নাসিরনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি
সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৫, ০৮:৩২ পিএম
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে পূর্ব বিরোধের জেরে দুই পক্ষের সংঘর্ষে আমীর আলী (৩০) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন।
পরে প্রতিপক্ষের বাড়িতে হামলা ও লুটপাটের ঘটনাও ঘটেছে।
বুধবার বিকেল পাঁচটার দিকে উপজেলার দাতমন্ডল গ্রামে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
নিহত আমীর আলী ওই গ্রামের মো. রফিজ আলীর ছেলে এবং ঢাকার একটি ব্যাগ কারখানার শ্রমিক ছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় এক সপ্তাহ আগে ঢাকার কেরানিগঞ্জে সুজন মিয়ার ব্যাগ কারখানায় একই গ্রামের লাফিলুদ্দির ছেলে সাকিল এক কর্মচারীকে মারধর করেন। এ নিয়ে সুজন ও সাকিলের মধ্যে বাকবিতণ্ডা ও হাতাহাতি হয়। পরে তারা নিজেদের গ্রামে ফিরে যান।
বিষয়টি মীমাংসার জন্য বুধবার বিকেলে দাতমন্ডল গ্রামে গ্রাম্য সালিস বসে। সালিস চলাকালেই দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয় এবং একপর্যায়ে ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। এ সময় অসুস্থ হয়ে পড়া আমীর আলীকে নাসিরনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়, যেখানে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এরপর প্রতিপক্ষ জালাল উদ্দিনের বাড়িতে হামলা চালিয়ে লুটপাট করা হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, এই সময়ে জালালের বাড়ি থেকে ১৩টি গরু নিয়ে যাওয়া হয় এবং আরও কয়েকটি বাড়িতে ভাঙচুর চালানো হয়।
নিহতের স্ত্রী রুফেসা বেগম অভিযোগ করেন, “চার-পাঁচজন মিলে আমার স্বামীকে ঘরে ঢুকে গলায় টিপে হত্যা করেছে।”
ঘটনার বিষয়ে বক্তব্য জানতে সাকিল ও তাঁর বাবা লাফিলুদ্দির সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের মোবাইল ফোনে সংযোগ পাওয়া যায়নি।
নাসিরনগর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. তানভীর আহমেদ বলেন, “দুই পক্ষের সংঘর্ষে একজন নিহত হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। মৃত্যুর সঠিক কারণ জানতে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ঘটনার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেছে। বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।”
ইএইচ