বিশেষ প্রতিবেদক
জানুয়ারি ৯, ২০২৬, ০৬:৫৪ পিএম
বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসে জিয়া পরিবার সবসময়ই একটি বড় ফ্যাক্টর। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার উত্তরাধিকার বহন করে তারেক রহমান যখন দলকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন, ঠিক তখনই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছেন তার একমাত্র কন্যা ব্যারিস্টার জায়মা রহমান। বিশেষ করে দাদির মৃত্যুর পর থেকে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে তার অংশগ্রহণ এই জল্পনাকে আরও উসকে দিয়েছে।
জায়মা রহমানকে নিয়ে বিএনপির নেতাকর্মীদের আগ্রহের বড় কারণ তার ব্যক্তিত্ব। অনেক নেতাকর্মীই মনে করেন, জায়মার চলন বলন এবং নীরবে কাজ করে যাওয়ার মানসিকতার মধ্যে বেগম খালেদা জিয়ার প্রতিচ্ছবি ফুটে ওঠে। যদিও মাত্র ১৩ বছর বয়সে তিনি পড়াশোনার উদ্দেশ্যে যুক্তরাজ্যে পাড়ি জমিয়েছিলেন এবং সেখানেই তার বেড়ে ওঠা, তবুও নাড়ির টান যে তিনি ভোলেননি, তার প্রমাণ মিলেছে সাম্প্রতিক সময়ে।
সম্প্রতি দাদির মৃত্যু এবং দীর্ঘ প্রবাস জীবন শেষে দেশে ফেরার পর জায়মা রহমানকে তার বাবার পাশে এক অতন্দ্র প্রহরীর মতো দেখা গেছে। শোকাতুর তারেক রহমানের মানসিক শক্তির জোগানদাতা হিসেবে তিনি যেমন ছায়ার মতো ছিলেন, তেমনি কূটনৈতিক শিষ্টাচার পালনেও ছিলেন অনন্য।
ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করসহ বিভিন্ন দেশের উচ্চপদস্থ প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে বাবার পাশে তার উপস্থিতি রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের দৃষ্টি কেড়েছে। তারেক রহমান নিজেও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক নেতাদের সঙ্গে নিজের কন্যার পরিচয় করিয়ে দিচ্ছেন বেশ গুরুত্বের সঙ্গে।
জায়মা রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো রাজনৈতিক পদ না নিলেও তার কর্মকাণ্ড গত এক বছর ধরে বেশ আলোচিত। গত বছর যুক্তরাষ্ট্রে জাতীয় প্রার্থনা প্রাতরাশ অনুষ্ঠানে বাবার প্রতিনিধি হিসেবে যোগ দিয়ে তিনি চমক সৃষ্টি করেছিলেন। প্রবাসী ভোটারদের নিয়ে আয়োজিত বিএনপির এক অনুষ্ঠানে তার ভার্চুয়ালি অংশগ্রহণ দলের তরুণ প্রজন্মের মধ্যে ব্যাপক প্রাণের সঞ্চার করেছিল।
সবচেয়ে চমকপ্রদ তথ্য হলো, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহার প্রণয়ন ও প্রচার কৌশলে তিনি পর্দার আড়াল থেকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন বলে জানা গেছে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী মনে করেন, রাজনৈতিক পরিবারে জন্ম হওয়ায় জায়মার পক্ষে রাজনীতির বাইরে থাকা কঠিন। তিনি বলেন, তিনি যে পরিবেশ ও উত্তরাধিকার থেকে এসেছেন, সেখানে জনগণের আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে যুক্ত হওয়াটা স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। দলের অন্য শীর্ষ নেতাদের মতে, জায়মা রহমান কেবল একটি বংশপরিচয় নন, বরং আধুনিক শিক্ষিত তরুণ সমাজের আকাঙ্ক্ষার প্রতীক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারেন।
তবে তিনি ঠিক কবে সরাসরি দলীয় কোনো পদে আসবেন বা নির্বাচনে অংশ নেবেন কি না, সে বিষয়ে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত জানায়নি পরিবার বা দল।
জায়মা রহমানের সামনে চ্যালেঞ্জও কম নয়। লন্ডনে আইন পেশায় নিয়োজিত এই তরুণীর রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ও নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষমতাকে জনগণের সামনে প্রমাণ করার পরীক্ষা দিতে হবে। উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া জনপ্রিয়তাকে তিনি কীভাবে সংসদীয় রাজনীতি বা সাংগঠনিক দক্ষতায় রূপান্তর করবেন, সেটিই হবে দেখার বিষয়। খালেদা জিয়ার প্রয়াণের পর জায়মা রহমানকে নিয়ে বিএনপিতে প্রত্যাশা বেড়েছে। বাবার সঙ্গে বিভিন্ন কূটনৈতিক বৈঠকে তার উপস্থিতি নতুন বার্তা দিচ্ছে।
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের ইশতেহার ও প্রচারে তার সক্রিয় ভূমিকা লক্ষ্য করা যাচ্ছে এবং রাজনৈতিক উত্তরাধিকারের পাশাপাশি যোগ্যতা প্রমাণের বড় পরীক্ষা অপেক্ষা করছে তার সামনে।
জেএইচআর