ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Amar Sangbad

ইনস্টাগ্রাম

Amar Sangbad

এক্স

Amar Sangbad


লিংকডইন

Amar Sangbad

পিন্টারেস্ট

Amar Sangbad

গুগল নিউজ

Amar Sangbad


হোয়াটস অ্যাপ

Amar Sangbad

টেলিগ্রাম

Amar Sangbad

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Amar Sangbad


ফিড

Amar Sangbad

ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

শরীয়তপুরে হাতবোমা বানাতে গিয়ে বিস্ফোরণ, নিহত ২

নুরুজ্জামান শেখ, শরীয়তপুর

নুরুজ্জামান শেখ, শরীয়তপুর

জানুয়ারি ৮, ২০২৬, ০৮:১৫ পিএম

শরীয়তপুরে হাতবোমা বানাতে গিয়ে বিস্ফোরণ, নিহত ২

শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলায় হাতবোমা বানাতে গিয়ে বিস্ফোরণে আহত নবীন সরদার (২৬) ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছেন। মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জাজিরা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সালেহ আহমেদ। 

তিনি গণমাধ্যমকে জানান, মৃত্যুর বিষয়টি বিভিন্ন সংবাদের মাধ্যমে জানতে পেরেছেন। নিহত নবীন সরদারের ছোট বোন মরিয়ম আক্তার জানান, তার ভাই বোমা বিস্ফোরণে গুরুতর আহত হলে তাকে ঢাকা মেডিকেলে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে চারটার দিকে তিনি মারা যান।

এর আগে বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় ঘটনাস্থলেই সোহান বেপারী (৩২) নামে এক যুবক নিহত হন। এ ঘটনায় আরও ৪ জন গুরুতর আহত হয়েছেন, যাদের গোপনে ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। ঘটনাস্থলে শত শত বোমা তৈরির সরঞ্জাম পড়ে রয়েছে এবং এলাকায় চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। আজ বৃহস্পতিবার ভোরে উপজেলার বিলাসপুর মুলাই বেপারীকান্দির সাগর বেপারীর বাড়িতে এই ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জাজিরা উপজেলার বিলাসপুর ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান কুদ্দুস বেপারী ও স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা জলিল মাদবরের সমর্থকদের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। মাঝেমধ্যে দুই পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্র ও হাতবোমা নিয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। আজ বৃহস্পতিবার ভোরে কুদ্দুস বেপারীর চাচাতো ভাই আবু সিদ্দিক বেপারীর ছেলে সাগর বেপারীর সদ্য তৈরি করা বসতঘরে বোমা তৈরি করার সময় বিস্ফোরণ ঘটলে একই উপজেলার দেলোয়ার হোসেন বেপারীর ছেলে সোহান বেপারী ঘটনাস্থলেই মারা যান। বিস্ফোরণে নিহতের হাতের কব্জি বিচ্ছিন্ন হওয়াসহ ঘরের চাল উড়ে যায়। পরে লাশ লুকাতে গিয়ে ঘটনাস্থলের দক্ষিণ দিকে পেঁয়াজ ক্ষেতে নিয়ে সেখানে ফেলে রেখে পালিয়ে যায় সন্ত্রাসীরা। 

এ ঘটনায় আহত অন্যদের চিকিৎসার জন্য ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলে একটি সূত্র জানিয়েছে।

এ ব্যাপারে সাগরের স্ত্রী শিল্পী বেগম বলেন, “আমার স্বামী ভ্যান চালায়। মানুষের থেকে সহযোগিতা নিয়ে ঘরটি তৈরি করেছি। নতুন ঘরে আমরা এখনো থাকি না। ভোরে বোমার শব্দ পেয়ে ঘুম ভাঙে। পরে জানতে পারি আমাদের নতুন ঘরে বোমা বিস্ফোরণ হয়েছে। কে বা কারা ওই ঘরটিতে রাতে ছিল জানি না। ঘরে কোনো মালামাল না থাকায় তালা দেওয়া হতো না।”

সাজেদা বেগম নামের স্থানীয় এক নারী বলেন, “আগে এলাকায় অনেক মারামারি হতো। এক বছর ধরে অনেকে জেলে থাকায় ভালোই ছিলাম। এখন আবার আগের মতোই মারামারি শুরু হয়েছে। এই এলাকাটি একটি বোমার এলাকা, পুলিশ জানলেও কোনো অভিযান করে না।” 

প্রতিবেশী সাহানা বেগম বলেন, “আমরা চরম আতঙ্কে আছি। কোনো রকম মুখ খুলতে পারব না।” 

রাবেয়া খাতুন নামের আরেক নারী বলেন, “প্রথমে ভেবেছিলাম ট্রান্সফর্মার ব্লাস্ট হয়েছে। ঘর খুলে দেখি অনেক ধোঁয়া আর কিছু লোক দৌড়ে পালিয়ে যাচ্ছে। দেখি একজনের লাশ টেনেহিঁচড়ে পেঁয়াজ ক্ষেতের দিকে নিয়ে যাচ্ছে তারা।”

জাজিরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সালেহ আহম্মেদ বলেন, “বোমা বানাতে গিয়ে ৪ জন মারাত্মকভাবে আহত হয়। তাদের মধ্যে সকালে একজন মারা গেছে এবং তার লাশ ময়নাতদন্তের জন্য শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। পরবর্তীতে সংবাদের মাধ্যমে জানতে পেরেছি আহত নবীন সরদার ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছেন। এই ঘটনায় এ পর্যন্ত দুইজন নিহত হয়েছে।”

ইএইচ

Link copied!