চিলমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি
ডিসেম্বর ১৪, ২০২৫, ০৩:২৯ পিএম
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে নদ নদীর পানির স্তর কমে গিয়ে জেগে ওঠা বালু চরে স্বপ্ন বুননে ব্যস্ত সময় পার করছেন কুড়িগ্রামের চিলমারীর চরাঞ্চলের প্রান্তিক কৃষকরা। আবহাওয়া-জলবায়ুর পরিবর্তনের ফলে প্রতিবছর এই সময়ে ব্রহ্মপুত্র নদের পানির স্তর কমে গিয়ে বিভিন্ন স্থানে বালুচর জেগে ওঠে। এই চরে গুটি কয়েক ফলন দেখা যায়। এরমধ্যে পেঁয়াজ, রসুন বেশি সংখ্যক চাষ হয়। বিশাল এই বালুচর গুলোয় পেঁয়াজ চাষ হচ্ছে। তবে আগাম বন্যার শঙ্কাও রয়েছে।
স্থানীয় কৃষকরা বলেন, তিন মাস মেয়াদি এই ফসলে লাভজনক। কিন্তু এবার কিছুটা সারের সংকট ও বীজের দাম বেশি পড়েছে। আর এই পেঁয়াজের ফলন ওঠানোর সময় বন্যার শঙ্কা থেকে যায়। যদি আগাম নদীতে পানি না বৃদ্ধি পায় তাহলে আশানুরূপ ফলন ঘরে ওঠানো সম্ভব।
কৃষি অফিস জানায়, এবার প্রায় ১৬০০ হেক্টর জমিতে চাষ হয়েছে। চাষের খরচ কম হলেও সেচ ও সারের খরচ তুলনামূলক বেশি। এপ্রিল মাসের মধ্যে বন্যার শঙ্কা না থাকায় বোরো ধান ছাড়া অন্যান্য রবিশস্যে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা নেই।
খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, ব্রহ্মপুত্র নদের তীর বিশাল বালুচর জুড়ে রোপণ করা হচ্ছে পেঁয়াজের বীজ। বিস্তীর্ণ এই চর গুলো সদ্য জেগে ওঠা। দেখা যায়, কৃষকরা হাতছানি দিয়ে বীজ লাগাচ্ছেন এবং বালু দিয়ে এসব ঢেকে দিচ্ছেন। এবার বিঘা প্রতি পেঁয়াজ চাষে ব্যয় হচ্ছে ১৫ হাজার টাকা।
অষ্টমীরচর ইউনিয়নের মুদাফৎ কালিকাপুর ফকির পাড়া এলাকার কৃষক আকরম মুন্সি বলেন, "আল্লাহর উপর ভরসা করে পেঁয়াজ লাগাচ্ছি। গত বারের চেয়ে এ বছর খরচ বেশি, সার পাচ্ছি না বীজের দাম অনেক, সরকারি কোনো সহযোগিতা পাই না আমরা। সব কিছু দোকান থেকে বাকিতে নিয়ে চাষ করতে হচ্ছে। তবে আমরা আশা করছি পেঁয়াজের ফলন ভালো হবে। আর পেঁয়াজ ওঠানোর সময় যদি আগাম নদীতে পানি হয় তাহলে ক্ষতিগ্রস্ত হবো।"
চিলমারী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কনক চন্দ্র রায় জানান, "বারি পেঁয়াজ-১ খরা সহিষ্ণু জাত যা চরাঞ্চলে তুলনামূলক ভালো হয়। যারা কৃষি প্রণোদনা পেয়েছে বা পায়নি তাদের যে কোনো ফসল উৎপাদন বিষয়ে পরামর্শ প্রদানের জন্য উপজেলা কৃষি অফিস তৎপর রয়েছে।"
নদী কর্মী ও বিশ্লেষক জাহানুর রহমান বলেন, "জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এখন কেবল বৈজ্ঞানিক প্রমাণের বিষয় নয়, এটি কুড়িগ্রামের মানুষের প্রতিদিনের বাস্তবতা। ২০১৯ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত গত সাত বছরে কুড়িগ্রামে ৫ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা বেড়েছে। এসব লক্ষণ জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবকে ইঙ্গিত করে।"
তিনি আরও বলেন, "কুড়িগ্রামের বড় বড় নদীগুলোর মধ্যে ব্রহ্মপুত্র, ধরলা ও তিস্তা নদীর তলদেশ ভরাট হয়ে যাওয়ায় নিচের জোয়ারের পানি প্রবাহ বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে নদীর উপরিভাগের পানি পরিবেশের অধিক তাপমাত্রার কারণে উজান থেকে নেমে আসা পানি দ্রুত বাষ্পীভূত হয়ে নদীর মাঝে ছোট ছোট দ্বীপচর জাগছে। এখন এসব বালুচরের জলবায়ু সহিষ্ণু কৃষি চাষাবাদ করার জন্য কৃষি বিভাগ ও স্থানীয়দের সমন্বিত পদক্ষেপ নিতে হবে।"
ইএইচ