বিপুল মিয়া, জামালপুর
নভেম্বর ২৬, ২০২৫, ০৪:১৮ পিএম
জামালপুর সদর, দেওয়ানগঞ্জ, বকশীগঞ্জ, মাদারগঞ্জ, মেলান্দহ, ইসলামপুর, সরিষাবাড়ি উপজেলার ৭টি থানা এবং ২টি পুলিশ ফাঁড়ি ও ১১টি পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র নিয়ে গঠিত জামালপুর জেলা।
এ জেলায় জনকল্যাণের মনোভাব নিয়ে কর্মক্ষেত্রে সুষ্ঠুভাবে দায়িত্ব পালন, অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা, বিভিন্ন জটিল মামলা সমাধানে সফলভাবে কাজ করা, আইন-শৃঙ্খলার বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ অবদান, মাদক উদ্ধারসহ সর্বোপরি সব ধরনের অপরাধ নিয়ন্ত্রণে নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করায় প্রতিদানস্বরূপ জামালপুর জেলার শ্রেষ্ঠ সার্কেল নির্বাচিত হয়েছেন সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইয়াহিয়া আল মামুন।
দক্ষতা ও সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আসছেন তিনি। মেধা ও মননের সবটুকু দিয়েই কর্মজীবনকে এগিয়ে নিচ্ছেন। খুব সহজেই মানুষকে আপন করে নিতে পারেন মহৎ গুণের অধিকারী এই পুলিশ কর্মকর্তা। নিজের পরিবারের মতোই কর্মক্ষেত্রেও সহকর্মী এবং অধিনস্তদের প্রতি সহায়কের ভূমিকা পালন করেন।
পাশাপাশি জামালপুর জেলায় শ্রেষ্ঠ ওসি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন জামালপুর সদর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. নাজমুস সাকিব। দৃষ্টিভঙ্গিতে সামনে এগিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন, কাজে দক্ষ, আচরণে মানবিক এবং চরিত্রে দৃঢ়তা ও সততার প্রতিচ্ছবি পুলিশ বিভাগের এমন বহুগুণের অধিকারী হলেন নাজমুস সাকিব। জামালপুর সদর থানায় যোগদানের পর থেকে চোরাকারবারি, মাদকসহ একাধিক অপরাধীর মুখোশ উন্মোচন করেছেন।
বর্তমানে পুলিশ জনবান্ধন পুলিশের চর্চা চালাচ্ছে। সরাসরি ওসি সাকিবের নেতৃত্বে ২২ হাজার মাদক উদ্ধার, চোরাচালান, চুরি-ডাকাতি রোধে তার কার্যকলাপ ছিল চোখে পড়ার মতো। দুস্থদের মধ্যে নিজ হাতে খাদ্য সহায়তা প্রদান করেন। তিনি থানার সেবার মান উন্নত করেছেন। সেবা প্রত্যাশীদের অভিযোগ মনোযোগ সহকারে শুনে তাদের দ্রুত সমাধান দিয়ে থাকেন।
এ ছাড়াও শ্রেষ্ঠ আইসি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন ১নং পুলিশ ফাঁড়ির আইসি মোহাম্মদ কামাল পাশা, শ্রেষ্ঠ মাদক উদ্ধারকারী ও জেলার শ্রেষ্ঠ এসআই হিসেবে সদর থানার এসআই মো. শহীদুল ইসলাম, সর্বোচ্চ মামলা নিষ্পত্তিকারী অফিসার হিসেবে জামালপুর সদর থানার এসআই মো. সিরাজুল হক, সদর থানা এলাকার নান্দিনা থেকে আলোচিত অপহৃত নারীকে ৯ ঘণ্টার মধ্যে উদ্ধার করায় শ্রেষ্ঠ কর্মকাণ্ডের জন্য জামালপুর সদর থানার এসআই মুস্তাফিজুর রহমান, শ্রেষ্ঠ ওয়ারেন্ট তামিলকারী হিসেবে এএসআই ইমরুল রশিদ, সর্বোচ্চ মোবাইল উদ্ধারকারী এএসআই আবুল মুনছুর।
এসব ক্রেস্ট ও সম্মাননা প্রদান করেন জামালপুর পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম, পিপিএম-সেবা। পুলিশ সুপারের কার্যালয় সম্মেলন কক্ষে অক্টোবর মাসের অপরাধ পর্যালোচনা সভায় জেলার খাতভিত্তিক মামলার পরিসংখ্যান, থানাভিত্তিক মামলার পরিসংখ্যান, থানা ও বিভিন্ন সংস্থা কর্তৃক রুজুকৃত মামলা সংক্রান্ত আলোচনা, অপরাধ পরিসংখ্যান পর্যালোচনা, মামলা নিষ্পত্তি, মুলতবী মামলার সংক্রান্ত আলোচনা, অপমৃত্যু মামলার পরিসংখ্যান, অবৈধ অস্ত্র ও মাদক উদ্ধার সংক্রান্ত আলোচনা, মুলতবী গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ও ক্রোকী পরোয়ানা সংক্রান্ত আলোচনা, বিট পুলিশিং সংক্রান্ত আলোচনা এবং জেলার বর্তমান সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও স্পর্শকাতর মামলা সমূহের অগ্রগতিসহ জেলার গোয়েন্দা কার্যক্রম বিষয়ে বিস্তর আলোচনা করা হয়।
এ সময় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. সোহেল মাহমুদ, পিপিএম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম এন্ড অপস্) মোরশেদা খাতুন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (দেওয়ানগঞ্জ সার্কেল) মো. সাইফুল ইসলাম, সহকারী পুলিশ সুপার (ইসলামপুর সার্কেল) মো. ইমরুল হাসান, সহকারী পুলিশ সুপার (মাদারগঞ্জ সার্কেল) মুস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়াসহ সকল থানার অফিসার ইনচার্জবৃন্দ, ওসি ডিবি-১, ওসি ডিবি-২, ডিআইও-১, ডিআইও-২, ইন্সপেক্টর (তদন্ত) সহ জেলার সকল ফাঁড়ি, তদন্তকেন্দ্রের ইনচার্জবৃন্দ, ট্রাফিক এবং কোর্ট ইন্সপেক্টরগণ উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনা সভা শেষে জেলা পুলিশের অক্টোবর মাসের সার্বিক কর্মমূল্যায়ন, বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে সাফল্য অর্জনকারী অফিসার, ফোর্স এবং আউটসোর্সিংদেরকে পুরস্কৃত করা হয়। এদিকে জেলার ইতিহাসে সদর সার্কেল, সদর থানার ওসি, আইসি, এসআই, এএসআইরা একসাথে ৮টি পুরস্কার কর্মদক্ষতার মাধ্যমে অর্জন করায় তাদের অভিনন্দন জানিয়েছেন জেলার বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক ও সচেতন মহলের ব্যক্তিরা।
থানায় সেবা নিতে আসা এস কে সোহেল মন্ডল নামের এক বৃদ্ধ জানান, “ওসির রুমে যেতে আমাদের অনুমতি লাগে না। যে কোনো বিপদে আমরা ওসির কাছে গেলে সেবা পাই।”
জামালপুর মডেল থানার এসআই মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, “ইয়াহিয়া আল মামুন স্যার ও ওসি নাজমুস সাকিব স্যারের মতো একজন অভিভাবক পাওয়া সত্যিই ভাগ্যের ব্যাপার। তাদের মতো দক্ষ, সৎ ও কর্তব্যপরায়ণ পুলিশ অফিসার বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীর জন্য গর্ব। প্রতিটি অপরাধ দমনে স্যারদের মতো পুলিশ অফিসারের সান্নিধ্য পেলে বাংলাদেশ পুলিশ ব্যাপক অগ্রগতি করবে।”
জামালপুর সদর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. নাজমুস সাকিব বুধবার সকাল দশটায় জানান, “শ্রেষ্ঠ ওসি সম্মাননা ক্রেস্টটি থানার প্রতিটি পুলিশ সদস্যের সহযোগিতায় অর্জন। এ অর্জন ও সফলতার অংশীদার সবাই। জামালপুর থানার আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ রেখে সব ধরণের অপরাধ কমিয়ে আনতে সার্বক্ষণিক কাজ করে যাবো।”
এদিকে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) ইয়াহিয়া আল মামুন বুধবার দুপুর ১২টায় জানান, “সদর সার্কেলের এই অর্জনে আমি জামালপুর জেলার পুলিশ সুপার স্যারকে ধন্যবাদ জানাই। সাথে জামালপুর সদর এবং সরিষাবাড়ি থানার সকল অফিসার ও ফোর্সকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা যারা অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন জামালপুরবাসীর জানমাল রক্ষার মহতি দায়িত্ব পালনে। পুরস্কার পাওয়া বড় কথা নয়, বড় কথা হচ্ছে জনগণকে আমি কি ধরনের সেবা দিতে পেরেছি। সদর ও সরিষাবাড়ি সার্কেলের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশকে সহযোগিতার জন্য সবার কাছে আন্তরিক সহায়তা কামনা করেছি।”
ইএইচ