ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Amar Sangbad

ইনস্টাগ্রাম

Amar Sangbad

এক্স

Amar Sangbad


লিংকডইন

Amar Sangbad

পিন্টারেস্ট

Amar Sangbad

গুগল নিউজ

Amar Sangbad


হোয়াটস অ্যাপ

Amar Sangbad

টেলিগ্রাম

Amar Sangbad

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Amar Sangbad


ফিড

Amar Sangbad

ঢাকা মঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০২৬
ঢাবি ভর্তি পরীক্ষা

ভুরি ভুরি জিপিএ-৫ তবুও মিলছে না পাস

মো. নাঈমুল হক

জুন ৯, ২০২৩, ১১:২৬ পিএম

ভুরি ভুরি জিপিএ-৫ তবুও মিলছে না পাস
  • জিপিএ-৫ এক লাখ ৭৬ হাজারেরও বেশি, পাস ২৬ হাজার ৮০৪ জন

এতে শিক্ষাব্যবস্থার কিছু ঘাটতি পরিলক্ষিত হয় 
—অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক, সাবেক ভিসি, ঢাবি 

শিক্ষার্থীদের ফেল করানোর জন্যই পরীক্ষা নেয়া হয় 
—ড. মীজানুর রহমান, সাবেক ভিসি, জবি 

মুখস্থনির্ভর ভর্তি পরীক্ষা, এতে যোগ্যরাও বাদ পড়ে 
—ড. তারিক আহসান, অধ্যাপক, ঢাবি

প্রতি বছর এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলের পর লাখো পরিবারে মিষ্টি খাওয়ার ধুম পড়ে যায়। পরিবার ও অভিভাবকরা সন্তানের পড়াশোনা নিয়ে আত্মতৃপ্তিতে ভোগেন। অন্যদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ভর্তি পরীক্ষায় ভিন্ন চিত্র ফুটে ওঠে। এতে পরীক্ষার্থীদের যেন পাসের খরা চলে। প্রতিবারের ন্যায় এবারও ঢাবির ২০২২-২৩ সেশনের ভর্তি পরীক্ষায় পাস করেছেন ২৬ হাজার ৮০৪ শিক্ষার্থী। এটা মোট পরীক্ষার্থীর ১০ দশমিক ৪০ শতাংশ। তবে ২০২২ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছেন এক লাখ ৭৬ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী। এ ব্যাপারে শিক্ষাবিদদের মধ্যে রয়েছে মিশ্র মতামত। কেউ বলছেন শিক্ষাব্যবস্থার সমস্যার কথা। কারো কাছে পুরো ভর্তি পরীক্ষা সিস্টেমই সমস্যা। 

তবে কেউ কেউ এই ফেল করাকে সমস্যা হিসেবে দেখতে চান না। জানা যায়, সাধারণত এইচএসসির পর শিক্ষার্থীরা কমপক্ষে তিন মাস কঠিন ভর্তিযুদ্ধের প্রস্তুতিতে নামেন। ভর্তি পরীক্ষার অধিকাংশ প্রশ্ন হয় মূল বই থেকে। ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষে ঢাবি বিজ্ঞান ইউনিটের স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেন এক লাখ ১৭ হাজার ৭৬৩ শিক্ষার্থী। এর মধ্যে উত্তীর্ণ হন ১১ হাজার ১০৯ জন।  মোট পরীক্ষার্থীর পাসের হার ৯ দশমিক ৪৩ শতাংশ। বাণিজ্য ইউনিটের মোট পরীক্ষার্থী ৩৮ হাজার ২২৫ জন। পাস করেছেন মাত্র চার হাজার ৫২৬ শিক্ষার্থী, যা মোট শিক্ষার্থীর ১১ দশমিক ৮৪ শতাংশ। মানবিক ইউনিটের এক লাখ ২২ হাজার ৮৩৪ শিক্ষার্থীর বিপরীতে পাস করেছেন মাত্র ১১ হাজার ১৬৯ জন, যা মোট শিক্ষার্থীর ৯.৬৯ শতাংশ। 

অন্যদিকে এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় মোট পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ১১ লাখের বেশি। এর মধ্যে পাস করেছেন ৮৫ দশমিক ৯৫ শতাংশ শিক্ষার্থী। তাদের মধ্যে ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন দুই লাখ ৭৮ হাজার ৮২২ জন। পাস করেছেন ২৬ হাজার ৮০৪ জন, যা মোট পরীক্ষার ১০ দশমিক ৪০ শতাংশ। 

অধিক ফেলে শিক্ষাব্যবস্থার ঘাটতির কথা জানিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেন, এত জিপিএ-৫ পাওয়ার পরও ভর্তি পরীক্ষায় এত কম শিক্ষার্থী পাস করছে, এটা স্বাভাবিক ব্যাপার নয়। সুযোগ সবাই পাবে না— এটা স্বাভাবিক। কিন্তু পাস তো করবে। এতে আমাদের শিক্ষার কিছু ঘাটতি পরিলক্ষিত হয়। এ ক্ষেত্রে  প্রতিষ্ঠানগুলোর আরও ভালোভাবে শিক্ষার্থীদের গড়ে তোলা প্রয়োজন। আমাদের শিক্ষার্থীদের মাঝে ঘাটতিগুলো দূরীকরণে আরও যত্নবান হতে হবে। 

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) সাবেক উপাচার্য ড. মীজানুর রহমান আমার সংবাদকে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা নেয়াই হয় শিক্ষার্থীদের ফেল করানোর জন্য। শিক্ষকরা প্রশ্নটাই এমনভাবে করেন যাতে খুব কমসংখ্যক পাস করে। এখানে আসনসংখ্যা সীমিত। তাই শিক্ষার্থীদের ফেল করার সঙ্গে জিপিএ-৫-এর তুলনা চলে না। 

ভর্তি পরীক্ষাকে মুখস্থনির্ভর একটি প্রক্রিয়া উল্লেখ করে ঢাবির শিক্ষা ও গবেষণা বিভাগের অধ্যাপক ড. তারিক আহসান আমার সংবাদকে বলেন, আমাদের ভর্তিপরীক্ষায় যোগ্যরাও বাদ পড়ছে। এ ভর্তি পরীক্ষাও মুখস্থনির্ভর প্রক্রিয়া। আমাদের ভর্তি পরীক্ষা এপ্টিটিউড বা ক্রাইটেরিয়া বেইজড টেস্ট নয়। পৃথিবীর কোথাও উচ্চশিক্ষার জন্য এ পদ্ধতির ভর্তি পরীক্ষা হয় না। কাজেই এর ওপর ভিত্তি করে শিক্ষার্থীর পারদর্শিতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা ঠিক হবে না। এখানে বাদপড়া শিক্ষার্থীরা বাইরের দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি হতে পারছে। তাদের অনেকেই বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়। কীভাবে হয়?  মুখস্থনির্ভর পরীক্ষা দিয়ে নিশ্চয়ই নয়।
 

Link copied!