ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Amar Sangbad

ইনস্টাগ্রাম

Amar Sangbad

এক্স

Amar Sangbad


লিংকডইন

Amar Sangbad

পিন্টারেস্ট

Amar Sangbad

গুগল নিউজ

Amar Sangbad


হোয়াটস অ্যাপ

Amar Sangbad

টেলিগ্রাম

Amar Sangbad

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Amar Sangbad


ফিড

Amar Sangbad

ঢাকা শুক্রবার, ০৫ জুন, ২০২৬

ফরিদপুরে চালকের ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার হয় সরকারি অ্যাম্বুলেন্স, ভোগান্তিতে রোগীরা

ফরিদপুর প্রতিনিধি:

ফরিদপুর প্রতিনিধি:

এপ্রিল ৪, ২০২৪, ১১:৪১ এএম

ফরিদপুরে চালকের ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার হয় সরকারি অ্যাম্বুলেন্স,  ভোগান্তিতে রোগীরা

ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সরকারি অ্যাম্বুলেন্স চালকের ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। তবে ওই চালককে কর্তৃপক্ষ মৌখিক ভাবে সতর্ক করলেও কোনো কিছুকেই পরোয়া করেন না তিনি। 

এই অ্যাম্বুলেন্স চালকের নাম মাসুদ আহমেদ লিটন, তিনি ফরিদপুর জেলা সদরের ঝিলটুলি এলাকায় পরিবার নিয়ে বসবাস করেন।

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, বোয়ালমারীতে যোগদানের পরেই তাকে কমপ্লেক্সের মধ্যে সরকারি বাসভবন বুঝে দেওয়া হয়েছে। তবুও তিনি প্রতিদিন বিকাল বা সন্ধ্যায় অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে ৪০ কিলোমিটার দূরে জেলা সদরে পরিবারের সাথে রাত্রিযাপন করেন। কর্মস্থলে না থেকে সকালে খেয়াল-খুশি মতো ফিরেন তিনি। যে কারণে সরকারি এই জরুরি সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সেবা প্রত্যাশী রোগীরা। আর এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে প্রাইভেট অ্যাম্বুলেন্স মালিকগণ গলাকাটা ভাড়া আদায় করছে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সরকারি ভাবে অ্যাম্বুলেন্সের ভাড়া প্রতি কিলোমিটারে ১০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বেশি টাকা নেওয়া আইনত অপরাধ হলেও ব্যক্তি বিশেষ কোনো কোনো রোগীর স্বজনদের থেকে দ্বিগুণ ভাড়া আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অ্যাম্বুলেন্স চালক মাসুদ আহমেদ লিটন রাজবাড়ী জেলার পাংশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে ২০২৩ সালের মে মাসে বোয়ালমারী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যোগদান করেন।

রোগী ও স্বজনদের অভিযোগ, যোগদানের পর থেকেই তিনি নানা অনিয়মে জড়িয়ে পড়েন। যার মধ্যে রোগীর স্বজনদের সাথে দুর্ব্যবহার, খেয়াল খুশি মতো দায়িত্ব পালন, নির্ধারিত ভাড়া থেকে মাত্রাতিরিক্ত অর্থ আদায়, গমন-প্রত্যাগমন রেজিস্ট্রার খাতা লিপিবদ্ধ না করা, সেবা গ্রাহকদের ভাড়ার রিসিট না দিয়ে অর্থ আত্মসাৎ, নিজের ব্যক্তগত কাজে অ্যাম্বুলেন্স ব্যবহার, কর্মস্থলে বায়োমেট্রিক হাতের ছাপ রেজিস্ট্রেশন না করা, কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অমান্য করে বায়োমেট্রিক হাতের ছাপ দিতে অনীহা প্রকাশসহ নানা অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এ বিষয়ে ভুক্তভোগী পৌর সদরের বাসিন্দা, হোটেল ব্যবসায়ী মো. আলী রেজা জানান, বোয়ালমারী থেকে আমার পরিবারের এক মুমূর্ষু রোগী নিয়ে হাসপাতালের সরকারি অ্যাম্বুলেন্সে ফরিদপুরে যাই, চালক মাসুদ আহমেদ আমাদের কাছে বেশি টাকা দাবি করে, পরে তাকে একহাজার দুই শত টাকা দিয়ে মিটাই, কিন্তু সে আমাদের কোনো রিসিট দেননি। পরে জানতে পারি ভাড়া মাত্র ৮০০টাকা।

তেলজুড়ি গ্রামের মুন্নী বেগম জানান- বুধবার সকালে আমার শিশু সন্তানকে ফরিদপুর রেফার করে ডাক্তার, কিন্তু সরকারি অ্যাম্বুলেন্স ড্রাইভারকে ফোন করলে তিনি জানান আমি ফরিদপুরে, এই মাত্র ঘুম থেকে উঠলাম, আসতে দেড় দুই ঘণ্টা লাগবে। আরো অ্যাম্বুলেন্স আছে তার একটা নিয়ে নেন।

এ ব্যাপারে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে ওষুধ ব্যবসায়ী সৈয়দ ওমর আলী জানান, তিনি প্রতিদিনই বিকেলে বা সন্ধ্যার দিয়ে সরকারি গাড়ি নিয়ে ফরিদপুর চলে যায়, ফোন করেও তাকে পাওয়া যায় না, মুমূর্ষু রোগীরা বাধ্য হয়ে বেশি টাকা দিয়ে গাড়ি ভাড়া করে। আবার আসছি বলে অনেক সময় রোগীদের বসিয়ে রাখে,যাতে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয় রোগী ও স্বজনদের এমন দৃশ্য প্রতিদিনই দেখি।

এ বিষয়ে অ্যাম্বুলেন্স চালক মাসুদ আহমেদ লিটন বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনীত সকল অভিযোগ উদ্দেশ্য প্রণোদিত, মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। বাড়তি ভাড়া আদায়ের অভিযোগ সত্য নয়। রাতে ফরিদপুর ভাড়া নিয়ে গেলে কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে কখনও কখনও বাড়িতে থেকে যাই।

এ বিষয়ে বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নাহিদ আল রাকিব বলেন, চালক মাসুদকে ইতঃপূর্বে কয়েকটি বিষয়ে মৌখিকভাবে সতর্ক করা হয়েছে। তিনি সেটা আমলে নেয়নি। সম্প্রতি আরও কিছু বিষয়ে অবগত হয়ে সার্বিক বিষয়ে তাকে দশ কর্মদিবসের মাঝে কারণ দর্শানো নোটিশ দেওয়া হয়েছে। সন্তোষ জনক জবাব না পেলে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

বিআরইউ

Link copied!