গুরুদাসপুর (নাটোর) প্রতিনিধি
সেপ্টেম্বর ৯, ২০২৫, ০৪:৫১ পিএম
নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার বিয়াঘাট ইউনিয়নের বিল হরিবারি (হরদমা) গ্রামের ছয় মাস বয়সী শিশু সিনহার জীবন বাঁচাতে মানবিক ভূমিকা রেখেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাহমিদা আফরোজ এবং স্বাস্থ্য সচিব মো. সাইদুর রহমান।
প্রায় তিন মাস আগে শিশুটির চিকিৎসার জন্য বাবা মো. রুবেল ও মা রাজিয়া বেগম ইউএনও ফাহমিদা আফরোজের শরণাপন্ন হলে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে সঠিক দিকনির্দেশনা দেন এবং বিষয়টি গুরুদাসপুরের কৃতি সন্তান ও স্বাস্থ্য সচিব মো. সাইদুর রহমানকে অবহিত করেন।
সচিব শিশুটিকে ঢাকা নিউরো সাইন্স ইনস্টিটিউটে নেওয়ার পরামর্শ দেন এবং সার্জারির যাবতীয় দায়িত্ব গ্রহণের আশ্বাস দেন।
পরে ইউএনওর সহযোগিতায় শিশুটি ঢাকায় পৌঁছালে সেখানে দু’টি সফল অপারেশন সম্পন্ন হয়। বর্তমানে শিশুটি সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে।
মঙ্গলবার সকাল ১১টার দিকে ইউএনও ফাহমিদা আফরোজ শিশুটিকে দেখতে তার বাড়িতে যান। এসময় তিনি শিশুর জন্য নতুন পোশাক, ফুল, শিশুখাদ্য ও স্বাস্থ্য সামগ্রী উপহার দেন।
সঙ্গে ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) আসাদুল ইসলাম, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. আলমাস আলী, মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার সেলিম আক্তার, প্রকৌশলী মিলন মিয়া ও পিআইও আমিনুর রশীদ। এসময় শিশুর পরিবারকে স্বাস্থ্য সচেতনামূলক পরামর্শ দেওয়া হয়।
শিশুর মা রাজিয়া বেগম আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন,“আমাদের কোনো খরচ হয়নি। ঢাকা যাতায়াতসহ সব খরচ ইউএনও দিয়েছেন। দু’টি অপারেশন হলেও এক টাকাও দিতে হয়নি। সচিব মহোদয় সব ব্যবস্থা করেছেন। এটা সম্ভব হয়েছে মানবিক ইউএনওর কারণে। আমরা আজীবন ইউএনও ম্যাডাম ও সচিব সাহেবের কাছে কৃতজ্ঞ থাকব।”
ইউএনও ফাহমিদা আফরোজ বলেন,“শিশুটিকে আমার কাছে আনার পর আমি সচিব মহোদয়ের সাথে যোগাযোগ করি। তিনি আন্তরিকভাবে এগিয়ে আসেন এবং সার্জারির সব দায়িত্ব নেন। আজ সিনহা সুস্থ আছে— এজন্য আমি কৃতজ্ঞ স্বাস্থ্য সচিব সাইদুর রহমান ও নিউরো সাইন্স ইনস্টিটিউটের চিকিৎসকদের প্রতি।”
অন্যদিকে স্বাস্থ্য সচিব মো. সাইদুর রহমান বলেন,“নিজ এলাকার একটি শিশুর চিকিৎসায় সহযোগিতা করতে পেরে আমি আনন্দিত। ইউএনও ফাহমিদা আফরোজ অত্যন্ত আন্তরিকভাবে বিষয়টি আমাকে জানিয়েছিলেন। মানবিক এই উদ্যোগের ফলে শিশুটি সুস্থ হয়ে ঘরে ফিরতে পেরেছে।”
ইএইচ