ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Amar Sangbad

ইনস্টাগ্রাম

Amar Sangbad

এক্স

Amar Sangbad


লিংকডইন

Amar Sangbad

পিন্টারেস্ট

Amar Sangbad

গুগল নিউজ

Amar Sangbad


হোয়াটস অ্যাপ

Amar Sangbad

টেলিগ্রাম

Amar Sangbad

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Amar Sangbad


ফিড

Amar Sangbad

ঢাকা বুধবার, ০১ জুলাই, ২০২৬

সর্বোচ্চ ৭ বছর কারাদণ্ডের বিধান রেখে ‘জুয়া প্রতিরোধ আইন’ পাস

আমার সংবাদ ডেস্ক

আমার সংবাদ ডেস্ক

জুলাই ১, ২০২৬, ১২:১৯ এএম

সর্বোচ্চ ৭ বছর কারাদণ্ডের বিধান রেখে ‘জুয়া প্রতিরোধ আইন’ পাস

ঐতিহ্যবাহী ‘দ্য পাবলিক গ্যাম্বলিং অ্যাক্ট, ১৮৬৭’ রহিত করে আধুনিক ও কঠোর বিধান সংবলিত নতুন ‘জুয়া প্রতিরোধ বিল, ২০২৬’ জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে। এই আইনে প্রচলিত জুয়ার পাশাপাশি অনলাইন জুয়া, ম্যাচ ফিক্সিং ও স্পট ফিক্সিংয়ের অপরাধে সর্বোচ্চ সাত বছরের কারাদণ্ড ও পাঁচ কোটি টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার (৩০ জুন, ২০২৬) জাতীয় সংসদে বিলটি পাসের জন্য উত্থাপন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। স্পিকারের সভাপতিত্বে বিলের ওপর বিরোধী দলের সদস্যদের আনা জনমত যাচাই-বাছাই কমিটিতে প্রেরণ এবং সংশোধনী প্রস্তাবগুলো কণ্ঠভোটে নিষ্পত্তি হওয়ার পর বিলটি চূড়ান্তভাবে পাস হয়।

নতুন এই আইনে অনলাইন ও দূরবর্তী জুয়া, বাজি বা পণ (বেটিং), বাজিকর, ম্যাচ ফিক্সিং বা স্পট ফিক্সিংসহ মোট ২৪ ধরনের বিষয় সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। অপরাধের প্রকৃতিভেদে এতে ১৪ ধরনের সাজার (অর্থদণ্ড, কারাদণ্ড বা উভয় দণ্ড) ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। পাশাপাশি জুয়ার স্থান, ডিজিটাল সম্পদ, ডিজিটাল গ্যাম্বলিং প্ল্যাটফর্ম ও ডিজিটাল ওয়ালেটের আইনি সংজ্ঞাও বিলে স্পষ্ট করা হয়েছে।

অপরাধ ও শাস্তির বিবরণ:

  • প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ জুয়া: কোনো ব্যক্তি সরাসরি বা পরোক্ষভাবে জুয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ত হলে দুই বছরের কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।
  • অনলাইন বা দূরবর্তী জুয়া: এই অপরাধের জন্য পাঁচ বছরের কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ এক কোটি টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।
  • অনলাইন বেটিং (বাজি): অনলাইন বেটিংয়ে সম্পৃক্ততার জন্য সর্বোচ্চ সাত বছরের কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ পাঁচ কোটি টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ড দেওয়া হবে।
  • ম্যাচ ও স্পট ফিক্সিং: ক্রীড়াঙ্গনে ম্যাচ ফিক্সিং ও স্পট ফিক্সিংয়ের সাজা নির্ধারণ করা হয়েছে সর্বোচ্চ সাত বছরের কারাদণ্ড বা অনূর্ধ্ব এক কোটি টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ড।

বিলের আলোচনায় অংশ নিয়ে রংপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আখতার হোসেন বিলের উদ্দেশ্যের সঙ্গে একমত পোষণ করলেও কিছু ধারার অপব্যবহার নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেন। আদালতের অনুমতি ছাড়া পুলিশকে তল্লাশি, জব্দ, জুয়ার স্থান সিলগালা এবং ওয়েবসাইট, অ্যাপ বা আইপি অ্যাড্রেস ব্লক করার ক্ষমতা দেওয়ায় নাগরিক অধিকার ক্ষুণ্ন হতে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেন। অতীত অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন, জুয়া প্রতিরোধের নামে সরকারের সমালোচনাকারী কোনো নিউজ পোর্টাল বা সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট ব্লক করা হতে পারে।

অনুরূপভাবে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য নাজিবুর রহমান বলেন, পুলিশকে সম্পূর্ণ নিঃশর্ত ক্ষমতা দিলে তা ফৌজদারি কার্যবিধির সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে। তাই অপব্যবহার ঠেকাতে মালামাল জব্দের পর দ্রুত ম্যাজিস্ট্রেটের অনুমতি নেওয়ার বিধান যুক্ত করার পরামর্শ দেন তিনি।

সংসদ সদস্যদের এই আপত্তির জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বর্তমানে জুয়া ডিজিটাল ও সাইবার স্পেসে ছড়িয়ে পড়েছে। এসব ক্ষেত্রে আদালতের অনুমতির অপেক্ষা করতে গেলে অপরাধীরা দ্রুত আলামত বা ওয়েবসাইট সরিয়ে ফেলার সুযোগ পাবে। প্রচলিত বিভিন্ন আইনে পুলিশকে যেভাবে তল্লাশি ও গ্রেপ্তারের ক্ষমতা দেওয়া আছে, এই বিলেও সেই ধারাবাহিকতাই বজায় রাখা হয়েছে।

বিলটি পাসের পর পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেন, আইনটির পক্ষে আমরা আছি এবং সরকারকে সাধুবাদ জানাই। তবে বিরোধী দলের সুনির্দিষ্ট কিছু সংশোধনী প্রস্তাব গ্রহণ করা হলে আরও ভালো হতো। আমরা আশা করব, ভবিষ্যতে এই আইন প্রয়োগের অভিজ্ঞতা বিবেচনা করে সরকার সংশোধনীগুলো মূল্যায়ন করবে। এই আইনের যেন কোনো অপব্যবহার না হয় এবং নাগরিক ও মানবাধিকার যাতে হরণ না হয়, সেদিকে কড়া নজর রাখতে হবে।

জেএইচআর

Link copied!