ইলিয়াছ সুমন, সন্দ্বীপ
সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৫, ০৫:৩৪ পিএম
চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ উপজেলার হরিশপুর ইউনিয়নের নাজির সাঁকো এলাকায় ক্ষুদ্র জেলে সম্প্রদায়ের আয়োজনে এবং এসডিআই ও কোস্ট ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় পরিচালিত "ক্লাইমেট চেইঞ্জ অ্যান্ড রেজিলিয়েন্স (CCR)" প্রকল্পের সহায়তায় এক মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রোববার বিকাল ৪টায় অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচিতে স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিক এবং সাধারণ জনগণসহ দুই শতাধিক মানুষ অংশগ্রহণ করেন।
মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন প্রান্তিক জেলে দলের সভাপতি রমনীমোহন জলদাস এবং সঞ্চালনা করেন কমিউনিটি মোবিলাইজার, CCR প্রকল্প – বাদল রায় স্বাধীন।
প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন— সন্দ্বীপ পৌরসভা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক জাকের হোসেন বিপুল, জাসাস নেতা মাস্টার আকবর হোসেন, সন্দ্বীপ প্রেস ক্লাবের সহ-সভাপতি ইলিয়াস কামাল বাবু, জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা, সন্দ্বীপ শাখার সভাপতি ইলিয়াছ সুমন, এসডিআই সমন্বয়কারী সমৃদ্ধি প্রকল্প সিরাজুদ্দৌলা, মনিটরিং ও ডকুমেন্টেশন কর্মকর্তা, স্মার্ট প্রকল্প – এনায়েত উল্ল্যাহ, প্রান্তিক জেলে দল নেতা দুলাল সেরাং, পরিমল সেরাং, বাদল জলদাস, সদস্য প্রান্তিক জেলে দল কৃষ্ণ জলদাস, নারী প্রতিনিধি শচীরানী, জুলেখা বেগম, সিএসও লিডার শাহাদাৎ হোসেন, কমিউনিটি প্রতিনিধি ফাহিমা বেগম।
বক্তারা বলেন, “অভিযান শুরুর পর মাছ ধরা বন্ধ হয়ে গেলে পরিবার চালাতে হিমশিম খেতে হয়, কিন্তু সরকারি চাল অনেক দেরিতে পৌঁছায়। তাই অভিযান শুরুর আগেই সরকারের পক্ষ থেকে চাল বিতরণ নিশ্চিত করতে হবে।”
তাদের আরও দাবি, সন্দ্বীপে মাত্র ৭ হাজার জেলে নিবন্ধিত থাকলেও প্রকৃত জেলের সংখ্যা প্রায় ১৬–১৮ হাজার। যারা নিবন্ধিত নয়, তারা কোনো সহায়তা পাচ্ছেন না। এজন্য ত্রুটিমুক্ত তালিকা তৈরি ও বাদ পড়া জেলেদের দ্রুত নিবন্ধনের দাবি তোলা হয়। বক্তারা অভিযোগ করেন, “একই ব্যক্তি একাধিক কার্ড পেলেও প্রকৃত দরিদ্র জেলেরা কার্ড পান না। কার্ড বিতরণে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে এবং গুদাম ভাড়া বা পরিবহন খরচের নামে অর্থ নেওয়া বন্ধ করতে হবে।”
মানববন্ধনে উল্লেখ করা হয়, অভিযানের আগে চাল বিতরণ, অনিবন্ধিত জেলেদের দ্রুত নিবন্ধন, ত্রুটিমুক্ত ও হালনাগাদ তালিকা প্রণয়ন, প্রকৃত জেলেদের হাতে কার্ড হস্তান্তর, প্রতি পরিবারে ৮–১০ হাজার টাকা নগদ ভাতা, জেলেদের জন্য বিকল্প কর্মসংস্থান, স্বল্পসুদে ঋণ ও অনুদান চালু, এবং “এক জেলে = এক কার্ড; ভাগাভাগি নয়” নীতি বাস্তবায়ন করা জরুরি।
শেষে নেতারা বলেন, “অভিযান শুরুর আগেই চাল দিতে হবে এবং বাদ পড়া জেলেদের দ্রুত নিবন্ধন করে সবার হাতে কার্ড পৌঁছাতে হবে।”
ইএইচ