আমার সংবাদ ডেস্ক
জুলাই ৬, ২০২৬, ১১:১৫ এএম
দেশের সব বেসরকারি ক্লিনিক ও হাসপাতালকে আগামী শনিবারের মধ্যে বাধ্যতামূলকভাবে লেবার রুম (প্রসবকক্ষ) স্থাপনের নির্দেশ দিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এ নির্দেশনা বাস্তবায়ন না করলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স বাতিল করা হবে।
সোমবার রাজধানীর বিজয়নগরে বাংলাদেশ মিডওয়াইফারি সোসাইটি আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ নির্দেশনা দেন। মন্ত্রী বলেন, নিরাপদ মাতৃত্ব নিশ্চিত করতে প্রতিটি বেসরকারি ক্লিনিক ও হাসপাতালে আধুনিক ও মানসম্মত লেবার রুম থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ বিষয়ে কোনো ধরনের অবহেলা বা গাফিলতি সরকার মেনে নেবে না।
তিনি বলেন, প্রসূতি মায়েদের নিরাপদ চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। তাই যেসব বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিক এখনো লেবার রুম স্থাপন করেনি, তাদের দ্রুত এ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, গত দুই মাস ধরে উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে নানা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালানোর পাশাপাশি মশার লার্ভা ধ্বংসে আগামী সাত দিনের মধ্যে প্রয়োজনীয় ট্যাবলেট সরবরাহ করা হবে।
তিনি আরও জানান, ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালগুলোতে পর্যাপ্ত শয্যার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। পাশাপাশি মোবাইল চিকিৎসাসেবাও চালু রয়েছে। কিছুদিন স্যালাইনের সংকট থাকলেও বর্তমানে পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, জ্বর কমে গেলেই কোনো রোগীকে হাসপাতাল থেকে ছাড় দেওয়া হবে না। চিকিৎসক সম্পূর্ণ সন্তুষ্ট হওয়ার পরই রোগীকে ছাড়পত্র দিতে হবে। বিশেষ করে প্লাজমা লিকেজের সম্ভাবনা রয়েছে কি না, সে বিষয়ে চিকিৎসকদের সতর্কভাবে পর্যবেক্ষণ চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন দাবি করেন, গত বছরের তুলনায় বর্তমানে দেশের ডেঙ্গু পরিস্থিতি অনেক ভালো। একই সঙ্গে তিনি বলেন, হাম প্রতিরোধে সরকারের টিকাদান কর্মসূচিও সফলভাবে বাস্তবায়িত হয়েছে।
স্বাস্থ্যখাতের জনবল সংকট দূর করার উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, শিগগিরই স্বাস্থ্য বিভাগে এক লাখ নতুন জনবল নিয়োগ দেওয়া হবে। এর মধ্যে ৮০ হাজার নারী নিয়োগ পাবেন এবং তাদের অধিকাংশই মিডওয়াইফারি পেশায় যুক্ত থাকবেন।
এএন