পাটগ্রাম (লালমনিরহাট) প্রতিনিধি
জুলাই ৪, ২০২৫, ০৫:৩৬ পিএম
লালমনিরহাটের পাটগ্রামে থানায় হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় বিএনপিকে জড়িয়ে বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রচার এবং সৃষ্টি হওয়া পরিস্থিতির বিষয়ে শুক্রবার দুপুরে পাটগ্রাম উপজেলা ও পৌর বিএনপি এক সংবাদ সম্মেলন করে।
পাটগ্রাম পূর্ব বাজারের বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পড়ে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার হাসান রাজীব প্রধান।
তিনি দাবি করেন, থানায় হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনার সঙ্গে উপজেলা ও পৌর বিএনপির কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। এটি নিছক ইজারাদার ও প্রশাসনের মধ্যেকার বিষয়। তবু কিছু গণমাধ্যম বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রচার করেছে। দল কখনোই নাম ভাঙিয়ে ব্যক্তির অপকর্মের দায় গ্রহণ করবে না।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, এই ঘটনায় জেলা বিএনপি তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।
এছাড়া, জাতীয় নাগরিক পার্টির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ থেকে দেওয়া পোস্টকে ‘অনভিপ্রেত, উদ্দেশ্যমূলক ও দুঃখজনক’ বলে উল্লেখ করেন ব্যারিস্টার হাসান রাজীব প্রধান।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এ কে এম মমিনুল হক, সাংগঠনিক সম্পাদক সাজেদুল ইসলাম পাটোয়ারী সাজু, জেলা যুবদলের আহ্বায়ক আনিছুর রহমান আনিছ, পাটগ্রাম উপজেলা বিএনপির সভাপতি শপিকার রহমান, সাধারণ সম্পাদক ওয়ালিউর রহমান সোহেল, পৌর বিএনপির সভাপতি মোস্তফা সালাউজ্জামান ওপেল ও সাধারণ সম্পাদক হাফিজুল ইসলাম প্রধান প্রমুখ।
অপরদিকে, পাটগ্রামে থানায় হামলা ও ভাঙচুর চালিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতে দণ্ডিত দুই আসামিকে ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করেছে।
বৃহস্পতিবার রাতে পাটগ্রাম থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) হামিদুর রহমান প্রধান বাদী হয়ে ২৭ জনের নাম উল্লেখসহ অগণিত অজ্ঞাত আসামির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। মামলায় রয়েছে সরকারি কাজে বাধা, হত্যার উদ্দেশ্যে সরকারি কর্মচারীকে মারধর, সরকারি সম্পদের ক্ষতি ও চুরি এবং ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগ।
র্যাবের সহযোগিতায় পুলিশ বৃহস্পতিবার রাতের অভিযানে তিন অজ্ঞাতনামা আসামি এবং ২৭ জনের মধ্যে একজনকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন বাউরা ইউনিয়নের নবীনগর এলাকার হাবিবুর রহমান, রহমানপুর মেছিরপার এলাকার মহিদুল ইসলাম মানিক, সোহাগপুর পৌর এলাকার আবুল কালাম ও একই এলাকার আব্দুর রশিদ।
গ্রেপ্তারকৃতদের শুক্রবার দুপুরে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও পাটগ্রাম থানার ওসি মিজানুর রহমানের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ইএইচ