ঘোড়াঘাট (দিনাজপুর) প্রতিনিধি
ডিসেম্বর ১৫, ২০২৫, ০৫:৫৮ পিএম
দিনাজপুর জেলার ঘোড়াঘাট উপজেলার সিংড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাজ্জাদ হোসেন ও দিনাজপুর জেলা স্কুলের সিনিয়র শিক্ষক তাহারিমা আকতার দম্পতির যমজ কন্যাদের সাফল্যে পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে আনন্দের জোয়ার বয়ে চলছে।
একসঙ্গে জন্ম, একসঙ্গে বেড়ে ওঠা। প্রাথমিক, মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিকে পড়েছেন একই প্রতিষ্ঠানে। সব ক্ষেত্রে দুজনের ফলাফলও একই। যমজ দুই বোন এবার একসঙ্গে সুযোগ পেয়েছেন চিকিৎসাশাস্ত্র পাঠের। তবে আলাদা প্রতিষ্ঠানে। মুতমাইন্না সারাহ ঢাকা মুগদা মেডিকেল কলেজে এবং মুমতাহিনা সামিহা সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজে ভর্তির জন্য মনোনীত হয়েছেন।
চেহারা-গঠন, চালচলনের মতো দুই বোনের পড়াশোনার যাত্রাটাও যেন এক যুগল পথচলা। শিক্ষাজীবনের শুরু থেকেই অত্যন্ত মেধাবী সারাহ ও সামিহা এর আগে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় সব বিষয়ে জিপিএ-৫ অর্জন করেন। শিক্ষাজীবনে তারা দুজনে দিনাজপুর গভর্নমেন্ট গার্লস হাই স্কুল ও দিনাজপুর সরকারি কলেজে পড়াশোনা করেছেন।
ধারাবাহিক সাফল্যে উচ্ছ্বসিত দুই বোন মেডিকেল কলেজে ভর্তির যোগ্যতা অর্জন করায় অভিন্ন ভাষায় বলেন, প্রতিটি বিষয়ের মতো পড়াশোনার বেলায় দুই বোন একই মতের ছিলেন। দিনরাত নাওয়া-খাওয়া-ঘুম হারাম করে ১৮-২০ ঘণ্টা পড়াশোনা করার রেকর্ড তাঁদের নেই। তবে যতটুকু পড়েছেন, নিয়ম মেনে বুঝেশুনে পড়েছেন। কোনো দিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অনুপস্থিত থাকেননি। শিক্ষকদের প্রতিটি কথা মনোযোগ সহকারে শোনার পাশাপাশি লিখে রেখেছেন, যা বাড়িতে ফিরে পুনরায় পড়েছেন। সব মিলে নিয়মানুবর্তিতাই তাঁদের এ সাফল্য এনে দিয়েছে।
মা দিনাজপুর জেলা স্কুলের ইংরেজি বিভাগের সিনিয়র শিক্ষক তাহারিমা আকতার মেয়েদের সাফল্যে দারুণ উচ্ছ্বসিত।
তিনি বলেন, “আমাদের এক ছেলে দুই মেয়ে। বড় ছেলে তাহমীদ বিন সাজ্জাদ রংপুর মেডিকেল কলেজের শেষ বর্ষের ছাত্র।”
“আমার খুবই ভালো লাগছে। এটা অন্যরকম অনুভূতি। এই অনুভূতি বলে প্রকাশ করার মতো নয়। আমার স্বপ্ন ছিল মেয়েরা চিকিৎসক হয়ে মানুষের সেবায় নিয়োজিত হবে। পৃথিবীতে আসা থেকে শুরু করে এ পর্যন্ত ওদের সবকিছু একসঙ্গে হয়েছে। মা হিসেবে আমি ভীষণ গর্বিত।”
সারাহ-সামিহার বাবা ঘোড়াঘাট উপজেলার সিংড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও বিরামপুর বিএম কলেজের প্রভাষক।
তিনি বলেন, “ছেলের মতো যমজ দুই মেয়ে ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনায় খুব আগ্রহী। কেউ কারও থেকে দুই বা এক নম্বর কম পেলে, পরের পরীক্ষায় দেখা যেত সে অন্যজনকে ছাড়িয়ে গেছে। এভাবে প্রতিযোগিতামূলকভাবেই চলে ওদের পড়ালেখা। এই বছর এইচএসসি পাসের পর শুরু হয় দু'জনের মেডিকেল প্রস্তুতি। দু'জন একসঙ্গে পড়েছে। একে অপরকে সহায়তা করেছে। সাফল্যও এসেছে। বাবা হিসেবে মেয়েদের এমন সাফল্য দেখার অনুভূতি দারুণ।”
সারাহ ও সামিহা দুইজনই তাদের সাফল্যের পেছনে তাঁদের বাবা-মায়ের অবদানকে কৃতিত্ব দিয়েছেন। পাশাপাশি স্কুল-কলেজের শিক্ষক, আত্মীয়-স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। আর জানিয়েছেন, প্রথমত মানবিক মানুষ হতে চান। তাঁদের জীবনের লক্ষ্য ভালো ডাক্তার হয়ে মানুষের সেবা করা।
ইএইচ