণে বিদ্যুৎ বিভ্রাট ঘটছে।

তীব্র গরমে ঘরে ঘরে শিশুদের নাভিশ্বাস দশা। চট্টগ্রাম থেকে ময়মনসিংহ, সবখানেই হাতপাখা আর তালপাতার পাখা হয়ে উঠেছে জীবন রক্ষার শেষ সম্বল। ময়মনসিংহের তারাকান্দার এক ভুক্তভোগী মা বলেন, ‘২৪ ঘণ্টায় মাত্র কয়েক ঘণ্টা বিদ্যুৎ পাই। গরমে বাচ্চাগুলো ঘুমাতে পারছে না, পড়াশোনা ব্যাহত হচ্ছে।এসএসসি পরীক্ষার্থীদের অবস্থা আরও শোচনীয়; রাতে মোমবাতি বা কুপির আলোতে পড়াশোনা করতে গিয়ে তারা শারীরিক ও মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ছে।

বদরগঞ্জের চাষি আব্দুল হালিমের মতো হাজারো কৃষক এখন পানির অভাবে হাহাকার করছেন। শ্যালো মেশিন চালানোর মতো বিদ্যুৎ নেই, আবার ডিজেল পাম্পগুলোও জ্বালানি সংকটের কারণে নিয়মিত খোলা থাকছে না। ফলে সেচ অভাবে অনেক জায়গায় বোরো ধান পুড়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। বিদ্যুৎ সংকটের এই প্রভাব দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য নিরাপত্তার ওপর হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

আবহাওয়াবিদদের মতে, আগামী শুক্রবার থেকে তাপপ্রবাহ আরও বাড়তে পারে। সেক্ষেত্রে বিদ্যুতের চাহিদা ১৮ হাজার মেগাওয়াট ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সক্ষমতা বাড়িয়ে কোনো লাভ নেই যদি জ্বালানি আমদানির জন্য প্রয়োজনীয় ডলারের সংস্থান না করা যায়। এছাড়া বিগত দিনের ভুল নীতি এবং ক্যাপাসিটি চার্জের বোঝা বিদ্যুৎ খাতকে পঙ্গু করে দিয়েছে।

পিডিবি সদস্য (উৎপাদন) মো. জহুরুল ইসলাম জানান, ফার্নেস ওয়েল ও ডিজেলচালিত কেন্দ্রগুলো থেকে উৎপাদন বাড়িয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা চলছে। তবে কয়লা ও আদানির সংকট দ্রুত সমাধান না হলে সাধারণ মানুষের এই ভোগান্তি সহজে কমবে বলে মনে হচ্ছে না।

বিদ্যুৎ এখন আর কেবল বিলাসিতা নয়, এটি মানুষের মৌলিক প্রয়োজনে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে গ্রামীণ অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে বিদ্যুতের সুষম বণ্টন জরুরি। ঢাকাকে আলোকিত রেখে গ্রামকে অন্ধকারে ডুবিয়ে রাখার এই ‘বিদ্যুৎ বৈষম্য‘নিরসনে সরকারকে জরুরি ভিত্তিতে পদক্ষেপ নিতে হবে। অন্যথায়, দাবদাহ আর লোডশেডিংয়ের এই দ্বিমুখী প্রকোপে জনরোষ তৈরি হওয়া কেবল সময়ের ব্যাপার।

এএন

Link copied!