হবিগঞ্জ প্রতিনিধি
নভেম্বর ৫, ২০২৫, ০২:২৫ পিএম
হবিগঞ্জ জেলা সদর আধুনিক হাসপাতালে দীর্ঘদিন ধরে তীব্র ডাক্তার সংকট, পর্যাপ্ত ওষুধের অভাব ও নিন্মমানের চিকিৎসা সেবার কারণে রোগীরা চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন। ২৫ লাখের বেশি জনসংখ্যার এ জেলায় উপজেলা পর্যায়ের স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে সেবার মান কার্যত অপ্রতুল। ফলে রোগীদের অধিকাংশই সেবা নিতে ছুটে আসেন জেলা সদর হাসপাতালে।
খবর নিয়ে জানা গেছে, ২৫০ শয্যার এ হাসপাতালে ন্যূনতম ৫৭ জন চিকিৎসক থাকার কথা থাকলেও বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন মাত্র ২২ জন। এর মধ্যেও একাধিক চিকিৎসক নিয়মিত কর্মস্থলে না এসে প্রাইভেট হাসপাতালে রোগী দেখেন বলে অভিযোগ রয়েছে। প্রতিদিন জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে বহু রোগী হাসপাতালে ভিড় করেন। সকাল থেকে সারাদিন বসে থাকলেও অনেকে চিকিৎসা পান না।
রোগীদের অভিযোগ, ভাগ্য ভালো হলে ডাক্তার দেখাতে পারলেও চিকিৎসকরা যে পাঁচটি ওষুধ লিখে দেন, সরকারি হাসপাতালে এর মধ্যে একটি পাওয়া যায়; চারটি কিনতে হয় বাইরে থেকে, তাও কয়েকগুণ বেশি দামে। অভিযোগ আছে, অনেক সময় একটি ওষুধও মজুদ থাকে না। যদিও ওষুধ বিতরণ কক্ষে টাঙানো তালিকায় ৬০ প্রকার ওষুধ সরবরাহের কথা উল্লেখ আছে। ফলে ওষুধ সরবরাহ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে সচেতন মহলে।
হাসপাতালের চিকিৎসা নিতে আসা ভুক্তভোগীরা জানান, দরিদ্র মানুষের শেষ ভরসাস্থল সরকারি হাসপাতাল। কিন্তু এখানে না আছে পর্যাপ্ত ডাক্তার, না আছে ওষুধ–সরঞ্জাম। অনেকেই বাধ্য হয়ে দালালদের দৌরাত্ম্য ও প্রাইভেট চিকিৎসার আশ্রয় নিতে বাধ্য হন।
এ ছাড়া নানা ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিরা ডাক্তারদের ঘিরে রাখায় রোগীরা যথাযথ সেবা পেতে আরও বঞ্চিত হচ্ছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
হাসপাতালের শয্যা সংখ্যা ২৫০ থাকলেও প্রতিদিন গড়ে ৬০০–৭০০ রোগী ভর্তি থাকেন, ফলে সিট সংকট নিত্যসঙ্গী। গুরুত্বপূর্ণ রোগীদের প্রাথমিক সেবা দিয়ে অধিকাংশ সময় সিলেটসহ বিভিন্ন হাসপাতালে রেফার করা হয়।
অভিযোগ আছে, হাসপাতালের পরীক্ষাগারগুলোতেও যথাযথ যন্ত্রপাতির ঘাটতি রয়েছে। ফলে অধিকাংশ রোগীকেই প্রাইভেট ল্যাবে পরীক্ষা করাতে বাধ্য হতে হয়। এতে বাড়তি আর্থিক চাপ পড়ে রোগী ও স্বজনদের ওপর।
চিকিৎসা সেবা নিতে এসে নানাভাবে হয়রানি, ব্যয়বহুল পরীক্ষা ও ওষুধ কিনতে গিয়ে নিঃস্ব হয়ে বাড়ি ফিরতে হয়, এমন অভিযোগও বহু রোগী–স্বজনদের।
জেলা স্বাস্থ্যসেবার এ সংকট কাটাতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সাধারণ মানুষ।
জেএইচআর