বগুড়া প্রতিনিধি
জানুয়ারি ৩০, ২০২৬, ০৫:০৩ পিএম
বগুড়ার আকাশ আজ মেঘমুক্ত, আর মানুষের হৃদয়ে যেন সেই রোদেরই ছোঁয়া। চার তারকা হোটেল নাজ গার্ডেনের বলরুমটি আজ কোনো রাজনৈতিক তর্কের কেন্দ্র ছিল না, বরং এটি হয়ে উঠেছিল এক টুকরো শিশুস্বর্গ।
উপলক্ষে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশু ও কিশোরদের মাঝে হুইলচেয়ার বিতরণ ও মতবিনিময় সভা। প্রধান অতিথির আসনে বসা বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান শিশুদের কণ্ঠে ‘প্রথম বাংলাদেশ আমার শেষ বাংলাদেশ’ গানটি শুনে যেমন আবেগপ্রবণ হলেন, তেমনি তাদের তৈরি হস্তশিল্পের উপহার পেয়ে শিশুদের প্রতিভার জয়গান গাইলেন।
অনুষ্ঠানে তারেক রহমান অত্যন্ত বেদনাহত কণ্ঠে আমাদের সমাজব্যবস্থার একটি প্রচলিত ঝোঁকের কথা তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, ‘আমাদের সমাজে একটি প্রবণতা আছে যে, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মানুষদের আমরা ঘরের ভেতরে বন্দি করে রাখি, তাদের বাইরের আলো-বাতাস দেখতে দিই না। অথচ বাস্তবতা হলো আমরা যারা নিজেদের সুস্থ-স্বাভাবিক দাবি করি, আমাদের চেয়েও এ মানুষগুলোর মধ্যে অনেক বেশি সুপ্ত প্রতিভা ও গুণ রয়েছে।’
তিনি মনে করিয়ে দেন যে, এ মানুষগুলো সমাজের বোঝা নয়, বরং সঠিক সুযোগ পেলে তারা দেশের সম্পদে পরিণত হতে পারে।
তিনি সকলকে শপথ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, আসুন, আমরা নিজ নিজ অবস্থান থেকে এদের পাশে দাঁড়াই। আমরা এমন এক বাংলাদেশ গড়তে চাই, যেখানে কমবেশি প্রতিটি মানুষ মর্যাদা ও সম্মানের সাথে বাঁচতে পারবে।
এদিন হুইলচেয়ারগুলো বিতরণ করা হয় তারেক রহমানের সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমানের পক্ষ থেকে। সিএসএফ গ্লোবাল নামে একটি প্রতিষ্ঠানের সহায়তায় আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে জুবাইদা রহমানও শিশুদের অসাধারণ প্রতিভা দেখে মুগ্ধ হন।
তিনি বলেন, শিশুরাই আগামী দিনের দেশ গড়ার মহাসৈনিক। আমাদের এমন একটি পরিবেশ তৈরি করতে হবে, যেখানে শিশুরা অন্ধকারের গহ্বর থেকে আলোর পথে এগিয়ে যাবে এবং নিজেদের আত্মবিশ্বাস ফিরে পাবে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, বিএনপির ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পরিকল্পনায় কেবল ক্ষমতায় যাওয়া নয়, বরং প্রতিটি জেলায় সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করা এবং শিক্ষার সাথে হ্যাপিনেস বা সুখের সমন্বয় ঘটানোর একটি সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ রয়েছে। খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক চর্চার মাধ্যমে প্রতিটি জেলাকে উজ্জীবিত করার পরিকল্পনার কথাও তিনি ব্যক্ত করেন।
তারেক রহমান তার বক্তব্যে বিশাল কোনো মহাযজ্ঞের কথা না বলে সাধারণ ও মৌলিক অধিকারের ওপর জোর দেন।
তিনি বলেন, এদের জন্য খুব বেশি কিছু করার দরকার নেই, কেবল এদের চলাফেরার ন্যূনতম ব্যবস্থা করে দিন এবং সমাজের মূলস্রোতে খাপ খাইয়ে নেওয়ার সুযোগ করে দিন। দরিয়ার আলো-বাতাস যেমন সবার জন্য, এ পৃথিবীটাও তেমনি তাদের জন্য। তারা আমাদের বাইরের কেউ নয়, তারা আমাদেরই আপনজন।
সকাল ১০টা থেকেই নাজ গার্ডেন এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছিল। হুইলচেয়ার বিতরণ কর্মসূচি ও মতবিনিময় সভা শেষ করে তারেক রহমান বগুড়া শহরের বাইতুর রহমান সেন্ট্রাল জামে মসজিদে সাধারণ মানুষের সাথে জুমার নামাজ আদায় করেন। এর আগে তিনি রংপুরে একটি বিশাল জনসভায় ভাষণ দিয়েছিলেন। আজ বগুড়ায় রাত্রিযাপন শেষে তিনি পুনরায় তার নির্বাচনী সফরের পরবর্তী গন্তব্যে রওনা হবেন।
বগুড়ার এ আয়োজনটি কেবল একটি দানশীলতার অনুষ্ঠান ছিল না, বরং এটি ছিল একটি রাজনৈতিক বার্তার বহিঃপ্রকাশ। তারেক রহমান বোঝাতে চেয়েছেন, আগামীর বাংলাদেশ কেবল বহুতল ভবনের উন্নয়ন হবে না, বরং সেই উন্নয়ন হবে মানবিক। প্রতিবন্ধী ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষদের মর্যাদা ফিরিয়ে দেওয়াই হবে সেই নতুন বাংলাদেশের অন্যতম ভিত্তি।
ইএইচ