স্পোর্টস ডেস্ক
জুলাই ৬, ২০২৬, ১১:৩৬ এএম
মাঠে গোলের পর গোল করে প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগে আতঙ্ক ছড়িয়ে দেন নরওয়ের তারকা স্ট্রাইকার আরলিং হালান্ড। বিশ্বকাপ থেকে শুরু করে ক্লাব ফুটবল- সব জায়গাতেই তার দুর্দান্ত পারফরম্যান্স নিয়ে আলোচনা চলছে। তবে মাঠের বাইরেও একটি অদ্ভুত অভ্যাসের কারণে সম্প্রতি আলোচনায় উঠে এসেছেন এই ফুটবলার।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আইটিভি নিউজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঘুমানোর সময় হালান্ড প্রায়ই মুখে বিশেষ ধরনের আঠাযুক্ত টেপ ব্যবহার করেন। বিষয়টি প্রথমে অনেকের কাছেই বিস্ময়কর মনে হলেও এর পেছনে রয়েছে নির্দিষ্ট বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা এবং নিজের শারীরিক সক্ষমতা ধরে রাখার একটি কৌশল।
একটি জনপ্রিয় পডকাস্টে হালান্ড নিজেই জানান, তিনি ঘুমানোর সময় মুখ বন্ধ রাখতে বিশেষ টেপ ব্যবহার করেন। চিকিৎসাবিজ্ঞানে এই পদ্ধতিকে বলা হয় ‘মাউথ টেপিং’। এর উদ্দেশ্য হলো ঘুমের সময় মুখ দিয়ে নয়, কেবল নাক দিয়ে শ্বাস নেওয়ার অভ্যাস বজায় রাখা। তার বিশ্বাস, উন্নত মানের ঘুম একজন ক্রীড়াবিদের পারফরম্যান্সের অন্যতম প্রধান ভিত্তি, আর নাক দিয়ে শ্বাস নেওয়া সেই ভালো ঘুম নিশ্চিত করতে সহায়তা করে।
হালান্ডের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘুমের সময় নাক দিয়ে শ্বাস নেওয়ার ফলে শরীর আরও কার্যকরভাবে অক্সিজেন গ্রহণ করতে পারে। এতে ঘুমের মান উন্নত হয় এবং শরীর দ্রুত পুনরুদ্ধারের সুযোগ পায়। তাই প্রতিদিন ঘুমানোর আগে মুখে টেপ লাগিয়ে রাখার অভ্যাস গড়ে তুলেছেন তিনি।
স্পোর্টস সায়েন্স ও চিকিৎসাবিজ্ঞানের বিভিন্ন গবেষণাতেও নাক দিয়ে শ্বাস নেওয়ার বেশ কিছু সম্ভাব্য উপকারিতার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এভাবে শ্বাস নিলে ফুসফুসে অক্সিজেন প্রবাহ আরও কার্যকর হতে পারে, যা রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা বজায় রাখতে সহায়ক। দীর্ঘ সময় উচ্চমাত্রার শারীরিক পরিশ্রম করা ক্রীড়াবিদদের জন্য এটি উপকারী বলে মনে করা হয়।
এ ছাড়া মুখ বন্ধ রেখে ঘুমালে নাক ডাকার প্রবণতা কমতে পারে, মুখ ও গলা অতিরিক্ত শুকিয়ে যাওয়ার ঝুঁকিও হ্রাস পায়। গভীর ও নিরবচ্ছিন্ন ঘুম নিশ্চিত হলে শরীরের ক্লান্তি দূর হওয়ার প্রক্রিয়াও দ্রুত হয়, যা একজন পেশাদার ফুটবলারের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
আইটিভি নিউজের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, শুধু মাউথ টেপিং নয়, ঘুমের মান ধরে রাখতে আরও কিছু নিয়ম কঠোরভাবে অনুসরণ করেন হালান্ড। ঘুমাতে যাওয়ার প্রায় তিন ঘণ্টা আগে তিনি বিশেষ ধরনের ব্লু-লাইট ব্লকিং চশমা ব্যবহার করেন, যাতে মোবাইল ফোন, টেলিভিশন বা কম্পিউটারের পর্দা থেকে নির্গত নীল আলো তার ঘুমের ওপর প্রভাব ফেলতে না পারে।
এ ছাড়া তার শোবার ঘরে ইলেকট্রনিক ডিভাইস বা ওয়াই-ফাই সিগন্যাল রাখার বিষয়েও সতর্ক থাকেন তিনি। শান্ত, অন্ধকার ও স্বাভাবিক পরিবেশে ঘুমানোর মাধ্যমে শরীরকে সর্বোচ্চ বিশ্রাম দেওয়াই তার লক্ষ্য। হালান্ডের বিশ্বাস, নিয়মিত অনুশীলনের পাশাপাশি মানসম্মত ঘুমই মাঠে ধারাবাহিক সাফল্যের অন্যতম বড় চাবিকাঠি।
এএন