মশিউর কাজী, শিবচর (মাদারীপুর)
ডিসেম্বর ৯, ২০২৫, ১২:২৭ পিএম
মাদারীপুরের শিবচরে প্রথম শ্রেণিতে পড়ুয়া ছয় বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত যুবককে গণধোলাই দিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছে স্থানীয় জনতা। ধর্ষণের শিকার শিশুটিকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং এ বিষয়ে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
সোমবার বিকেলে উপজেলার দত্তপাড়া ইউনিয়নের হাজী কাইমুদ্দিন শিকদার কান্দি ৬ নম্বর ওয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত যুবকের নাম মিঠুন মজুমদার, যিনি ওই এলাকার বিষ্যু মজুমদারের পুত্র। ধর্ষণের শিকার শিশুটির নাম ফারজানা আক্তার হুমায়রা। সে একই গ্রামের দিনমজুর ফারুক মুন্সির মেয়ে এবং স্থানীয় একটি মাদ্রাসায় পড়ুয়া।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার সকাল ১০টার দিকে শিশুটির অভিভাবক তাকে গ্রামের মাদ্রাসায় পড়তে দিয়ে যান। নির্দিষ্ট সময়ে শিশুটি বাড়ি না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। বিকেল চারটার দিকে মিঠুনের বাড়ির পাশ থেকে শিশুটিকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।
বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে শিশুটির শারীরিক অবস্থা অস্বাভাবিক মনে হলে তার বাবা জিজ্ঞাসা করেন এবং তখন শিশুটি পুরো ঘটনার বর্ণনা দেয়। রাত ৮টার দিকে শিশুটির শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে শিবচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসা হয়।
কর্তব্যরত চিকিৎসক মো. মুঞ্জুরুল ইসলাম শিশুটিকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য মাদারীপুর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠিয়েছেন।
এদিকে, এমন চাঞ্চল্যকর ঘটনার খবর পেয়ে স্থানীয়রা অভিযুক্ত মিঠুন মজুমদারকে আটক করে গণপিটুনি দেয়। পরে শিবচর থানা পুলিশ এবং দত্তপাড়া হাইওয়ে পুলিশের সহযোগিতায় মিঠুনকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য শিবচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসা হয়।
বর্তমানে মিঠুন শিবচর থানা পুলিশের নিরাপত্তায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছে।
দত্তপাড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ (ওসি) জানান, শিশুটিকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। অভিযোগের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন। শিশুটিকে মেডিকেল পরীক্ষার জন্য জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে এবং পরীক্ষা সম্পন্ন হলে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
শিবচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দায়ের করা হয়েছে। শিশুটিকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং অভিযুক্তকে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া শেষে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।
জেএইচআর