মাশুক এলাহী, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়
জুলাই ৩, ২০২৬, ১২:৪৫ পিএম
কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে এক ছাত্রীকে কুপ্রস্তাব ও শ্লীলতাহানির চেষ্টার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে হিউম্যান রাইটস ডিফেন্ডার্ন্স সোসাইটি, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সংগঠনটির সভাপতি আলী আহসান মুহাম্মদ জুবাইর ও সাধারণ সম্পাদক খাদেমুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক যৌথ বিবৃতিতে এ উদ্বেগ জানানো হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বুধবার বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রী অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তির কুপ্রস্তাব ও শ্লীলতাহানির চেষ্টার শিকার হন। এ ঘটনা শুধু একজন শিক্ষার্থীর ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ও সম্মানকেই ক্ষুণ্ন করেনি, বরং শিক্ষাঙ্গনে নারী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও অবাধ চলাচলের অধিকারের ওপরও গুরুতর হুমকি সৃষ্টি করেছে।
সংগঠনের নেতারা বলেন, দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নারী শিক্ষার্থীদের প্রতি হয়রানি ও নির্যাতনের ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে বেড়ে চলেছে। অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত না হওয়ায় অনেক ক্ষেত্রেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অপরাধীদের জন্য নিরাপদ আশ্রয়ে পরিণত হচ্ছে। রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক প্রভাবের কারণে অপরাধীরা পার পেয়ে গেলে ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধ আরও বাড়ার আশঙ্কা থাকে।
তারা অবিলম্বে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নারী শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানান।
এর আগে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর বরাবর লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, গত ১ জুলাই সকাল ১১টা থেকে ১১টা ১৫ মিনিটের মধ্যে কলা অনুষদের পঞ্চম তলায় ফোকলোর স্টাডিজ বিভাগের বারান্দায় এক অজ্ঞাত ব্যক্তি তার সঙ্গে আপত্তিকর আচরণ ও যৌন হয়রানির চেষ্টা করেন। তিনি জানান, ওই ব্যক্তিকে আগে কখনও দেখেননি এবং ঘটনাটি তাকে মানসিকভাবে আতঙ্কিত ও বিব্রত করেছে।
ঘটনার তদন্তে ব্যবস্থাপনা বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আলীনূর রহমানকে আহ্বায়ক, সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক ড. মোহা. খাইরুল ইসলামকে সদস্যসচিব এবং ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মো. ওবায়দুল ইসলামকে সদস্য করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
এম জি