ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Amar Sangbad

ইনস্টাগ্রাম

Amar Sangbad

এক্স

Amar Sangbad


লিংকডইন

Amar Sangbad

পিন্টারেস্ট

Amar Sangbad

গুগল নিউজ

Amar Sangbad


হোয়াটস অ্যাপ

Amar Sangbad

টেলিগ্রাম

Amar Sangbad

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Amar Sangbad


ফিড

Amar Sangbad

ঢাকা মঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০২৬

গবাদি পশুর খাদ্য সংকটে চরম বিপাকে খামারিরা

রাজশাহী ব্যুরো

রাজশাহী ব্যুরো

অক্টোবর ৪, ২০২৫, ১২:৫৭ পিএম

গবাদি পশুর খাদ্য সংকটে চরম বিপাকে খামারিরা

রাজশাহী সহ আশেপাশের জেলায় গবাদি পশুর খাদ্য সংকটে চরম বিপাকে পড়েছেন খামারিরা। 

রাজশাহী শহরের পার্শ্ববর্তী পদ্মার চর এলাকায় চারণভূমি পানিতে ডুবে যাওয়ায় গবাদি পশুর খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে। সংকট মোকাবিলায় বিকল্প হিসেবে এলাকার শত শত মানুষ তাদের গৃহপালিত গরু, মহিষকে কচুরিপানা খাওয়াচ্ছেন। এছাড়াও বাণিজ্যিকভাবে পরিচালিত গবাদি পশু’র খাবারের দাম বেড়ে যাওয়ায় ভোগান্তিতে পড়েছে এই অঞ্চলের খামারিরা। জেলা প্রাণী সম্পদের তথ্যনুযায়ী রাজশাহীতে প্রায় ১৫ শো গবাদি পশু’র খামার রয়েছে।

শুধুমাত্র রাজশাহীতে না, এর বাইরের জেলাগুলোতেও খামারিদের একই অবস্থা। বর্ষা চলাকালীন সময়ে গবাদি পশুর খাবার জোগান দেওয়া অনেক কষ্টসাধ্য হচ্ছে তাদের জন্য। নাটোর জেলার চলনবিলের চাটমোহর অন্তর্গত বিলগুলোতে বর্ষার পানি প্রবেশ করায় গবাদি পশুর চারণভূমি ডুবে যাওয়ায় খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে।

খড়, খইল, ভুসিসহ অন্যান্য খাবারের মূল্য বৃদ্ধির ফলে গরু মহিষ ছাগল ভেড়া নিয়ে বিপাকে পড়েছেন খামারি ও পশু মালিকরা। গরু মহিষের খাদ্য চাহিদা মেটাতে সম্পূরক খাবার হিসেবে অনেক পশু মালিক কচুরিপানার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছেন।

চাটমোহর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার অফিস সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ১০ বছর আগের জরিপ অনুযায়ী, চাটমোহরে ৩২৮টি গাভির খামার, ২৩২টি মোটা তাজাকরণ খামার, ছাগল ভেড়ার ৭০টি খামার রয়েছে। এসব খামারে ২৭ হাজার ৯২৮টি গাভি, ৩০ হাজার ৪৫টি ষাঁড়, ২৯ হাজার বকনা গরু রয়েছে।

এছাড়া ২ হাজার ৬৪৯টি মহিষ রয়েছে। অনিবন্ধিত খামারেও গবাদি পশু পালিত হচ্ছে। বিপুলসংখ্যক প্রাণীর খাদ্য চাহিদা মেটাতে হিমশিম খাচ্ছেন এ এলাকার পশু মালিকরা।
জানা গেছে, উপজেলার নিমাইচড়া, হান্ডিয়াল ও বিলচলন ইউনিয়নের আংশিক এলাকার বিলগুলোতে বন্যায় আগাম পানি প্রবেশ করে। আষাঢ় থেকে আশ্বিন মাস পর্যন্ত প্রায় চার মাস মাঠে পানি থাকায় গরু-মহিষকে মাঠে নিয়ে খাওয়ানো সম্ভব হয় না।

এ সময় পুরোপুরি খড়, খইল, ভুসি সহ অন্যান্য দানাদার খাবারের ওপর নির্ভর করতে হয় পশু মালিকদের। বৈশাখ, জ্যৈষ্ঠ মাসে কৃষক বোরো ধানের কিছু খড় পেলেও তা চাহিদার তুলনায় যথেষ্ট নয়। ভাটি এলাকায় খড়ের দাম আরও বেশি হওয়ায় সেসব এলাকার খড় ব্যবসায়ীরা চাটমোহর সহ উজান এলাকা থেকে চড়া দামে বোরো ধানের খড় কিনে নিয়ে যান।

গ্রামের সানা উল্লাহ জানান, ভূসির দাম বেশি। গরুর দুধের টাকায় খাদ্য হয় না। ৪৭ টাকা লিটার দুধ। এক আঁটি খড়ের দাম ৭ টাকা। এক-একটি গরুকে তিন থেকে চার আঁটি খড় দিই আর কচুরিপানা খাওয়াই। নিজেরও বাঁচতে হবে গরু গুলোও বাঁচাতে হবে। 

চাটমোহর উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডা. স্বপন কুমার সরকার জানান, কচুরিপানা গবাদি পশুর আদর্শ খাবার নয়। কচুরিপানায় পানির পরিমাণ বেশি থাকে। গবাদি পশুর খাদ্য সংকটের কারণে অনেকে কচুরি পানা খাওয়ান। দীর্ঘমেয়াদে অধিক পরিমাণ কচুরিপানা খাওয়ানো গবাদি পশুর জন্য ক্ষতিকর।

মাত্রাতিরিক্ত কচুরিপানা খাওয়ালে গবাদি পশুর পাতলা পায়খানা বা বদ হজম হতে পারে। আমরা গবাদি পশুর মালিকদের সাইলেস পদ্ধতিতে খাবার সংরক্ষণের জন্য উদ্বুদ্ধ করছি। এ পদ্ধতিতে খাবার সংরক্ষণ করলে আপৎকালীন সময়ে গবাদি পশুর মালিকরা লাভবান হবেন।

রাজশাহী জেলা প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আতোয়ার রহমান বলেন, ‘রাজশাহীতে টানা বর্ষণ এবং পদ্মা নদীর পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে পানি উঠে যাওয়া গবাদি পশু নিয়ে বিপাকে পড়েছেন খামারিরা। তাই তারা কচুরিপানা সহ অন্যান্য যে প্রাকৃতিক লতাপাতা সেগুলো খাওয়াচ্ছেন। তবে কচুরিপানা বেশি খাওয়ালে পশুর সমস্যা হবে। তাই আমরা পরামর্শ দিচ্ছি রৌদে শুকিয়ে অন্যান্য খাবারের সাথে মিশিয়ে খাওয়াতে হবে।”

জেএইচআর

Link copied!