স্পোর্টস ডেস্ক
জুলাই ১৩, ২০২৬, ০৬:০১ পিএম
জাপানের নাগরিকত্ব ধরে রেখে উন্নত ফুটবল পরিবেশে ক্যারিয়ার গড়ার সুযোগ ছিল সামনে। কিন্তু সেই পথ ছেড়ে বাবার জন্মভূমি বাংলাদেশের হয়ে খেলার স্বপ্নকেই বেছে নিয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত তরুণ ফুটবলার শুকি ইতোফুসা। প্রয়োজন হলে জাপানের পাসপোর্টও ত্যাগ করতে প্রস্তুত তিনি। সবকিছু ঠিক থাকলে চলতি বছরই বাংলাদেশের লাল-সবুজ জার্সিতে মাঠে দেখা যেতে পারে ২২ বছর বয়সী এই ফুটবলারকে।
জানা গেছে, বাংলাদেশের নাগরিকত্ব অর্জনের প্রক্রিয়া শুরু করতে ইতোমধ্যে জাপানে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন ইতোফুসা। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত এবং আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার কাজও এগিয়ে চলছে।
তবে বাংলাদেশের হয়ে খেলার পথ সহজ নয়। কারণ বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, জাতীয় দলের প্রতিনিধিত্ব করতে হলে নাগরিকত্ব-সংক্রান্ত কিছু গুরুত্বপূর্ণ শর্ত পূরণ করতে হবে। ইতোফুসার ক্ষেত্রেও সবচেয়ে বড় বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে জাপানের নাগরিকত্ব ত্যাগের সম্ভাবনা। উন্নত জীবনব্যবস্থা ও শক্তিশালী ফুটবল কাঠামোর দেশ জাপানের পাসপোর্ট ছেড়ে বাবার দেশের প্রতিনিধিত্ব করার সিদ্ধান্তকে অনেকেই বড় ধরনের আত্মত্যাগ হিসেবে দেখছেন।
এদিকে, বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফেও) এই ফুটবলারকে জাতীয় দলের আওতায় আনতে আগ্রহী বলে আলোচনা রয়েছে। যদিও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি, তবে দ্রুত নাগরিকত্বের বিষয়টি সম্পন্ন হলে তাঁকে নিয়ে ইতিবাচকভাবে ভাবা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিদেশে বেড়ে ওঠা বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ফুটবলারদের জাতীয় দলে অন্তর্ভুক্তির প্রবণতা সাম্প্রতিক সময়ে বেড়েছে। হামজা চৌধুরী বাংলাদেশের হয়ে খেলার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর একে একে শমিত শোম, ফাহামেদুল, জায়ান আহমেদসহ আরও কয়েকজন ফুটবলার জাতীয় দলের দরজায় কড়া নাড়েন। বয়সভিত্তিক দলেও সুযোগ পেয়েছেন রোনান ও ডেক্লান সুলিভানের মতো প্রতিভাবান খেলোয়াড়। এবার সেই তালিকায় যোগ হতে পারেন জাপানে বেড়ে ওঠা শুকি ইতোফুসা।
বর্তমানে ২২ বছর বয়সী ইতোফুসা ক্যারিয়ারের শুরুতে জাপানের পঞ্চম স্তরের ক্লাব নাগাসাকিতে খেলেছেন। এরপর চলতি বছরের জুলাইয়ে তিনি যোগ দিয়েছেন লাওসের শীর্ষ লিগের ক্লাব সাভানাখেত জেলোসে, যেখানে নতুন অধ্যায় শুরু করেছেন তিনি।
৫ ফুট ১০ ইঞ্চি উচ্চতার এই ফুটবলার মূলত লেফট উইঙ্গার হিসেবে খেললেও মিডফিল্ডের বিভিন্ন ভূমিকায়ও সমান দক্ষ। দুই পায়েই স্বচ্ছন্দে খেলতে পারায় দলের প্রয়োজন অনুযায়ী একাধিক পজিশনে দায়িত্ব পালন করতে পারেন তিনি।
ইতোফুসার মা জাপানের নাগরিক হলেও তাঁর বাবা বাংলাদেশি। বাবার দেশের হয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবলে প্রতিনিধিত্ব করার ইচ্ছাই তাঁকে এই কঠিন সিদ্ধান্তের দিকে নিয়ে গেছে। এখন সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে ভবিষ্যতে বাংলাদেশের জাতীয় দলের জার্সিতে তাঁকে দেখা যাবে কি না, সেটিই দেখার অপেক্ষা।
এএন