ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Amar Sangbad

ইনস্টাগ্রাম

Amar Sangbad

এক্স

Amar Sangbad


লিংকডইন

Amar Sangbad

পিন্টারেস্ট

Amar Sangbad

গুগল নিউজ

Amar Sangbad


হোয়াটস অ্যাপ

Amar Sangbad

টেলিগ্রাম

Amar Sangbad

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Amar Sangbad


ফিড

Amar Sangbad

ঢাকা সোমবার, ০৬ জুলাই, ২০২৬

হলান্ড ঝড়ে কোয়ার্টার ফাইনালে নরওয়ে, চূর্ণ ব্রাজিলের হেক্সা মিশন

স্পোর্টস ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

জুলাই ৬, ২০২৬, ০৬:৩৬ এএম

হলান্ড ঝড়ে কোয়ার্টার ফাইনালে নরওয়ে, চূর্ণ ব্রাজিলের হেক্সা মিশন

বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতেই বড় অঘটনের জন্ম দিল নরওয়ে। নিউ জার্সিতে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলকে ২-১ গোলে হারিয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে নরওয়েজিয়ানরা। দলের জয়ের নায়ক ছিলেন স্ট্রাইকার আর্লিং হলান্ড। দ্বিতীয়ার্ধে তাঁর জোড়া গোলেই ব্রাজিলের হেক্সা স্বপ্ন ভেঙে যায়।

১৯৯০ সালের পর এই প্রথম এত দ্রুত বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিতে হলো ব্রাজিলকে। কোয়ার্টার ফাইনালে নরওয়ের প্রতিপক্ষ হবে মেক্সিকো অথবা ইংল্যান্ড।

শেষ বাঁশি বাজতেই স্তব্ধ হয়ে যায় নিউ জার্সির স্টেডিয়াম। মাঠেই কান্নায় ভেঙে পড়েন ব্রাজিলের অভিজ্ঞ তারকা নেইমার জুনিয়র। তাঁকে সান্ত্বনা দিতে এগিয়ে আসেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। পুরো ম্যাচে আক্রমণভাগে সবচেয়ে বেশি চেষ্টা করেছিলেন ভিনিসিয়ুস, কিন্তু তাঁর একক লড়াই শেষ পর্যন্ত ব্রাজিলকে রক্ষা করতে পারেনি।

ম্যাচের শুরুতে রক্ষণাত্মক কৌশলে খেলতে নামে কার্লো আনচেলত্তির ব্রাজিল। কাউন্টার অ্যাটাক থেকে প্রথম বড় সুযোগ আসে তাদের সামনে। ডি-বক্সে ফাউলের শিকার হন মাতেউস কুনিয়া এবং পেনাল্টি পায় ব্রাজিল।

কিন্তু সেই সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি ব্রুনো গিমারাইস। তাঁর দুর্বল শট ঠেকিয়ে দেন নরওয়ের গোলরক্ষক। লিড নেওয়ার সেই ব্যর্থতার পর ধীরে ধীরে ম্যাচে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে নরওয়ে।

গোলশূন্য প্রথমার্ধের পর আক্রমণ বাড়াতে এনদ্রিককে মাঠে নামান আনচেলত্তি। বদলি হিসেবে নেমেই ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের দারুণ পাস থেকে সহজ সুযোগ পান তরুণ এই স্ট্রাইকার। কিন্তু গোলরক্ষককে একা পেয়েও পোস্টের বাইরে শট মারেন তিনি। পরে এই মিসই ব্রাজিলের জন্য সবচেয়ে বড় আক্ষেপ হয়ে দাঁড়ায়।

৬৮ মিনিটে নেইমারকে মাঠে নামান আনচেলত্তি। তবে তিনি ম্যাচে প্রভাব বিস্তার করার আগেই শুরু হয় হলান্ডের ঝড়।

প্রথমার্ধে ব্রাজিলের ডিফেন্ডার গ্যাব্রিয়েল মাগালহায়েস হলান্ডকে অনেকটাই আটকে রেখেছিলেন। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে সম্পূর্ণ বদলে যায় চিত্র।

৭৯ মিনিটে ডান দিক থেকে আসা ক্রসে দুর্দান্ত হেডে নরওয়েকে এগিয়ে দেন হলান্ড।

এরপর ৯০ মিনিটে ডি-বক্সের বাইরে থেকে অসাধারণ এক শটে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন তিনি। তাতেই নিশ্চিত হয়ে যায় নরওয়ের ঐতিহাসিক জয়।

যোগ করা সময়ে পেনাল্টি থেকে একটি গোল শোধ করেন নেইমার। তবে সেটি কেবল ব্যবধান কমিয়েছে, হার এড়াতে পারেনি ব্রাজিল।

এই জোড়া গোলের মাধ্যমে চলতি বিশ্বকাপে নিজের গোলসংখ্যা ৭-এ উন্নীত করেছেন হলান্ড। ফলে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে তিনি কিলিয়ান এমবাপ্পে ও লিওনেল মেসির সমকক্ষে উঠে এসেছেন।

ম্যাচের ফলাফল যতটা নরওয়ের পক্ষে, পরিসংখ্যান ততটা নয়।

ব্রাজিলের প্রত্যাশিত গোল (xG) ছিল ২.৭৩, যেখানে নরওয়ের xG মাত্র ০.৮৪। ব্রাজিল মোট ১৪টি শট নেয়, যার চারটি ছিল লক্ষ্যে। অন্যদিকে সীমিত সুযোগ পেয়েও অসাধারণ ফিনিশিংয়ে দুই গোল আদায় করে নেয় নরওয়ে।

এই হারের পর ব্রাজিলের প্রধান কোচ কার্লো আনচেলত্তিকে ঘিরে সমালোচনা শুরু হয়েছে। ২০২৫ সালে দায়িত্ব নেওয়ার পর বিশ্বকাপের আগে তাঁর চুক্তির মেয়াদ ২০৩০ সাল পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছিল। তবে হেক্সা জয়ের স্বপ্ন শেষ ষোলোতেই ভেঙে যাওয়ায় তাঁর ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

বিশ্বকাপের অন্যতম শক্তিশালী দলকে বিদায় করে ইতিহাস গড়া নরওয়ে এখন স্বপ্ন দেখছে আরও বড় সাফল্যের। আর ব্রাজিলের জন্য এই হার দীর্ঘদিন মনে রাখার মতো এক বেদনাদায়ক অধ্যায় হয়ে থাকবে।

এম জি

 

Link copied!