আমার সংবাদ ডেস্ক
মে ১৬, ২০২৬, ০৬:২১ পিএম
আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে তামাকপণ্যের কার্যকর কর ও মূল্য বৃদ্ধি করে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা, রাজস্ব বৃদ্ধি এবং তামাকের সহজলভ্যতা কমানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।
শনিবার রাজধানীর ডেইলি স্টার ভবনের কাজী আজিমুর রহমান কনফারেন্স হলে “জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে তামাকপণ্যের কার্যকর দাম ও কর বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা” শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠক আয়োজন করে উবিনীগ (উন্নয়ন বিকল্পের নীতিনির্ধারণী গবেষণা) এবং তাবিনাজ (তামাকবিরোধী নারী জোট)।
বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন উবিনীগের নির্বাহী পরিচালক এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ফরিদা আখতার। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিলকিস ইসলাম এমপি এবং ডা. মাহমুদা আলম মিতু এমপি।
সম্মানিত আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন ডা. আবু মোহাম্মদ জাকির হোসেন, সভাপতি, কমিউনিটি ক্লিনিক স্বাস্থ্য সহায়তা ট্রাস্ট; অধ্যাপক ড. শরীফ মোশাররফ হোসেন, চেয়ারম্যান, অর্থনীতি বিভাগ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়; অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শাহাদাত হোসেন সিদ্দিকী, অর্থনীতি বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়; ডিন ড. আহমদ কামরুজ্জামান মজুমদার, স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ; ড. মো. সহিদুল ইসলাম, সাবেক সদস্য (গ্রেড-১), জাতীয় রাজস্ব বোর্ড; মাশিয়াত নূর প্রাপ্তি, সিনিয়র রিসার্চ অ্যাসোসিয়েট, বিআইজিডি; এবং তাসলিমা আখতার, লেকচারার, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ও পরিচালক ড. শাফিউন নাহিন শিমুল।
বক্তারা বলেন, বাংলাদেশে তামাক ব্যবহারের হার দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে সর্বোচ্চ ৩৫ দশমিক ৩ শতাংশ। তামাকজনিত রোগে প্রতিবছর প্রায় দুই লাখ মানুষের অকাল মৃত্যু ঘটে। পাশাপাশি তামাক ব্যবহারের ফলে স্বাস্থ্য ও পরিবেশগত ক্ষতির আর্থিক পরিমাণ বছরে প্রায় ৮৭ হাজার কোটি টাকা। বিপরীতে তামাক খাত থেকে সরকারের রাজস্ব আয় প্রায় ৪১ হাজার কোটি টাকা।
বৈঠকে বক্তারা জানান, নিম্ন ও মধ্যম স্তরের সিগারেট সহজলভ্য হওয়ায় তরুণ ও স্বল্প আয়ের জনগোষ্ঠী সহজেই তামাকে আসক্ত হচ্ছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় নিম্ন ও মধ্যম স্তরের সিগারেট একীভূত করে প্রতি ১০ শলাকা সিগারেটের ন্যূনতম মূল্য ১০০ টাকা নির্ধারণ, উচ্চ স্তরে ১৫০ টাকা এবং প্রিমিয়াম স্তরে ২০০ টাকা নির্ধারণের দাবি জানানো হয়। একইসঙ্গে সব স্তরে প্রতি প্যাকেটে ৪ টাকা সুনির্দিষ্ট কর আরোপের প্রস্তাবও তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি ধোঁয়াবিহীন তামাকজাত পণ্যের ওপরও কার্যকর কর ও মূল্য বৃদ্ধির আহ্বান জানানো হয়।
আলোচকরা আরও বলেন, প্রস্তাবিত তামাক কর সংস্কার বাস্তবায়িত হলে সরকারের রাজস্ব আয় প্রায় ৪৪ হাজার কোটি টাকা বৃদ্ধি পেয়ে ৮৫ হাজার কোটি টাকার বেশি হতে পারে, যা বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি মোকাবিলায় সহায়ক হবে।
গোলটেবিল বৈঠকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, তামাকবিরোধী কর্মী এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
এএন