কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি
নভেম্বর ৬, ২০২৫, ০৫:২৫ পিএম
কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক, গুরুদয়াল সরকারি কলেজের সাবেক ভিপি এবং মৃত্যুঞ্জয়ী ছাত্রনেতা ভিপি ওয়ালী উল্লাহ রাব্বানীর নেতৃত্বে ধানের শীষ প্রতীকের পক্ষে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে কিশোরগঞ্জে। তিনি অবিরাম ছুটে যাচ্ছেন গ্রাম থেকে গ্রামান্তরে।
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কিশোরগঞ্জ-১ (কিশোরগঞ্জ সদর ও হোসেনপুর) আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী এই নেতা যেখানে যাচ্ছেন, সেখানেই গণজোয়ার সৃষ্টি হচ্ছে। মানুষের ভালোবাসায় সিক্ত হচ্ছেন তিনি।
সোমবার (৩ নভেম্বর) বিএনপির প্রয়াত নেতাদের কবর জিয়ারত করেন ভিপি রাব্বানী।
কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা আহ্বায়ক ও সদর আসনের সাবেক সংসদ সদস্য, তৎকালীন স্বাস্থ্য, গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী ডাক্তার আবু আহমেদ ফজলুল করিম এবং দলের প্রতিষ্ঠাকালীন সহকর্মী মো. মাঈন উদ্দিন, মো. আব্দুল লতিফ, মো. আব্দুল মান্নান, মো. আব্দুল মোতালিব, মো. আসমত আলী, মো. আব্দুল করিমের কবর জিয়ারত করেন তিনি।
তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় কবরের পাশে দাঁড়িয়ে পবিত্র কোরআনের অংশবিশেষ পাঠ, দরূদ ও দোয়া করেন। এ সময় দলীয় নেতাকর্মীসহ প্রয়াত নেতাদের পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

কিশোরগঞ্জ সদর ও হোসেনপুর উপজেলায় ধানের শীষের পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছেন ভিপি রাব্বানী। প্রচারণার অংশ হিসেবে গত সোমবার সদর উপজেলার তিনটি ইউনিয়নে গণসংযোগ চালান তিনি।
সদর উপজেলার মারিয়া ইউনিয়নের আমলিতলা, স্বল্প মারিয়া, চর মারিয়া, মিতালী মার্কেট, এসডিও মার্কেট, বিসিক শিল্প নগরী, তালতলা বাজার ও নতুন জেলখানা মোড়; চৌদ্দশত ইউনিয়নের চৌদ্দশত বাজার, নান্দলা বাজার ও পুলেরঘাট বাজার; এবং বিন্নাটি ইউনিয়নের কালটিয়া বাজার ও বিন্নাটি চৌরাস্তা বাজারে গণসংযোগ ও প্রচারণায় অংশ নেন।
একটি প্রাইভেটকার এবং শতাধিক মোটরসাইকেলের বহরে কর্মী-সমর্থক নিয়ে গণসংযোগ চালান রাব্বানী। সকলের হাতে হাতে পৌঁছে দিচ্ছেন ধানের শীষের শুভেচ্ছা ও পরিচিতিমূলক লিফলেট। যেখানেই যাচ্ছেন, সেখানে সৃষ্টি হচ্ছে গণজোয়ার।
স্থানীয় লোকজন তাকে পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়ছেন। সততা ও আদর্শের পরীক্ষিত নেতা হিসেবে রাব্বানীকে অভিহিত করছেন সকলে। তিনটি ইউনিয়নে প্রচারণা শেষে রাত সাড়ে ১১টায় বিশাল বহর নিয়ে কিশোরগঞ্জ শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করেন তিনি।
এ সময় “খালেদা জিয়ার সালাম নিন, ধানের শীষে ভোট দিন,” “তারেক জিয়ার সালাম নিন, ধানের শীষে ভোট দিন,” “রাব্বানী ভাই ভালো লোক, মনোনয়ন তারই হোক,” “রাব্বানী ভাইয়ের সালাম নিন, ধানের শীষে ভোট দিন” ইত্যাদি স্লোগানে মুখরিত হয়।
বুধবার (৫ নভেম্বর) সদর উপজেলার রশিদাবাদ, লতিবাবাদ ও মাইজখাপন ইউনিয়নের বিভিন্ন বাজার ও এলাকায় গণসংযোগ করেন তিনি। রশিদাবাদ বিশ্বরোড (বেইলি ব্রিজ সংলগ্ন) এলাকা থেকে শুরু করে যান লতিবপুর বাজারে। সেখান থেকে স্বাধীন বাজার হয়ে যান করাচি ঘাট। পরে শিমুলিয়া মাদ্রাসা মোড়, উলুহাটি মধ্য বাজার হয়ে যান ঠাডাপড়া বাজার। সেখান থেকে লক্ষ্মীগঞ্জ বাজার, ইউএনডিপি মোড়, ভাটগাঁও মোড়, জাঙ্গালিয়ার মোড়, শ্যামরায়ের বাজার (সালামের বাজার), বড়ভাগ জয়নালের মোড় হয়ে যান সাদুল্লারচর বাজার। এরপর মাইজখাপন ইউনিয়নের সুন্দিরবন বাজার ও পাঁচধা বাজারে যান।
পরে কাটাবাড়িয়া বাজার, বড়পুল মোড়, সগড়া বিশ্বরোড, রশিদাবাদ ইউনিয়ন পরিষদ মোড়, মাটিয়ার মোড়, জামতলা মোড় হয়ে সরকারি গোরস্তান মোড়ে গিয়ে দিনের কর্মসূচি শেষ করেন।

বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার মহিনন্দ ও মাইজখাপন ইউনিয়নের বিভিন্ন বাজার ও এলাকায় গণসংযোগ ও লিফলেট বিতরণ করেন তিনি।
এছাড়া আগামী ৮ নভেম্বর হোসেনপুর পৌরসভা ও বিভিন্ন ইউনিয়ন এবং ১০ নভেম্বর কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার বৌলাই, যশোদল, কর্শাকড়িয়াইল ও দানাপাটুলী ইউনিয়নের বিভিন্ন বাজার ও এলাকায় গণসংযোগ ও লিফলেট বিতরণ কর্মসূচি রয়েছে।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘনিয়ে আসায় কিশোরগঞ্জ-১ (সদর-হোসেনপুর) আসনের নির্বাচনি এলাকায় ভোটারদের মধ্যে জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক, গুরুদয়াল সরকারি কলেজের সাবেক ভিপি ওয়ালী উল্লাহ রাব্বানীর নাম মুখে মুখে প্রচারিত হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তার নিয়ে চলছে নানা আলোচনা। তিনি ছিলেন সাবেক অকুতোভয়, মৃত্যুঞ্জয়ী ছাত্রনেতা।
দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে তার রয়েছে নিবিড় যোগাযোগ। দলীয় দপ্তর থেকেও শুরু করে এখন পর্যন্ত সদর ও হোসেনপুর উপজেলার প্রতিটি গ্রাম ও ইউনিয়নের নেতাকর্মীদের সঙ্গে তিনি যোগাযোগ রক্ষা করছেন। আগে থেকেই তার একটি বিশাল বলয় তৈরি রয়েছে। যার ফলে আগামী নির্বাচনে তাকে শক্তিশালী প্রার্থী হিসেবে দেখছে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
এছাড়াও তিনি অসংখ্য স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসাসহ নানা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে জড়িত। তার কর্মী-সমর্থক এবং সাধারণ ভোটাররা আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তাকে প্রার্থী হিসেবে চান। বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে ওয়ালী উল্লাহ রাব্বানীকে নিয়ে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে।
ইতিমধ্যে তিনি সদর-হোসেনপুরের বিভিন্ন অসহায়, হতদরিদ্র মানুষকে নানাভাবে সাহায্য ও সহযোগিতা করে ব্যাপক সুনাম অর্জন করেছেন। তাই তাকে ঘিরেই স্বপ্ন দেখছে সদর-হোসেনপুরের মানুষ। তার রাজনৈতিক জীবনের মূল উদ্দেশ্য হলো মানুষের পাশে থেকে মানুষের দুঃখ ও কষ্ট লাঘবে কাজ করা এবং মানুষের ভালোবাসা অর্জন করা। সততা, আদর্শ এবং নিরহংকারীতা হলো তার চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য। তিনি সকলের সঙ্গে হাসিমুখে কথা বলতে এবং সুসম্পর্ক বজায় রাখতে পছন্দ করেন। কখনো ক্ষমতার অপব্যবহার করেননি। দুর্নীতির ঊর্ধ্বে থেকে নিজেকে নিয়েছেন সমালোচনার ঊর্ধ্বে।
ভিপি ওয়ালী উল্লাহ রাব্বানী জানিয়েছেন, “একটি সুজলা-সুফলা সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শকে বুকে ধারণ করে, আগামীর রাষ্ট্রনায়ক তারেক রহমানের স্বপ্ন বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছি। মানুষের পাশে থেকে সেবা দিয়ে যাচ্ছি। সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, মাদক ও যানজটমুক্ত কিশোরগঞ্জ গড়তে চাই। আগামী দিনের কিশোরগঞ্জ হবে সকল অপরাধমুক্ত। সকল নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে, পাশাপাশি নাগরিক সেবা বৃদ্ধি করা হবে।
তিনি আরও বলেন, “কিশোরগঞ্জ সদর ও হোসেনপুর উপজেলাকে ঢেলে সাজাতে চাই। আন্তঃশহর সুন্দর যোগাযোগ ব্যবস্থা তৈরি করে সকল নাগরিকের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে চাই। রাজধানীসহ আন্তঃশহরে দ্রুতগামী আরামদায়ক রেল ও সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে। কাঠামোগত সকল উন্নয়নমূলক কাজ বাস্তবায়ন করা হবে। বিগত ১৫ বছর ধরে যারা নেতৃত্ব দিয়েছেন, তারা জনগণের জন্য কিছু করেননি; নিজেদের ভাগ্য উন্নয়ন করেছেন। তাই আমি প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি, নির্বাচনে জনগণের সমর্থন পেলে আমি বিজয়ী হয়ে আগামী প্রজন্মকে একটি সুন্দর, বসবাসযোগ্য ও নিরাপদ কিশোরগঞ্জ উপহার দিতে চাই। শিক্ষা ব্যবস্থা ও স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়নে কাজ করব, শহরকে মেগা শহরে রূপান্তরিত করব, শিল্পাঞ্চল ও অর্থনৈতিক জোন সৃষ্টি করে বেকার সমস্যার সমাধান করব এবং যানজটহীন চলাচল নিশ্চিত করব।”
ইএইচ