নিজস্ব প্রতিবেদক
জানুয়ারি ২, ২০২৬, ১১:১৮ পিএম
আগামীকাল শনিবার (৩ জানুয়ারি) একটি চ্যালেঞ্জিং দিন হতে যাচ্ছে সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দাদের জন্য। রক্ষণাবেক্ষণ কাজের জন্য এদিন টানা ৯ ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্থানীয় বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ।
শুক্রবার সন্ধ্যায় শান্তিগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ উপ-আঞ্চলিক কার্যালয় থেকে এক জরুরি বার্তার মাধ্যমে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সুনামগঞ্জ গ্রিডের ১৩২/৩৩ কেভি সুইচিং স্টেশনে জরুরি বার্ষিক রক্ষণাবেক্ষণ কাজ শুরু হচ্ছে। এই কারিগরি কাজের জন্য বিদ্যুৎ লাইনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সাময়িকভাবে সরবরাহ বন্ধ রাখা অনিবার্য হয়ে পড়েছে। গ্রিডের কর্মক্ষমতা বজায় রাখতে এবং ভবিষ্যতে বড় কোনো যান্ত্রিক গোলযোগ এড়াতে প্রতি বছর এই নিয়মিত পরীক্ষা, নিরীক্ষা করা হয়।
বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, শনিবার সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত শান্তিগঞ্জ উপজেলার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আওতাধীন সকল এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বিচ্ছিন্ন থাকবে। টানা ৯ ঘণ্টার এই দীর্ঘ বিরতির ফলে বাসাবাড়ি, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প প্রতিষ্ঠান এবং বাণিজ্যিক এলাকায় দৈনন্দিন কাজ ব্যাহত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
শান্তিগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ উপ-আঞ্চলিক কার্যালয় জানিয়েছে, মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণের কাজ শেষ হওয়ার সাথে সাথেই কোনো বিলম্ব ছাড়াই দ্রুততম সময়ে সংযোগ স্বাভাবিক করার সর্বাত্মক চেষ্টা চালানো হবে। তবে দিনের বেলা দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় পানির পাম্প সচল রাখা এবং দৈনন্দিন গৃহস্থালি কাজে ব্যাঘাত ঘটতে পারে। এই অনাকাঙ্ক্ষিত সাময়িক অসুবিধার জন্য বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ গ্রাহকদের কাছে আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করেছে।
এই জরুরি মেরামতী কার্যক্রমের তদারকিতে থাকা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ হলেন, সুনামগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির প্রকৌশলী ও কারিগরি টিম। শান্তিগঞ্জের সাধারণ মানুষকে এই ৯ ঘণ্টা বিদ্যুৎবিহীন পরিস্থিতির জন্য আগাম প্রস্তুতি নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সকাল ৮টার আগেই পানির ট্যাঙ্ক পূর্ণ করে রাখা জরুরি।
এ ছাড়া রাতে বা ভোরেই মোবাইল ফোন ও প্রয়োজনীয় ইলেকট্রনিক যন্ত্রসমূহ পূর্ণ চার্জ দিয়ে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। যারা ডিপ ফ্রিজ বা পচনশীল পণ্য নিয়ে কাজ করেন, তারা বিকল্প বিদ্যুৎ বা বরফ খণ্ডের ব্যবস্থা রাখতে পারেন।
সুনামগঞ্জ গ্রিডের এই বার্ষিক মেরামতের ফলে বিদ্যুৎ বিভ্রাট কেবল শান্তিগঞ্জেই সীমাবদ্ধ থাকবে নাকি পাশের এলাকাগুলোতেও প্রভাব পড়বে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিভাগ আরও নজরদারি রাখছে। কর্তৃপক্ষের লক্ষ্য হলো মেরামত কাজ শেষ করে বিকেলের নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই গ্রাহকদের মুখে আবার বিদ্যুতের আলো ফেরানো।
ইএইচ