ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Amar Sangbad

ইনস্টাগ্রাম

Amar Sangbad

এক্স

Amar Sangbad


লিংকডইন

Amar Sangbad

পিন্টারেস্ট

Amar Sangbad

গুগল নিউজ

Amar Sangbad


হোয়াটস অ্যাপ

Amar Sangbad

টেলিগ্রাম

Amar Sangbad

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Amar Sangbad


ফিড

Amar Sangbad

ঢাকা শুক্রবার, ০৫ জুন, ২০২৬
সমন্বিত পরিকল্পনায় সমাধানের তাগিদ

গুরুদাসপুরে অপরিকল্পিত পুকুর খননে জলাবদ্ধতা

আব্দুস সালাম, গুরুদাসপুর (নাটোর)

আব্দুস সালাম, গুরুদাসপুর (নাটোর)

অক্টোবর ১০, ২০২৫, ০৪:০৩ পিএম

গুরুদাসপুরে অপরিকল্পিত পুকুর খননে জলাবদ্ধতা

নাটোরের গুরুদাসপুরে অপরিকল্পিতভাবে পুকুর খনন ও সংস্কারের কারণে সৃষ্টি হয়েছে ব্যাপক জলাবদ্ধতা। এতে একদিকে যেমন কৃষিজমিতে চাষাবাদে প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়েছে। 

অন্যদিকে গ্রামীণ সড়ক ও বসতবাড়িগুলো পানিতে ডুবে জনদুর্ভোগ চরমে উঠেছে। বিশেষ করে উপজেলার চাপিলা ইউনিয়নে এই সমস্যা এখন সবচেয়ে প্রকট আকার ধারণ করেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, পরিকল্পনা ছাড়া পুকুর খনন করায় পানি নিষ্কাশনের কোনো ব্যবস্থা না থাকায় বর্ষার পানি জমে থেকে যাচ্ছে। এতে শুধু কৃষক নয়, পুকুর চাষীরাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন—মাছ পরিবহনেও তৈরি হয়েছে নানা সমস্যা।

বিজ্ঞজনদের মতে, যদি এখনো পরিকল্পিতভাবে পুকুরগুলোর মধ্যে পানি নিষ্কাশনের পথ এবং অন্তত ৮ ফুট প্রশস্ত রাস্তা রাখা যায়, তবে একদিকে মাছ পরিবহন সহজ হবে, অন্যদিকে জলাবদ্ধতা থেকেও মুক্তি মিলবে। এতে পুকুর চাষীরা অর্থনৈতিকভাবে আরও লাভবান হবেন এবং তাজা মাছ দেশের বিভিন্ন বিভাগীয় শহরে সহজে পাঠানো সম্ভব হবে।

চাপিলা ইউনিয়নের পাশাপাশি বিয়াঘাট, নাজিরপুর, মশিন্দা ও ধারাবারিষা ইউনিয়নেও একই চিত্র দেখা যাচ্ছে। তবে পুকুরের সংখ্যার দিক থেকে চাপিলা এগিয়ে। উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গুরুদাসপুর উপজেলায় প্রায় আট হাজার পুকুর রয়েছে।

চাপিলা ইউপি চেয়ারম্যান মাহবুবুর রহমান বলেন, “অতীত দিনে অপরিকল্পিত পুকুর খননে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে। সঠিক পরিকল্পনা না করলে ভবিষ্যতে কৃষক, পুকুর চাষী ও বসতিদের ব্যাপক সমস্যা দেখা দেবে। প্রশাসনের কাছে জোর দাবি সঠিক পরিকল্পনা করে স্থায়ী সমাধান নেওয়ার।”

উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা রতন চন্দ্র সাহা বলেন, “চাষিরা যদি একত্রিত হন, তাহলে পরিকল্পনার মাধ্যমে পানি নিষ্কাশন ও পুকুরের মাঝখান দিয়ে রাস্তা নির্মাণ করে জলাবদ্ধতা দূর করা সম্ভব।”

উপজেলা বিএডিসি সহকারী প্রকৌশলী সাইদুর রহমান বলেন, “কৃষি, মৎস্য, ভূমি ও বিএডিসি অফিস একত্রিত হয়ে ইউএনও’র নেতৃত্বে কাজ করলে সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব হবে। তবে চাষীদের একত্রিত হওয়াটাই সবচেয়ে জরুরি। চাপিলায় তুলসিগঙ্গা নদীটি সরকারের নিয়ন্ত্রণে এনে দখলমুক্ত করে খনন করলে জলাবদ্ধতা নিষ্কাশনে খুবই সহজ হবে।”

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কে. এম. রাফিউল ইসলাম বলেন, “কৃষক ও চাষীদের কল্যাণে সবাই একসঙ্গে কাজ করলে জলাবদ্ধতা সমস্যা সমাধান করা সম্ভব। এলাকায় সুধীজনসহ সকলকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে।”

উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফাহমিদা আফরোজ বলেন, “প্রশাসন সবসময় জনকল্যাণে কাজ করে। বিষয়টি নিয়ে জেলা প্রশাসকের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। আমরা সমন্বিত পরিকল্পনার মাধ্যমে কৃষক, মাছচাষী ও এলাকাবাসীর কল্যাণে উদ্যোগ নেব। জলাবদ্ধতা নিরসন করে একটি ‘স্মার্ট গুরুদাসপুর’ গড়ে তুলতে উপজেলা প্রশাসন সবাইকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করবে।”

স্থানীয়দের দাবি, অবিলম্বে সরকারি পরিকল্পনার আওতায় পুকুর খনন ও সংস্কার কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে আনা না হলে ভবিষ্যতে গুরুদাসপুরের কৃষি ও মৎস্য অর্থনীতি বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়বে।

ইএইচ

Link copied!