মো. আব্দুস সালাম, গুরুদাসপুর (নাটোর)
ডিসেম্বর ৯, ২০২৫, ০৩:০৯ পিএম
নাটোরের গুরুদাসপুর থানার মাত্র ৫০ গজ দূরে এবং কেন্দ্রীয় মসজিদের সন্নিকটে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী ফোরকানিয়া মাদ্রাসা দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। প্রায় চার কোটি টাকা মূল্যের সম্পদ ও আয়ের সম্ভাবনা থাকলেও প্রতিষ্ঠানটি আজ চরম অবহেলার শিকার, যা স্থানীয় জনমনে দায়িত্ব ও তদারকি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
মাদ্রাসাটির নিজস্ব ৪২ শতাংশ জমি ছাড়াও বিভিন্ন মৌজায় আরও জমি রয়েছে। এছাড়া একটি মার্কেটে চারটি দোকান থাকলেও প্রায় দশ বছর ধরে মাদ্রাসা কোনো ভাড়া পাচ্ছে না বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেন। শতাধিক সুপারি ও ফলজ গাছ থেকেও কারা সুবিধা ভোগ করছেন, তা স্পষ্ট নয়।
অনুসন্ধানে জানা যায়, সেসময়কার মাদ্রাসার সুপার ছিলেন পাবনা চাটমোহর ছাইকোলা গ্রামের মো. আশরাফুল ইসলাম। মাদ্রাসা বন্ধ হওয়ার পরেও কিছু দিন বিনা রশিদে দোকান ভাড়া নিতেন। গত দশ বছর হলো প্রশাসনের পরামর্শে বিনা রশিদে ভাড়া প্রদান করছেন না দোকানীরা। ঐ সুপারের নিকটই সকল নথি রয়েছে বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় ৫৫ বছর আগে খামার নাচকৈড় এলাকার ধর্মভীরু ব্যবসায়ী মরহুম জলিল হাজী কোরআন শিক্ষার প্রসারে এই জমি দান করেন। পরবর্তীতে মরহুম আব্দুর রাজ্জাক মন্ডলসহ অনেকে আরও জমি দান করেন। তবে প্রায় ২৩ বছর আগে ফোরকানিয়া মাদ্রাসাকে দাখিল মাদ্রাসায় রূপান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হলেও আইনি জটিলতায় অনুমোদন না মেলায় সব শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়।
বর্তমানে চারটি ভবনই ভগ্নদশায় পড়ে আছে। নষ্ট দরজা-জানালা, খোলা টিনের চাল ও চারপাশে জঙ্গল গজিয়ে ওঠায় এলাকাবাসীর দাবি, এটি অসাধু ব্যক্তিদের আখড়ায় পরিণত হয়েছে। থানার এত কাছাকাছি একটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান এভাবে অবহেলিত থাকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক দায়বদ্ধতা নিয়েও।
স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত প্রশাসনিক উদ্যোগে মাদ্রাসাটি পুনরায় চালুর দাবি জানান।
এ বিষয়ে গুরুদাসপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাহমিদা আফরোজ বলেন, "বিষয়টি নজরে রয়েছে। জেলা প্রশাসকের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।"
ইএইচ