গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী) প্রতিনিধি
ডিসেম্বর ৮, ২০২৫, ০৩:১৭ পিএম
রাস্তা না থাকায় চরম ভোগান্তিতে রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে চরাঞ্চলের দুইটি গ্রামের কয়েকশত মানুষ। গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ডের তমিজউদ্দিন মৃধা পাড়া ও উজানচর ইউনিয়ন ৯ নং ওয়ার্ডের লুৎফর সওদাগর পাড়ার দুটি গ্রামের বাসিন্দারা দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন স্থানে দৌড়ঝাঁপ পারলেও তাদের জন্য একটি রাস্তার ব্যবস্থা হয়নি। এতে করে তারা চরম ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছেন।
সরেজমিন ঘুরে জানা গেছে, পায়ে হেঁটে যাওয়ার মত নির্দিষ্ট কোনো রাস্তা নেই। কোনো রকম ভাবে ফসলি জমির পাশ দিয়ে পায়ে হেঁটে যেতে হয় ওই অঞ্চলের মানুষদের।
একটু বৃষ্টি হলে গ্রামের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পায়ে হেঁটে কাঁদা মাটির মধ্যে দিয়ে অনেক কষ্টে স্কুল এবং মাদ্রাসায় যেতে হয়। মাঠের ফসল পরিবহনে চরম কষ্টকর হয়ে পড়ে তাদের জন্য। এ ছাড়াও গর্ভবতী কোনো নারী কিংবা বয়স্ক কেউ অসুস্থ হয়ে পড়লেও তাকে তাফাল বা ধান সিদ্ধ করার দুঙ্গায় বাঁশ দিয়ে বেঁধে সাই করে রাস্তায় নিয়ে যানবাহনের নাগাল পেতে হয়। কেউ মারা গেলে লাশ নিয়ে পড়তে হয় চরম বিপদে।
স্থানীয়রা জানান, মাত্র ৩৬ শত থেকে ৩৭ শত মিটারের একটি রাস্তা হলে তারা স্বাচ্ছন্দ্যে যানবাহন নিয়ে চলাফেরা করতে পারতেন। সেই সাথে বদলে যেত এ অঞ্চলের চিত্র।
স্থানীয় আকলিমা, জোসনা, নাজমা, রুমানা আক্তার জানান, বসবাসের এক যুগ পার হয়ে গেলেও আমাদের এই অঞ্চলে কোনো রাস্তা নেই। রাস্তা না থাকায় আমাদের এই অঞ্চলের মেয়েরা ভালোভাবে পড়ালেখা করতে পারছে না। এমনকি ভালো জায়গায় তাদের ছেলে মেয়েদেরকে বিবাহ দিতে পারছি না।
তারা আরো বলেন, গর্ভবতী মায়েরা অসুস্থ হয়ে পড়লে তাফালে করে তাদেরকে হাসপাতালে নিতে হয়। রাস্তা না থাকায় ছেলে-মেয়েদের স্কুলে যাতায়াতে চরম কষ্ট হয়। এছাড়া মাঠের ফসল আনতে অবর্ণনীয় দুর্ভোগ পোহাতে হয়। জমির ফসল মাথায় করে কষ্ট করে বাড়িতে আনতে হয়।
আমজাদ হোসেন, ফজলু শেখ, আসলাম, মেসের আলীসহ কয়েকজন জানান, এ এলাকায় একটি রাস্তা হলে মাঠের ফসল তারা সহজে গোয়ালন্দ বাজারসহ বিভিন্ন হাটবাজারে নিয়ে বেচাকেনা করে ভালো দাম পেতেন।
এ বিষয়ে গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাথী দাস মুঠোফোনে আমার সংবাদকে বলেন, "আমি দ্রুত সময়ের মধ্যে ওই অঞ্চলে গিয়ে সরেজমিন দেখে একটি রাস্তা নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।"
ইএইচ