কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি
ডিসেম্বর ২৮, ২০২৫, ০৫:১৬ পিএম
হাড়কাঁপানো শীত আর ঘন কুয়াশার দাপটে কিশোরগঞ্জে স্বাভাবিক জনজীবন স্থবির হয়ে পড়েছে। টানা কয়েক দিন ধরে সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত সূর্যের দেখা না মেলায় শীতের তীব্রতা চরমে পৌঁছেছে।
রোববার কিশোরগঞ্জের নিকলীতে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৯.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
ভোর থেকে চারপাশ ঘন কুয়াশার চাদরে ঢাকা থাকায় সড়কে যানবাহন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। হেডলাইট জ্বালিয়ে ধীরগতিতে চলছে বাস, ট্রাক ও ছোট যানবাহনগুলো। কনকনে ঠান্ডা আর হিমেল হাওয়ায় সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন শ্রমজীবী ও ছিন্নমূল মানুষ।
পেটের তাগিদে ঘর থেকে বের হওয়া ভ্যানচালক ও দিনমজুররা তীব্র শীতে কাজ করতে হিমশিম খাচ্ছেন। খড়কুটো জ্বালিয়ে অনেককে শীত নিবারণের চেষ্টা করতে দেখা গেছে।
নিকলী আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের সিনিয়র অবজারভার আখতার ফারুক জানান, তাপমাত্রা আরও কমতে পারে এবং চলতি মাসের শেষ দিকে জেলায় মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এদিকে শীতের প্রকোপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কিশোরগঞ্জের হাসপাতালগুলোতে বাড়ছে নিউমোনিয়া, জ্বর ও ডায়রিয়াসহ শীতজনিত রোগীর সংখ্যা।
শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. সাইফুল ইসলাম জানান, আবহাওয়া পরিবর্তনের কারণে আক্রান্ত রোগীদের ভিড় বাড়ছে। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের এই সময়ে বাড়তি যত্নে রাখার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
জেলা প্রশাসন ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন শীতবস্ত্র বিতরণ শুরু করলেও স্থানীয়দের দাবি তা চাহিদার তুলনায় কম। তবে জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. বদরুদ্দোজা জানিয়েছেন, পর্যাপ্ত কম্বল বরাদ্দ পাওয়া গেছে এবং বিতরণ কার্যক্রম পুরোদমে চলমান রয়েছে। তিনি সমাজের সামর্থ্যবান ব্যক্তিদেরও শীতার্তদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান।
ইএইচ