শাহনেওয়াজ শাহ্, বিজয়নগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া)
ডিসেম্বর ৩১, ২০২৫, ০৫:১০ পিএম
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলার ৫০ শয্যাবিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভয়াবহ জনবল সংকটের কারণে স্বাস্থ্যসেবা স্থবির হয়ে পড়েছে। চিকিৎসক, নার্স, টেকনোলজিস্ট ও সহায়ক কর্মীর অভাবে এক্সরে ও অপারেশন থিয়েটারসহ গুরুত্বপূর্ণ সেবাগুলো বন্ধ রয়েছে। ফলে উপজেলার প্রায় চার লক্ষাধিক মানুষ প্রয়োজনীয় সরকারি স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
উপজেলার একমাত্র সরকারি হাসপাতালটি দীর্ঘদিন ধরে জনবল সংকটে ভুগলেও পরিস্থিতির তেমন উন্নতি হয়নি। এক্সরে মেশিনসহ প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি থাকলেও টেকনোলজিস্ট না থাকায় সাধারণ রোগীরা এই সেবা পাচ্ছেন না। একইভাবে অপারেশন থিয়েটারের অবকাঠামো ও সরঞ্জাম থাকলেও জনবল সংকটের কারণে কোনো অস্ত্রোপচার করা যাচ্ছে না। ফলে দুর্ঘটনায় আহত বা হাড়ভাঙা রোগীদের বাধ্য হয়ে জেলা সদর হাসপাতাল কিংবা বেসরকারি হাসপাতালে গিয়ে অতিরিক্ত খরচে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করাতে হচ্ছে।
অভিযোগ রয়েছে, এই সুযোগে কিছু দালাল চক্র হাসপাতালে সক্রিয় হয়ে উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, বেসরকারি হাসপাতালের নিয়োগকৃত দালাল ও হাসপাতালের ভেতরের কিছু অসাধু কর্মচারী রোগীদের ভুল বুঝিয়ে নির্দিষ্ট বেসরকারি ক্লিনিকে পরীক্ষা করাতে প্রলুব্ধ করছে।
এ ছাড়াও মেডিকেল সার্টিফিকেট (এমসি) সংক্রান্ত অনিয়মের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। আহত রোগীদের জখমের গুরুত্ব পরিবর্তন করে দেওয়ার কথা বলে ১৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।
রোগী ও স্বজনদের দাবি, জরুরি বিভাগে প্লাস্টার বা সেলাই করতে গেলেও ৫০০ থেকে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত দিতে হয়। গ্লাভস ও তুলাসহ বিভিন্ন সামগ্রী কেনার অজুহাতে এই অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হচ্ছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, এখানে অনুমোদিত ১৭ জন চিকিৎসকের বিপরীতে কর্মরত আছেন মাত্র ৮ জন। ফলে প্রতিদিনের বিপুল সংখ্যক রোগীর চাপ সামলাতে চিকিৎসকরা হিমশিম খাচ্ছেন।
একইভাবে ২৫ জন সিনিয়র স্টাফ নার্সের পদের বিপরীতে আছেন মাত্র ১৩ জন। সবচেয়ে উদ্বেগজনক অবস্থা মেডিকেল টেকনোলজিস্টদের ক্ষেত্রে; রেডিওলজিস্টসহ ১৫টি টেকনোলজিস্ট পদের সবগুলোই বর্তমানে শূন্য। এ ছাড়া ১৫টি স্যানিটারি কর্মী ও ১০টি অটোমেকানিক পদের বিপরীতেও কেউ কর্মরত নেই।
এ বিষয়ে বিজয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. সুমন ভূইয়া বলেন, পর্যাপ্ত চিকিৎসক ও জনবল না থাকায় আমাদের কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে জরুরি বিভাগ, ল্যাব টেস্ট ও সেবিকা সংকটে রোগীদের ভোগান্তি বেড়েছে। এক্সরে মেশিন থাকা সত্ত্বেও টেকনোলজিস্ট না থাকায় সেবা দেওয়া যাচ্ছে না। একই কারণে অপারেশন থিয়েটারের সব প্রস্তুতি থাকলেও অপারেশন চালু করা সম্ভব হচ্ছে না।
দালাল চক্রের বিষয়ে তিনি জানান, কিছু বেসরকারি হাসপাতাল থেকে লোক এসে রোগীদের ভুল বুঝিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। তাঁদের চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে। দ্রুত জনবল নিয়োগ না হলে এ অঞ্চলের মানুষ প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা থেকেও পুরোপুরি বঞ্চিত হবে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
ইএইচ