নুরুজ্জামান শেখ, শরীয়তপুর থেকে
ডিসেম্বর ১১, ২০২৫, ০৬:০০ পিএম
শরীয়তপুরে বিতর্কিত সদর উপজেলা শিক্ষা অফিসারের বদলিতে দোয়া ও মিষ্টি বিতরণ করেছেন শিক্ষকরা।
বৃহস্পতিবার দুপুরে প্রাথমিক উপজেলা শিক্ষা অফিস চত্বরে প্রাথমিক শিক্ষকদের একাংশ এই দোয়া ও মিষ্টি বিতরণ শেষে তার বদলিতে আনন্দ মিছিল করেন। প্রাথমিক স্কুলে সরকারি অনুদান থেকে সকল কাজে ৭ শতাংশ থেকে ১০ শতাংশ ঘুষ গ্রহণ, শিক্ষক নির্যাতন এবং দুর্নীতিবাজ হিসেবে উপজেলা শিক্ষা অফিসার তাজুল ইসলামের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন শিক্ষকরা।
দাসার্ত্তা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গোবিন্দ ও অফিস সূত্রে জানা যায়, ২০২০ সালে মো. তাজুল ইসলাম শরীয়তপুর সদর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করেন। যোগদানের পর থেকে তিনি প্রাথমিক স্কুলে সরকারি অনুদান থেকে সকল কাজে ৭ শতাংশ থেকে ১০ শতাংশ ঘুষ গ্রহণ, শিক্ষক নির্যাতনকারী, ফ্যাসিস্ট সরকারের সাবেক এমপির দোসর ও শিক্ষকদের মাঝে বিভাজন সৃষ্টিকারী এবং দুর্নীতিবাজ উপজেলা শিক্ষা অফিসার তাজুল ইসলামের বিতর্কিত কর্মকাণ্ড করার কারণে আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়। তার বিরুদ্ধে বিনামূল্যে ঊন বিতরণে অনিয়ম, শিক্ষকদের কটূক্তি, বদলি বাণিজ্য, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বরাদ্দ থেকে কমিশন গ্রহণসহ অসংখ্য অভিযোগ ওঠে। তার বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের কারণে ফুঁসে ওঠে শরীয়তপুরের শিক্ষক সমাজ। তার এ সকল অনিয়ম ও বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়। শরীয়তপুর সদর উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষকদের একাংশ উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা তাজুল ইসলামের বদলি হওয়ার খবরে দোয়া ও মিষ্টি বিতরণ করেন। এরপর শিক্ষকরা একটি র্যালি বের করে স্বস্তি প্রকাশ করেন।
গত কয়েক মাস পূর্বে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা অধিদপ্তরের এক প্রজ্ঞাপনে তাকে মাদারীপুর জেলার কালকিনি উপজেলায় বদলি করা হয়। সেখানে তিনি যোগদান না করে নানা রকম তদবিরের মাধ্যমে আবার সে শরীয়তপুর জেলার নড়িয়া উপজেলায় তার বদলি নিশ্চিত করেন।
শরীয়তপুর সদর উপজেলার ৮৯ নং চাঁদসার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাহিনুর আলম বলেন, "প্রাথমিক স্কুলে সরকারি অনুদান থেকে সকল কাজে ৭ শতাংশ থেকে ১০ শতাংশ ঘুষ গ্রহণ এবং শিক্ষক নির্যাতনকারী ও শিক্ষকদের মাঝে বিভাজন সৃষ্টিকারী এবং দুর্নীতিবাজ উপজেলা শিক্ষা অফিসার তাজুল ইসলামের বদলির খবরে আমরা খুশি হয়েছি। দুর্নীতিবাজকে বদলি করাই কোনো সমাধান নয়, তাকে শাস্তি দিতে হবে।"
সদর উপজেলার হোগলা মাকশাহার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. হায়দার হোসেন বলেন, "গত মাসে মিটিংয়ে সবার মোবাইল জমা নিয়ে ৭ শতাংশ থেকে ১০ শতাংশ ঘুষ দাবি করেন উপজেলা শিক্ষা অফিসার তাজুল ইসলাম। যারা দাবি কৃত ঘুষ দেয়, তারা ভালো শিক্ষক। আর যারা তার দাবি কৃত টাকা না দেয়, তারাই খারাপ শিক্ষক। তাদের বিরুদ্ধে সে নানা রকম অ্যাকশন নেন।"
এ বিষয়ে সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার সাথে কথা বলতে চাইলে তিনি কথা বলতে চাননি।
শরীয়তপুর জেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, "আজকে যে ঘটনাটি ঘটেছে তার সমঝোতা করার জন্য আমি সদর উপজেলা শিক্ষা অফিসে এসেছি। সবাইকে নিয়ে বিষয়টি সমাধান করবো। অভিযোগের বিষয়টি খুবই দুঃখজনক।"
ইএইচ