স্পোর্টস ডেস্ক
মে ২৫, ২০২৬, ০৭:৪৫ এএম
ফুটবল বিশ্বকাপের শিরোপা কে জিতবে, তা নিয়ে উন্মাদনার শেষ থাকে না। তবে সব গণনাকে এক পাশে সরিয়ে ফুটবল বিশ্বে এখন তুমুল আলোচনা চলছে একজন অর্থনীতিবিদকে নিয়ে। কেন? কারণ গত তিনটি বিশ্বকাপে (২০১৪, ২০১৮ এবং ২০২২) তার করা নিখুঁত ভবিষ্যদ্বাণী শতভাগ মিলে গিয়েছিল! টানা তিনবার সফল হওয়ার পর, এবার ২০২৬ বিশ্বকাপের জন্যও নিজের রায় জানিয়ে দিয়েছেন তিনি। তার গাণিতিক মডেল বলছে- এবার সব খরা কাটিয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বজয়ের উল্লাসে মাতবে নেদারল্যান্ডস।
স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম এএস স্পোর্টস এবং সিএনএন-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই চমকপ্রদ দাবি করেছেন প্যানমিউর লিবারিয়াম ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকের স্ট্র্যাটেজিস্ট জোয়াকিম ক্লেমেন্ট।
জোয়াকিম ক্লেমেন্ট ২০১৪ সালে যখন প্রথম এই গাণিতিক মডেলটি তৈরি করেন, তখন তার উদ্দেশ্য ছিল স্রেফ বিনোদন। তিনি মজা করে দেখাতে চেয়েছিলেন যে, অর্থনীতিবিদরা চাইলে সব বিষয়েরই ভবিষ্যৎ বলে দিতে পারেন! কিন্তু সেই রসিকতাই যে পরে ইতিহাস হয়ে যাবে, তা তিনি নিজেও ভাবেননি। তার মডেলের গণনা মিলিয়েই যথাক্রমে জার্মানি, ফ্রান্স ও আর্জেন্টিনা বিশ্বসেরার মুকুট পরেছিল। ক্লেমেন্ট নিজেই হেসে বলেন, "সবকিছু শুরু হয়েছিল নিছক মজার ছলে। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত আমি টানা তিনবারই একদম সঠিক বলে ফেলেছি!"
ক্লেমেন্টের এই ভবিষ্যদ্বাণী কিন্তু কেবল মাঠের পারফরম্যান্স বা দলগুলোর শক্তির ওপর ভিত্তি করে নয়। এর পেছনে রয়েছে জটিল অর্থনৈতিক, ভৌগোলিক ও জনসংখ্যাগত ডেটার চুলচেরা বিশ্লেষণ।
একটি দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতা যত ভালো, তাদের ফুটবল অবকাঠামো ও একাডেমি তত উন্নত হয়। তবে দেশ খুব বেশি ধনী হলেও সমস্যা; কারণ তখন শিশুরা ফুটবলের চেয়ে ভিডিও গেম বা অন্যান্য আধুনিক বিনোদনে বেশি ঝুঁকে পড়ে।
দেশের জনসংখ্যা যত বড় হবে, সেখান থেকে বিশ্বমানের প্রতিভা খুঁজে পাওয়ার সম্ভাবনা তত বেশি। তবে শর্ত একটাই- সেই দেশে ফুটবলকে জনপ্রিয় খেলা হতে হবে।
ক্লেমেন্টের গবেষণায় দেখা গেছে, ফুটবলার তৈরির জন্য ১৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস গড় তাপমাত্রা সবচেয়ে আদর্শ। অতিরিক্ত গরম বা প্রচণ্ড ঠান্ডা ফুটবলারদের বিকাশে বাধা দেয়।
ফিফা র্যাঙ্কিং ও হোম অ্যাডভান্টেজ: দলের সাম্প্রতিক ফর্ম বুঝতে ফিফা র্যাঙ্কিং এবং নিজেদের মাঠে খেলার ক্ষেত্রে দর্শকদের বাড়তি সমর্থনকেও হিসেবে রাখা হয়।
ইতিহাসে তিন তিনবার ফাইনালে উঠেও রানার্স-আপ হয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে ডাচদের। তবে ক্লেমেন্টের ডেটা অ্যানালাইসিস বলছে, ডাচদের সেই আক্ষেপ ঘুচতে যাচ্ছে ২০২৬ সালের ১৯ জুলাই। মেটলাইফ স্টেডিয়ামের সেই মেগা ফাইনালে নেদারল্যান্ডসের মুখোমুখি হবে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর দেশ পর্তুগাল।
ক্লেমেন্ট স্পষ্ট জানিয়েছেন, ফুটবলে দক্ষতার পাশাপাশি ‘ভাগ্য’ একটা বড় ফ্যাক্টর। তার মতে, টুর্নামেন্টের ফলের প্রায় ৪৫ শতাংশই নির্ভর করে সৌভাগ্যের ওপর। নেদারল্যান্ডস ও পর্তুগালের ফুটবলীয় শক্তির পার্থক্য খুবই সামান্য, তাই শেষ পর্যন্ত ভাগ্যের সামান্য ছোঁয়া যার দিকে থাকবে, ট্রফিটা তারাই নেবে।
অর্থনীতিবিদ ক্লেমেন্ট ডাচদের চ্যাম্পিয়ন বানালেও, আন্তর্জাতিক বাজিকর ও প্রেডিকশন মার্কেটগুলো কিন্তু তাদের নিয়ে খুব একটা আশাবাদী নয়। জনপ্রিয় প্রেডিকশন প্ল্যাটফর্ম ‘পলিমার্কেট’-এর মতে, নেদারল্যান্ডসের বিশ্বকাপ জেতার সম্ভাবনা মাত্র ৩ শতাংশ।
বাজিকরদের ফেভারিটের তালিকায় নেদারল্যান্ডস রয়েছে তলানির দিকে (অষ্টম স্থানে)। তাদের চোখে সেরা ৭টি ফেভারিট দল হলো:
১. স্পেন
২. ফ্রান্স
৩. ইংল্যান্ড
৪. ব্রাজিল
৫. আর্জেন্টিনা
৬. পর্তুগাল
৭. জার্মানি
২০২৬ বিশ্বকাপে গ্রুপ ‘এফ’-এ লড়বে নেদারল্যান্ডস। নক-আউট পর্বে যাওয়ার লড়াইয়ে তাদের প্রতিপক্ষ জাপান, সুইডেন এবং তিউনিসিয়া।
এক নজরে নেদারল্যান্ডসের গ্রুপ পর্বের সময়সূচি:
১৪ জুন: নেদারল্যান্ডস বনাম জাপান
২০ জুন: নেদারল্যান্ডস বনাম সুইডেন
২৫ জুন: তিউনিসিয়া বনাম নেদারল্যান্ডস
টানা তিনবার মেলানোর পর ক্লেমেন্টের এই ‘ডাচ ডিক্লারেশন’ কতটা সত্যি হয়, তা দেখার জন্য এখন অধীর অপেক্ষায় ফুটবল বিশ্ব!
এএন