নুরুজ্জামান শেখ, শরীয়তপুর
সেপ্টেম্বর ৪, ২০২৫, ০৪:০৯ পিএম
“আসুন, গাছ লাগাই, দেশ বাঁচাই।” পরিবেশ ও প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষার্থে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির বিকল্প নেই। বনজ, ফলজ ও ওষুধি বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে ফলের চাহিদা পূরণ, চিকিৎসা সেবা, ঘরের আসবাবপত্র তৈরি এবং অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা সম্ভব।
পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, পশু-পাখির অভয়ারণ্য গঠন এবং সবুজ বাংলাদেশ বিনির্মাণের লক্ষ্যে শরীয়তপুরে “বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি-২০২৫” উদ্বোধন করা হয়েছে। পরবর্তী ধাপে জেলা ব্যাপী তিন লাখ গাছের চারা রোপণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সকালে জেলা পরিষদের উদ্যোগে সদর উপজেলার দেওভোগ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনের সড়কে এ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক তাহসিনা বেগম।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন সহকারী পুলিশ সুপার মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া, এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী রাফেউল ইসলাম, বাংলাদেশ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোস্তফা কামাল, জেলা বন কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান, পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক রাসেল নোমান, জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা সিদ্দিকুর রহমান, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইলোরা ইয়াসমিনসহ বিভিন্ন দপ্তরের প্রধানরা।
জেলা প্রশাসক তাহসিনা বেগম বলেন, “পরিবেশ সংরক্ষণ ও সবুজায়নের জন্য এ কর্মসূচি একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। সারা শরীয়তপুর জেলায় আগামী তিন বছরের মধ্যে আমরা তিন লাখ গাছ রোপণ করব। এর মধ্যে চলতি বছরেই এক লাখ গাছ রোপণের পরিকল্পনা রয়েছে, যার শুভ উদ্বোধন আজ অনুষ্ঠিত হলো।”
জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম বলেন, “গাছ আমরা যেভাবে কেটে থাকি, সেভাবেই নতুন গাছ রোপণ করা জরুরি। তবে একটি কথা মনে রাখবেন—যেমন আমরা সন্তানদের যত্ন সহকারে লালন-পালন করি, তেমনিভাবে গাছের চারা রোপণ করে যত্ন সহকারে বড় করে তুলতে হবে। সন্তান হয়তো কখনো আমাদের পাশে থাকবে না, কিন্তু গাছ আপনার দুঃসময়ে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে পাশে থাকবে। গাছ কখনো পরিবেশ, প্রকৃতি ও মানুষের সঙ্গে বেইমানি করে না। সরকারের পাশাপাশি স্থানীয় বিভিন্ন সংগঠনও এ কার্যক্রমে অংশ নেবে বলে আমরা আশাবাদী। জেলা প্রশাসন সবসময় এই কাজে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করবে।”
ইএইচ