Amar Sangbad
ঢাকা বুধবার, ১৭ এপ্রিল, ২০২৪,

ভোটে যেতে বিএনপিতে চাপ

আবদুর রহিম

মার্চ ৩১, ২০২৩, ০৩:৫৮ এএম


ভোটে যেতে বিএনপিতে চাপ
  • ভোটের আগেই খালেদা জিয়া মুক্তি পাচ্ছেন বলে গুঞ্জন
  •  দ্বাদশ ভোটের আগে মাঠে নামবেন কোকোর স্ত্রী শর্মীলা
  •  সরকারের সাথে আসন সমঝোতা চাচ্ছে বিএনপির একাংশ
  •  এবার ভুল সিদ্ধান্ত হলে তৃণমূল ভাঙার আশঙ্কা দলে
  •  মূলত ভোটার খরার আশঙ্কায় ইভিএম বাদ —বলছে তৃণমূল

 

নির্বাচনের আর মাত্র ৯ মাস বাকি। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া বিএনপি নির্বাচনে অংশ নেবে না বললেও পর্দার আড়ালে চলছে অন্য কিছু। খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের কৌশলে ফিরোজায় বিএনপির রাজনীতির আগামী দিনের নির্বাচনি গতিপথ নির্ধারিত হচ্ছে। এবারও একাদশ সংসদ নির্বাচনের মতো কৌশল গ্রহণ করছে দলটি। খালেদা জিয়াকে কারাগারে রেখে নির্বাচনে যাবে না এমন কথা বললেও দিন শেষে খালেদা জিয়াকে কারাগারে রেখেই নির্বাচনে গিয়ে ভরাডুবি হয়। ভাগ্যে জুটে মাত্র ছয়টি আসন। এরপর বিজয়ী ছয়জনকে সংসদে না পাঠানোর ঘোষণা দিলেও সে কথা রাখতে পারেনি দলটি। আগামীতেও বিএনপিতে অতীতের মতো ভিন্ন কিছু ঘটছে না। ভোটে অংশগ্রহণ করতে বিএনপিতে বহির্বিশ্বের চাপ রয়েছে। সরকারের সাথে আলোচনায় বসে সমঝোতার কথাও বলছেন তারা। আন্দোলন করে সংঘাত তৈরি না করতে বিদেশিরা কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছে বিএনপিকে। 

শান্তিপূর্ণভাবে ভোটের পলিসিতে থাকতে বলা হয়েছে। তাই নির্বাচন আগেও বিএনপির আর মাঠে নামার সম্ভাবনা নেই। টিকে থাকতে শান্ত নীতিতেই থাকবে দলটি। ইঙ্গিত হিসেবে খালেদা জিয়ার মুক্তি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। প্রকাশ্যে ভোটের মাঠে নামতে পারেন কোকোর স্ত্রী শর্মীলা র?হমান, যাতে দলের নেতাকর্মীরা উজ্জীবিত থাকেন। বিএনপির নির্ভরযোগ্য সূত্র এমন তথ্য নিশ্চিত করেছে। তবে দলের হাইকমান্ডের এমন মনোভাবকে স্থায়ী কমিটির একাংশও ভালো চোখে দেখছে না। তারা বলছেন, বিএনপি যদি এবারও কারো প্রেসক্রিপশনে ভুল সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে তাহলে তৃণমূলে ভাঙন তৈরি হবে। বিদেশিদের আহ্বানে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে আবারও শেখ হাসিনাকে বৈধতা দেয়া ছাড়া আর কিছুই মনে করছে না তারা। বিএনপির নীতিনির্ধারণী সূত্রগুলো বলছে, আরেকটি নাটকীয় নির্বাচনের জন্য সরকার সব ধরনের আয়োজন সম্পন্ন করেছে। একাদশ

সংসদ নির্বাচন ড. কামাল হোসেনের ঐক্যের মাধ্যমে সংলাপ ও ভোটপূর্ব নীতিকর্ম শেষ করে। এবার হাবিবুল আউয়াল কমিশনের মাধ্যমে ষড়যন্ত্র করছে। কয়েকটি স্থানীয় নির্বাচনে ইভিএমে ভোটার উপস্থিতি কম হওয়ায় গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হওয়ায় সরকার ইভিএম পলিসি থেকে সরে আসে। ব্যালটে ভোট হলে অতীতের মতো গভীর রাতে সিল মেরে বাক্স ভর্তি করার সুযোগ থাকবে। সরকার তার নিজস্ব পলিসিতে আগাম ভোটেরও সব ধরনের আয়োজন প্রায় শেষ করেছে। এখন ইসির মাধ্যমে সংলাপ সংলাপ একটি নাটক করছে। দলটির কেউ কেউ শঙ্কা করছেন হয়তো বিএনপি সংলাপেও যেতে পারে। গত ২৩ মার্চ বিএনপিকে অনানুষ্ঠানিকভাবে আলোচনার জন্য চিঠি দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। তবে বিএনপি বলছে, ইসির প্রস্তাবিত আলোচনা অংশ নেবে না তারা। দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানিয়েছেন, আগে নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার পরে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বিএনপির সংলাপ হতে পারে। এদিকে কেয়ারটেকার সরকারে ফেরত যেতে পারবে না বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেছেন, ‘ইউরোপীয় ইউনিয়ন লাঞ্চের দাওয়াত দিয়েছিল। সেখানে বলেছি, সংবিধান অনুযায়ী আমরা কেয়ারটেকার সরকারে ফেরত যেতে পারব না।’

তবে নির্বাচন কমিশন বলছে, বিএনপির অংশগ্রহণ ছাড়া জাতীয় নির্বাচন তেমন গ্রহণযোগ্য হবে না। তাই ইসি বিএনপিকে নির্বাচনে আনতে আবারও সংলাপের উদ্যোগ নিয়েছে। সরাসরি না হলেও বিএনপি ভার্চুয়ালি সংলাপে অংশ নিতে পারবে বলেও ইসির চিঠিতে জানানো হয়। বিএনপিকে পাঠানো অনানুষ্ঠানিক চিঠির জবাবের জন্য নির্বাচন কমিশন একটা সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করবে বলে জানিয়েছেন ইসি মো. আলমগীর। তিনি বলেন, সিইসি বলেছেন, ‘লিখিত দিয়েছি’। এখন লিখিত উত্তরের আশা করছি। আমরা একটা সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করব। এদিকে প্রভাবশালী দেশগুলোর কূটনীতিকরা আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টি ও নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেছে। নির্বাচনের আগ পর্যন্ত তারা দফায় দফায় বৈঠক করবে। তারা চাচ্ছে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে বড় বড় রাজনৈতিক দলের মধ্যে সমঝোতা সৃষ্টি করতে। এ পরিস্থিতিতে বিএনপিকে নির্বাচন কমিশনের আস্থায় আনতে বিভিন্ন মহল থেকে বলা হচ্ছে। তাই আন্দোলনের পাশাপাশি নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে রাখছে বিএনপি। সারা দেশে ৩০০ আসনের বিপরীতে প্রার্থী ঠিক করে রাখছে। প্রাথমিক মনোনয়ন চূড়ান্ত করতে গোপনে অনেক কাজই এগিয়ে রেখেছে।

বিএনপির নির্ভরযোগ্য সূত্রের দাবি, নির্বাচনের আগে খালেদা জিয়া মুক্তি পেতে পারেন সরকার থেকে এমন একটি ইঙ্গিত দেয়া হয়েছে। আইনি জটিলতার কারণে হয়তো তিনি প্রকাশ্যে মাঠে নামতে পারবেন না। কিন্তু ভোটের মাঠ চাঙ্গা রাখার জন্য জিয়া পরিবারের একজনকে প্রয়োজন হবে। দলের গ্রহণযোগ্যতার তালিকায় রয়েছেন বড় ছেলে তারেক রহমান ও  স্ত্রী ড. জোবাইদা রহমান। কিন্তু দুজনেই সাজাপ্রাপ্ত আসামি। বিএনপি কখনো নেতৃত্বে আসার আগ পর্যন্ত এসব রাজনৈতিক মামলা থেকে মুক্তির কোনো সম্ভাবনা নেই। বিকল্প হিসেবে খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী শর্মীলা রহমান সিঁথিকে দেখা যেতে পারে নির্বাচনি প্রচারণার মাঠে। খালেদা জিয়া দলে এমনই ইঙ্গিত দিয়েছেন। গত ২১ মার্চ মঙ্গলবার মধ্যরাতে লন্ডন থেকে ঢাকায় ফেরেন সিঁথি। বর্তমানে তিনি গুলশানে খালেদা জিয়ার বাসভবন ফিরোজাতেই অবস্থান করছেন। 

সেখানে দলের হাইকমান্ডসহ শর্মীলার সাথে রাজনৈতিক অনেকেই বৈঠক করছেন। সংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে জানতে চাইলে বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার আমার সংবাদকে বলেন, ‘এ সরকারের অধীনে নির্বাচনে গিয়ে লাভ কী? সরকার জোর করেই সব নিয়ে নেবে। বিএনপি তো বলেছে এবার তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যতীত এ সরকারের অধীনে আর নির্বাচনে যাবে না। আমাদের দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান অবশ্যই এ বিষয়ে দলে আরো নির্দেশনা দেবেন।’ দলের আরেক স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান আমার সংবাদকে বলেন, ‘আমরা তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া নির্বাচনে যাবো না। এ সরকারের সঙ্গে কোনো সংলাপেও বসব না। সংলাপ করে অতীতে কোনো ফলাফল আসেনি। এ দেশের মানুষের সমর্থন নিয়েই বারবার নেতৃত্ব দিয়েছি। ভোটে অংশগ্রহণ করেছি। একটি রাজনৈতিক দলের ভোটের প্রস্তুতি থাকবে এটিই স্বাভাবিক। তবে দলে এখনো পর্যন্ত এ সরকারের অধীনে নির্বাচন নয় বলেই সিদ্ধান্ত রয়েছে।’

 

Link copied!