ফরিদগঞ্জ (চাঁদপুর) প্রতিনিধি
নভেম্বর ১২, ২০২৫, ০৯:২৩ পিএম
চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে ডাকাতের গুলিতে নিহত রুহুল আমিনের মিছিল ও দাফন সম্পন্ন হয়েছে।
বুধবার বাদ আসর পূর্ব বড়ালি বরকন্দাজ বাড়ি জামে মসজিদের সামনে গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত রুহুল আমিনের নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।
জানাজায় উপস্থিত ছিলেন ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ও সাবেক সংসদ সদস্য লায়ন মোঃ হারুনুর রশিদ। তিনি নিহত রুহুল আমিনের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে দ্রুত সময়ের মধ্যে দুষ্কৃতকারীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।
এ সময় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন উপজেলা জামায়াতের ইসলামের আমির মাওলানা ইউনুছ হেলাল, নিহত রুহুল আমিনের চাচা আলী হোসেন মিজি, ফরিদগঞ্জ থানার এসআই সফিকুল ইসলাম, বরকন্দাজ বাড়ি জামে মসজিদের খতিব মাওলানা আবদুল্লাহ আল মামুন এবং নিহতের ছোট ভাই মাওলানা আসাদুল্লাহ সোহেল।
প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) রাত সাড়ে দশটার সময় উপজেলার রুস্তমপুর সমিতির পোলের গোড়া এলাকার রাড়ি বাড়ির সামনে ডাকাতের গুলিতে ঘটনাস্থলেই নিহত হন দুই সন্তানের জনক রুহুল আমিন (৩৫)।
নিহত রুহুল আমিন সিটি কোম্পনির বেঙ্গল গ্রুপের সেলসম্যান ছিলেন। রাতের দিকে মোটরসাইকেল যোগে বাড়ি ফেরার পথে ডাকাতরা পথরোধ করে। রুহুল আমিন ডাকাতের হাত থেকে বাঁচতে রাড়ি বাড়ির ভেতরে ঢুকে যান। ডাকাতরা তাদের কাছে থাকা মোটরসাইকেল নিয়ে বাড়িতে প্রবেশ করে। বের হওয়ার সময় রুহুল আমিন চিৎকার করতে থাকেন, এবং পাশের দোকানদার বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে ডাকাতরা গুলি বের করার হুমকি দেয়।
প্রত্যক্ষদর্শী রাড়ি বাড়ি জামে মসজিদের ইমাম মো. কাউসার বলেন, “রাত সাড়ে ১০টার দিকে আমি দোকানের সামনে বসে ছিলাম। হঠাৎ দুটি মোটরসাইকেল দ্রুতগতিতে এসে 'ডাকাত ডাকাত' চিৎকার করতে থাকে। পরে তারা রাড়ি বাড়ির ভেতরে ঢোকে এবং কিছুক্ষণ পর দ্রুত বের হয়ে পালিয়ে যায়। আমি বাধা দেওয়ার চেষ্টা করি।”
প্রত্যক্ষদর্শী সোহাগ বলেন, “আমি ব্রিজের নিচে মাছ ধরছিলাম। ডাকাতদের চিৎকার শুনে থমকে যাই। তারা গুলি বের করলে আমি হাতে থাকা টেঁটা দিয়ে আঘাত করি। এক ডাকাত মোটরসাইকেল থেকে পড়ে যায়, অপর ডাকাত দৌড়ে গিয়ে মোটরসাইকেল চালককে গুলি করে। এরপর তারা দ্রুত পালিয়ে যায়।”
ডাকাতের গুলিতে নিহত রুহুল আমিন ফরিদগঞ্জ পৌর এলাকার পূর্ব বড়ালি মিজি বাড়ির হোসেন মিজির ছেলে ছিলেন। তিনি দুই সন্তানের জনক ছিলেন।
নিহতের দাফনের পর চাঁদপুরের পুলিশ সুপার আব্দুর রকিব, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার লুৎফর রহমান এবং হাজীগঞ্জ-ফরিদগঞ্জ সার্কেল মুকুর চাকমা সহ ফরিদগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ শাহ্ আলম সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠান।
ফরিদগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মো. শাহ্ আলম জানান, “রাতেই আমরা বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়েছি। দুষ্কৃতকারীদের চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে। আশা করছি খুব দ্রুত তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।”
চাঁদপুরের পুলিশ সুপার আব্দুর রকিব বলেন, “ঘটনাটি শুনে আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে খোঁজ খবর নিয়েছি। তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে ডাকাতদের চিহ্নিত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে।”
ইএইচ