আমার সংবাদ ডেস্ক
ডিসেম্বর ৯, ২০২৫, ১১:৩৪ এএম
আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী দিবস উপলক্ষে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশের বর্তমান দুর্নীতি পরিস্থিতি এবং এ সমস্যা সমাধানে দলটির অতীত অর্জন ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরে মঙ্গলবার সকালে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একটি পোস্ট দিয়েছেন। তিনি দুর্নীতিকে বাংলাদেশের লাখো মানুষের জীবনকে ‘দমবন্ধ’ করে দেওয়ার মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করে দাবি করেছেন, দুর্নীতি দমনে ধারাবাহিক রেকর্ড একমাত্র বিএনপিরই রয়েছে।
তারেক রহমান তাঁর পোস্টে বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে দুর্নীতির প্রভাব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, দুর্নীতি কীভাবে দেশকে পঙ্গু করে দিচ্ছে, তা বুঝতে দূরে যাওয়ার দরকার নেই। মেধার ভিত্তিতে চাকরি খুঁজতে বের হওয়া স্নাতক বা মাসের পর মাস ধরে সরকারি সেবা পেতে হিমশিম খাওয়া কৃষকের দিকে তাকালেই তা বোঝা যায়।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, হাসপাতালে গিয়ে একটি পরিবারের ভোগান্তি। ব্যবসা বাঁচিয়ে রাখতে ঘুষ দিতে বাধ্য হওয়া উদ্যোক্তাদের সমস্যা। খাবারের মূল্য বৃদ্ধি, শিক্ষা ও সড়কে নিরাপত্তার অভাব, সবকিছুর পিছনে একই কারণ, দুর্নীতি। এই দুর্নীতি লাখো মানুষের প্রতিদিনের জীবনকে দমবন্ধ করে ফেলেছে।
তারেক রহমান বলেন, আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী দিবস আমাদের সেই লড়াইয়ের কথা মনে করিয়ে দেয়, যখন বাংলাদেশ সত্যিকারের অগ্রগতি করেছিল, যা মূলত বিএনপির আমলেই হয়েছে।
তিনি দাবি করেন, রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান প্রশাসনে শৃঙ্খলা ফেরানো, পরিষ্কার সরকারি সেবা এবং অর্থনীতিকে মুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছিলেন, যা অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহার কমিয়ে দিয়েছিল।
প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সময়ে সরকারি প্রতিষ্ঠানে আধুনিকায়ন শুরু হয়, যার মধ্যে ছিল নতুন ক্রয় নীতিমালা, কঠোর আর্থিক আইন, শক্তিশালী নিরীক্ষা ব্যবস্থা এবং পরিষ্কার নজরদারি।
সবচেয়ে বড় পদক্ষেপ ছিল ২০০৪ সালে দুদক (দুর্নীতি দমন কমিশন) গঠন, যা ছিল একটি স্বাধীন কমিশন এবং বাংলাদেশের জবাবদিহিতার ক্ষেত্রে বড় অগ্রগতি।
টিআইবির (ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ) জরিপেও দেখা গেছে, ২০০২ থেকে ২০০৫ সালের মধ্যে পরিস্থিতি উন্নত হয়েছিল এবং মানুষ নিজেরাই দুর্নীতি কমার কথা বলেছিল।
বিএনপি কিছু বড় পরিবর্তনের জন্য গর্ব করতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন:
তারেক রহমান স্পষ্ট করে বলেন, দুর্নীতি কমানোর ক্ষেত্রে ধারাবাহিক রেকর্ড একমাত্র বিএনপি’রই আছে।
আগামী দিনে দুর্নীতির বিরুদ্ধে যুদ্ধ আরও শক্তভাবে চালানোর জন্য বিএনপির পরিকল্পনার কথা তিনি তুলে ধরেন:
তিনি উপসংহারে বলেন, বহু বছর অব্যবস্থাপনার পর দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই অবশ্যই কঠিন হবে। কিন্তু বাংলাদেশের ইতিহাসই প্রমাণ করে, যখন সৎ নেতৃত্ব, শৃঙ্খলা ও জনগণের সমর্থন একসাথে আসে, তখন পরিবর্তন অসম্ভব নয়। জনগণ যদি দায়িত্ব দেয়, বিএনপি আবারও সেই লড়াইয়ের নেতৃত্ব দিতে প্রস্তুত।
জেএইচআর