community-bank-bangladesh
Amar Sangbad
ঢাকা সোমবার, ১৭ জুন, ২০২৪,

রিইন্টিগ্রেশনে ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের রেইজ প্রকল্প

সচ্ছলতায় ফিরবেন প্রত্যাগত অভিবাসীরা

মো. ইমরান খান

মো. ইমরান খান

মে ২২, ২০২৪, ১১:৩৮ পিএম


সচ্ছলতায় ফিরবেন প্রত্যাগত অভিবাসীরা
  • টার্গেট দুই লাখ ইতোমধ্যে দেড় লাখ কর্মী প্রকল্পের আওতায়
  • অভিজ্ঞতা সনদ প্রদান করা হবে ২৩ হাজার ৫০০ কর্মীকে
  • অর্থনৈতিক সহায়তাসহ প্রদান করা হবে আইনি পরামর্শ
  • বিদেশফেরতরা থাকবেন এ প্রকল্পের আওতায়  

প্রবাসীদের দুঃখ-দুর্দশার কথা চিন্তা করেই এমন উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

—সৌরেন্দ্র সাহা, প্রকল্প পরিচালক

বর্তমানে দেশের অর্থনীতির প্রাণশক্তিই হলো প্রবাসীরা। দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে, নিজের সচ্ছলতা এবং পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতে প্রিয়জন রেখে প্রবাসে পাড়ি জমান তারা। দেশের বৈদেশিক মুদ্রাভাণ্ডার সমৃদ্ধ করতে অর্থাৎ রেমিট্যান্স আহরণে নিরলস প্রচেষ্টা চালান প্রবাসীরা, এ কারণে তাদের বলা হয় রেমিট্যান্সযোদ্ধা। বুকভরা আশা নিয়ে বিদেশে পাড়ি জমালেও বিভিন্ন কারণে প্রত্যাগত হতে হয় তাদের। সম্প্রতি গত হওয়া বৈশ্বিক মহামারি কোভিড-১৯-এর কারণে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে কাজ হারিয়ে প্রায় পাঁচ লাখ প্রবাসী দেশে ফিরে এসেছেন। 

এছাড়াও প্রতারণা, অসুস্থতা কিংবা বিভিন্ন সময়ে নানা কারণে বিদেশ থেকে অসংখ্য কর্মী দেশে ফেরত আসছেন। প্রত্যাবর্তনকারী এসব কর্মীর অধিকাংশই দেশে কর্মহীন অবস্থায় আছেন। দেশে তাদের আর্থিক কষ্টসহ বিভিন্ন ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে এবং অনেকেই করছেন মানবেতর জীবনযাপন। এসব প্রবাসফেরত কর্মীর দুর্দশা লাঘব এবং আর্থিক সচ্ছলতা ফেরাতে রিইন্টিগ্রেশনের (পুনঃএকত্রীকরণ) লক্ষ্যে রিকভারি অ্যান্ড অ্যাডভান্সম্যান্ট অব ইনফরমাল সেক্টর এমপ্লয়মেন্ট (রেইজ) প্রকল্প হাতে নিয়েছে সরকার। বিশ্ব ব্যাংকের ঋণে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড। এ প্রকল্পের মাধ্যমে বিদেশফেরত কর্মীদের পুনঃএকত্রীকরণে সহায়তা করতে চায় সরকার। 

প্রত্যাগত অভিবাসী কর্মীদের সমাজে পুনঃপ্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে টেকসই রিইন্টিগ্রেশন মডেল প্রণয়ন করেছে সরকার। প্রকল্পটির বেশকিছু উদ্দেশ্যও রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে— বিদেশফেরত কর্মীদের মনোসামাজিক ও অর্থনৈতিক কাউন্সেলিং প্রদান, প্রত্যাগত অভিবাসী কর্মীদের আত্মকর্মসংস্থানের লক্ষ্যে সহযোগিতা করা এবং প্রত্যাগত অভিবাসী কর্মীদের তথ্যসমৃদ্ধ ডাটাবেজ তৈরি করা। বিদেশফেরত কর্মীদের স্বাবলম্বী করার লক্ষ্যে ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড রিকভারি অ্যান্ড অ্যাডভান্সম্যান্ট অব ইনফরমাল সেক্টর এমপ্লয়মেন্ট (রেইজ) প্রকল্পের আওতায় বেশকিছু যুগান্তকারী কার্যক্রম হাতে নিয়েছে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে— প্রত্যাগতদের দুর্দশা লাঘবে অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরামর্শ এবং সহায়তা অর্থাৎ যে যেমন কর্ম করতে ইচ্ছুক, তাকে সে কর্মের জন্য পরামর্শ ও যথাযথ প্রশিক্ষণ প্রদান, তাদের সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে আর্থিক ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দান, দেশে আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সহযোগিতা করা, দক্ষতা ধরে রাখতে একটি উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করা এবং প্রবাসে যে যেমন কর্ম করে প্রত্যাগত হয়েছেন, তাকে সে অনুযায়ী রিকগনিশন অব প্রিয়ার লার্নিংয়ের (আরপিএল) মাধ্যমে প্রয়োজনীয় দক্ষতা সনদ প্রদান করা। প্রয়োজনীয় সব ধরনের কাগজপত্র যাচাই-বাছাই শেষে জনপ্রতি ১৩ হাজার ৫০০ টাকা করে নগদ আর্থিক প্রণোদনাও প্রদান করবে সরকার। খুব ভালো দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা থাকা সত্ত্বেও যেসব প্রবাসী দেশের বাইরে উপযুক্ত কর্মসংস্থান খুঁজে পান না, বিদেশে তাদের অর্জিত দক্ষতার আলোকে কর্মসংস্থান তৈরিতেও সাহায্য করবে প্রকল্পটি। 

খবর নিয়ে জানা গেছে, প্রত্যাগত অভিবাসী কর্মীদের মধ্য থেকে দুই লাখ কর্মীকে সহায়তা প্রদান করা হবে প্রকল্পটির মাধ্যমে। তাদের রিইন্টিগ্রেশন করার লক্ষ্যে দেশের বিভিন্ন এনজিওর মাধ্যমে মানসিক-সামাজিক এবং অর্থনৈতিক কাউন্সেলিংয়ের ব্যবস্থা করা হবে। এছাড়া যেসব কর্মী প্রবাসে থাকা অবস্থায় বিভিন্ন কাজে দক্ষতা অর্জন করেছেন, কিন্তু সে বিষয়ে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা ও সনদ নেই— এ ধরনের ২৩ হাজার ৫০০ কর্মীকে অভিজ্ঞতা সনদ প্রদান করা হবে, যা তাদের দেশ-বিদেশে চাকরি প্রাপ্তিতে সহায়তা করবে। 

বিশ্ব ব্যাংকের ঋণ সহায়তায় বাস্তবায়িত হচ্ছে প্রকল্পটি। ঋণ সহায়তা হিসেবে চার কোটি ২৫ লাখ টাকা দেবে বিশ্ব ব্যাংক এবং দুই কোটি ৩০ লাখ ৩৫ হাজার টাকা বাংলাদেশ সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে দেয়া হবে। অভিবাসীদের নিয়ে ইতোপূর্বে কখনোই এ ধরনের প্রকল্প ছিল না। কোভিড-১৯ শুরু হলে এমন ব্যতিক্রমী উদ্যোগ গ্রহণ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দেশের প্রতিষ্ঠিত সংস্থাগুলো ব্র্যাক, ওয়ামি, প্রত্যাশাসহ আরও কিছু এনজিও স্বতঃস্ফূর্তভাবে সহায়তা করছে এ কাজে।

এছাড়াও সরকারি ও বেসরকারি সেবাপ্রদানকারী সংস্থা এবং অভিবাসন সংস্থাগুলোর মধ্যে একটি কার্যকর রেফারেল সিস্টেম প্রতিষ্ঠা করার উদ্যোগ নিয়েছে ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড। এর মাধ্যমে প্রত্যাগতদের আত্মকর্মসংস্থান, উদ্যোক্তা উন্নয়ন, কারিগরি প্রশিক্ষণ, অর্থনৈতিক সহায়তাসহ আইনি সেবা প্রদান করা হবে। ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন ফর মাইগ্রেশনের (আইওএম) মাধ্যমে রাজশাহী, সিলেট ও খুলনায় ইতোমধ্যেই কাজ করা শুরু করেছে সংস্থাটি।

রিকভারি অ্যান্ড অ্যাডভান্সম্যান্ট অব ইনফরমাল সেক্টর এমপ্লয়মেন্ট (রেইজ) প্রকল্প পরিচালক সৌরেন্দ্র সাহা আমার সংবাদকে বলেন, অতীতে প্রত্যাগতদের নিয়ে সরকারি কোনো উদ্যোগ ছিল না। প্রধানমন্ত্রী প্রবাসীদের দুঃখ-দুর্দশার কথা চিন্তা করে এমন উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। নির্ধারিত কোটা পূর্ণ করার লক্ষ্যে সরকার ২০১৫ সাল থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত প্রকল্পের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। ইতোমধ্যে সারা দেশে প্রায় দেড় লাখ প্রত্যাগত কর্মী এ প্রকল্পের আওতায় এসেছেন।
 

Link copied!