মো. আব্দুস সালাম, গুরুদাসপুর (নাটোর)
নভেম্বর ২৮, ২০২৫, ০৩:৫৮ পিএম
নাটোরের গুরুদাসপুরে যোগদানের মাত্র এক বছরের ব্যবধানে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ফাহমিদা আফরোজ যেন গোবরে পদ্মফুল ফুটানোর মতো পরিবর্তনের এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। উন্নয়ন, স্বচ্ছতা, সেবা, আইন-শৃঙ্খলা ও মানবিকতার সমন্বয়ে তিনি উপজেলার চেহারা পাল্টে দিয়েছেন।
উপজেলার ছয়টি ইউনিয়ন থেকে শুরু করে পৌরসভা সবখানেই তার কাজ আজ দৃশ্যমান, যা এলাকাবাসীর কাছে তাকে প্রশংসার চূড়ায় পৌঁছে দিয়েছে।
দীর্ঘদিন অকেজো ও পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকা চারতলা পৌর ভবনটি অল্প সময়ের মধ্যে মেরামত করে আধুনিকভাবে সাজিয়ে সচল করেছেন ইউএনও ফাহমিদা আফরোজ।
পৌর এলাকার চাঁচকৈড় বাজারের মেইন রোড দখলমুক্ত করে যানজটমুক্ত পরিবেশ গড়ে তুলেছেন। নাজিরপুর, কাছিকাটা ও অন্যান্য হাট-বাজারেও ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে।
পৌর স্টাফরা জানান, “দীর্ঘ দিনের বকেয়া বেতন ছিল। তিনি এসে অনেকটা বকেয়া কমিয়ে এনেছেন। এখন রানিং বেতন-বোনাস নিয়মিত মিলছে। বকেয়া বেতনও মাঝে মাঝে দিচ্ছেন। অতিরিক্ত লোকবল অন্যত্র পাঠিয়ে পৌরসভাকে পুনরুদ্ধার করেছেন।”
মেইন গেট, উপজেলা চত্বর, এসিল্যান্ড পার্ক, সরকারি পুকুর ও ফুলের বাগান সবখানেই তার ছোঁয়া লেগেছে সৌন্দর্যবর্ধনের। উপজেলা এরিয়ায় দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত নিচু জায়গা, যেখানে জলাবদ্ধতা দেখা দিত, সেখানে বালু ফেলে লেবেল করে সৌন্দর্য বৃদ্ধি করেছেন। বিশেষ করে চন্দ্রপুরের শতবছরের সরকারি পুকুর সংস্কারের মাধ্যমে বসতিদের স্বস্তি ফিরিয়ে দিয়েছেন। ছয়টি ইউনিয়নে রাস্তাঘাট, স্কুল-কলেজ, মাদ্রাসা, মসজিদ, মন্দির, হাট-বাজারে চলছে উন্নয়ন ও পরিচ্ছন্নতার বিশেষ অভিযান।
মশিন্দা বাহাদুর পাড়ার বাসিন্দারা জানান, “স্বাধীনতার ৫৪ বছরেও আমাদের রাস্তা পাকা হয়নি। ইউএনও ম্যাডাম কাঁদা-মাটির রাস্তায় পায়ে হেঁটে অসুবিধা দেখে নিজেই রাস্তা পাকাকরণের ব্যবস্থা করেন। আগে কেউ এমন উদ্যোগ নেননি।”
মাদকবিরোধী অভিযান, বাল্যবিয়ে প্রতিরোধ এবং অবৈধভাবে পুকুর কাটার বিরুদ্ধে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করছেন তিনি। মাত্র ১১ মাসে ১০৫টি ভ্রাম্যমাণ আদালত অনুষ্ঠিত হয়েছে, যেখানে অভিযুক্তদের জেল ও জরিমানা করা হয়েছে।
চলনবিল, আত্রাই, নন্দকুজা, গোমানী ও বেসানী নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ রক্ষা, দূষণ কমানো ও পরিবেশবান্ধব কার্যক্রমে তার ভূমিকা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। অবৈধ কারেন্টজাল ও সোতিজালের বিরুদ্ধে অভিযানও চলমান রেখেছেন। ৪০ বছর পর ঐতিহাসিক চলনবিল নৌকা বাইচ সফলভাবে আয়োজন করাও ছিল একটি বড় চ্যালেঞ্জ, যা তিনি দক্ষতার সঙ্গে সম্পন্ন করেছেন।
দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও উন্নয়ন প্রকল্প পুনরায় সচল করেছেন। উপজেলার স্মৃতিসৌধের দীর্ঘদিন আটকে থাকা নির্মাণকাজও এখন চলমান।
বীর মুক্তিযোদ্ধারা বলেন, “অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় উন্নয়ন এখন সবচেয়ে বেশি। তিনি সব বিষয়ে নজর রাখেন এবং অক্লান্ত পরিশ্রম করেন।”
অসুস্থ রোগীর চিকিৎসা সহায়তা, স্বামী পরিত্যক্তা নারীর পাশে দাঁড়ানো থেকে শুরু করে গরিব মেধাবী শিক্ষার্থীর পড়ালেখার ব্যবস্থা প্রতিটি ক্ষেত্রেই রয়েছে তার মানবিকতার ছাপ। যেকোনো সমস্যায় দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে সমাধান দেওয়া তার কাজের বিশেষ বৈশিষ্ট্য।
ইউএনও ফাহমিদা আফরোজ বলেন, “আমার জেলা প্রশাসক (ডিসি) আসমা শাহীন স্যারের দিক নির্দেশনা ও সহযোগিতার কারণেই এগুলো সম্ভব হয়েছে। গুরুদাসপুরবাসীর ভালোবাসা আমাকে দায়িত্ব পালন করতে আরও অনুপ্রাণিত করে।”
ইএইচ