ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Amar Sangbad

ইনস্টাগ্রাম

Amar Sangbad

এক্স

Amar Sangbad


লিংকডইন

Amar Sangbad

পিন্টারেস্ট

Amar Sangbad

গুগল নিউজ

Amar Sangbad


হোয়াটস অ্যাপ

Amar Sangbad

টেলিগ্রাম

Amar Sangbad

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Amar Sangbad


ফিড

Amar Sangbad

ঢাকা শুক্রবার, ০৩ জুলাই, ২০২৬

টাঙ্গাইলে মধু মাস: রঙে-রসে পরিপূর্ণ ফলের বাজার

রাইসুল ইসলাম লিটন, টাঙ্গাইল

রাইসুল ইসলাম লিটন, টাঙ্গাইল

জুলাই ৩, ২০২৬, ০২:৫৭ পিএম

টাঙ্গাইলে মধু মাস: রঙে-রসে পরিপূর্ণ ফলের বাজার

জ্যৈষ্ঠের শেষ আর আষাঢ়ের শুরু-বাঙালির বহুল প্রতীক্ষিত ‘মধু মাস’। এ সময় টাঙ্গাইলের বাজারগুলো রঙিন হয়ে উঠেছে মৌসুমি ফলের সমারোহে। আম, কাঁঠাল, জাম, লটকন, জামরুল, বেলসহ নানা রসালো ফলে ভরে উঠেছে শহরের ফলের দোকানগুলো। তুলনামূলক কম দামে ফল পাওয়া যাওয়ায় ক্রেতাদের মধ্যেও দেখা গেছে ব্যাপক উৎসাহ।

টাঙ্গাইল পৌর শহরের পার্ক বাজার, ছয়আনি বাজার, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, জগলু রোডের ফলপট্টিসহ বিভিন্ন বাজারে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ক্রেতাদের ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। দোকান ও ভ্রাম্যমাণ বিক্রেতাদের ঝুড়িভর্তি মৌসুমি ফল কিনতে ভিড় করছেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

বর্তমানে বাজারের সবচেয়ে বেশি চাহিদা আমের। বাজারে সুরমা ফজলি প্রতি কেজি ৪৫ টাকা, হাঁড়িভাঙ্গা ৭০ টাকা, ব্যানানা ম্যাংগো ১২০ টাকা, বারি-৪ ৭০ টাকা এবং আম্রপালি ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এর আগে বাজারে রাজশাহীর ল্যাংড়া, সাতক্ষীরার গোপালভোগ ও হিমসাগর আমও বিক্রি হয়েছে।

এ ছাড়া নতুন মৌসুমের লটকন প্রতি কেজি ১০০ টাকা, জামরুল ১২০ টাকা এবং আকারভেদে কাঁঠাল ৭০ থেকে ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বাজারে আতাফল, জাম্বুরা ও বেলের সরবরাহও বেড়েছে। তীব্র গরমে বেলের চাহিদাও বেশ বেড়েছে।

পার্ক বাজারের ফল ব্যবসায়ীরা জানান, মধু মাস তাদের বছরের সবচেয়ে ব্যস্ত সময়। প্রতিদিন রাজশাহী, নাটোর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও রংপুর থেকে ট্রাকভর্তি ফল টাঙ্গাইলে আসছে। এ বছর ফলন ভালো হওয়ায় দাম তুলনামূলক কম এবং বিক্রিও বেশি হচ্ছে।

শহরের জগলু রোডে ভ্রাম্যমাণ ফল বিক্রেতা সাদিকুর রহমান বলেন, পড়াশোনার পাশাপাশি তিনি ফল বিক্রি করছেন। প্রতিদিন ৩০ থেকে ৪০ কেজি আম বিক্রি হয়। বর্তমানে ক্রেতারা সরাসরি বাগান থেকে আনা প্রাকৃতিকভাবে পাকা ফল কিনতেই বেশি আগ্রহী।

ক্রেতাদেরও সন্তুষ্টি রয়েছে বাজারের দামে। শহরের প্যারাডাইসপাড়ার বাসিন্দা আব্দুল আলীম বলেন, বছরের এই সময়টাতেই সবচেয়ে বেশি ফল খাওয়া হয়। তাই পরিবারের জন্য নিয়মিত মৌসুমি ফল কিনছেন। আরেক ক্রেতা নাজমুল হাসান জানান, তিনি ৭০ টাকা কেজি দরে পাঁচ কেজি হাঁড়িভাঙ্গা আম কিনেছেন এবং প্রায় প্রতিদিনই আম কিনছেন।

পুষ্টিবিদদের পরামর্শ, ফল খাওয়ার আগে ভালোভাবে ধুয়ে নেওয়া উচিত। পুষ্টি বিশেষজ্ঞ ডা. ফারহানা সুলতানা বলেন, কার্বাইড বা ক্ষতিকর রাসায়নিক মেশানো ফল স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। তাই ফল অন্তত ৩০ মিনিট পানিতে ভিজিয়ে ভালোভাবে ধুয়ে খাওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

এদিকে ভেজাল প্রতিরোধে জেলা প্রশাসন ও জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর নিয়মিত বাজার তদারকি করছে। জেলা ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক আসাদুজ্জামান রোমেল জানান, বর্তমানে আমের পূর্ণ মৌসুম চলায় ব্যবসায়ীরা রাসায়নিক ব্যবহার না করে প্রাকৃতিকভাবেই ফল পাকাচ্ছেন। ফলে ভোক্তারা নিশ্চিন্তে মৌসুমি ফল কিনতে পারেন।

মধু মাসকে ঘিরে শুধু ফলের বাজারই নয়, টাঙ্গাইলের গ্রামীণ অর্থনীতিও চাঙা হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে মির্জাপুর, সখীপুর ও ঘাটাইলের অনেক কৃষক কাঁঠাল বিক্রির আয় দিয়ে বছরের গুরুত্বপূর্ণ ব্যয় মেটান। অন্যদিকে শহরের মানুষের কাছে মৌসুমি ফলের এই সময়টি যেন এক অন্যরকম উৎসব।

এম জি

Link copied!