নুরুজ্জামান শেখ, শরীয়তপুর
ডিসেম্বর ২৬, ২০২৫, ০৬:৩২ পিএম
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে শরীয়তপুর-১ (পালং-জাজিরা) আসনের রাজনৈতিক সমীকরণ বেশ জটিল হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে এ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সাঈদ আহমেদ আসলামকে কেন্দ্র করে দলের ভেতর শুরু হয়েছে তীব্র অসন্তোষ।
আসলামকে 'বহিরাগত' আখ্যা দিয়ে তাকে মেনে নিতে পারছেন না স্থানীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ ভোটারদের একটি বড় অংশ, যা নিয়ে রাজপথেও গড়িয়েছে বিক্ষোভ।
সাঈদ আহমেদ আসলাম বর্তমানে শরীয়তপুর জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক হলেও তার স্থায়ী নিবাস শরীয়তপুর-৩ নির্বাচনী এলাকার ডামুড্যা উপজেলায়। অন্য উপজেলার বাসিন্দাকে সদর আসনে প্রার্থী করায় ক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সরদার একেএম নাসির উদ্দিন কালুর পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।
কালুর সমর্থকরা গত কয়েকদিন ধরে শরীয়তপুর শহরে মশাল মিছিল, সড়ক অবরোধ ও মানববন্ধন করে কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার দাবি জানাচ্ছেন।
বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীদের অভিযোগ, বছরের পর বছর যারা মাঠে থেকে দলের জন্য শ্রম দিয়েছেন, তাদের উপেক্ষা করে অন্য এলাকা থেকে প্রার্থী চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে সদর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক নাজমুল ছৈয়াল বলেন, "সাঈদ আহমেদ জেলা নেতা হতে পারেন, কিন্তু তিনি এ আসনের স্থায়ী বাসিন্দা নন। আমরা স্থানীয় এবং ত্যাগী নেতৃত্ব চাই।" সাধারণ ভোটারদের মাঝেও এ নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।
জাজিরা উপজেলার তরুণ ভোটার নিরব সিকদার মনে করেন, দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল মিটমাট না হলে ভোটাররা বিকল্প শক্তির কথা ভাবতে শুরু করবে।
তবে আসলামের সমর্থকরা আশাবাদী। তরুণ ভোটার আনিছ সরদার বলেন, "তারেক রহমান যাকে যোগ্য মনে করে ধানের শীষ দিয়েছেন, আমরা তাকেই ভোট দেব।"
এদিকে রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড. তোয়াব হোসেন সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, তৃণমূলের ক্ষোভ নিরসন করতে না পারলে এ সুযোগ কাজে লাগাতে পারে জামায়াতে ইসলামী বা ইসলামী আন্দোলনের মতো অন্য দলগুলো।
শরীয়তপুর-১ আসনে বিএনপির এই অন্তর্কোন্দল শেষ পর্যন্ত ভোটের লড়াইয়ে কী প্রভাব ফেলে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
ইএইচ