রাইসুল ইসলাম খোকন, সরিষাবাড়ী
জানুয়ারি ১৬, ২০২৬, ০৪:৩১ পিএম
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের অধীনে বাস্তবায়নাধীন “গ্রামীণ রাস্তায় সেতু/কালভার্ট নির্মাণ প্রকল্প”-এর আওতায় জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার আওনা ইউনিয়নে নির্মাণাধীন দুটি গার্ডার ব্রিজের কাজ প্রায় দুই বছরেও শেষ হয়নি। বরাদ্দ অনুযায়ী কাজ শুরু হলেও বাস্তব অগ্রগতির ঘাটতি, সংযোগ সড়ক না থাকা এবং দীর্ঘদিন ধরে নির্মাণকাজ স্থবির থাকায় প্রকল্প বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
২০২২-২০২৩ ইং অর্থবছরে ২ কোটি ২৬ লাখ ৭৫ হাজার ১১৪ টাকা ব্যয়ে যমুনা নদীর শাখা অংশে আওনা ইউনিয়নের কুলপাল-আওনা-ঘুইষ্ণা এলাকার জন্য ১৫ মিটার দৈর্ঘ্যের দুটি গার্ডার ব্রিজ নির্মাণের বরাদ্দ দেওয়া হয়। কাজের কার্যাদেশ পায় জামালপুর জেলার ইসলামপুর উপজেলার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স এবিএম ফয়সাল কনস্ট্রাকশন।
সরেজমিনে দেখা যায়, কুলপাল-আওনা সড়কের ওপর নির্মিত একটি গার্ডার ব্রিজ দাঁড়িয়ে থাকলেও এর সঙ্গে কোনো সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা হয়নি। ফলে ব্রিজটি ব্যবহার উপযোগী নয়। স্থানীয়রা বলছেন, “সংযোগ সড়ক ছাড়া ব্রিজ নির্মাণের যৌক্তিকতা নিয়ে কথার শেষ নেই।”
অন্যদিকে, আওনা ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ঘুইষ্ণা গুচ্ছ গ্রামের জন্য নির্মাণাধীন অপর গার্ডার ব্রিজটির ছাদের রড প্রায় এক বছর ধরে বাঁধাই অবস্থায় পড়ে রয়েছে। ছাদ ঢালাইয়ের কোনো অগ্রগতি নেই। খোলা আকাশের নিচে পড়ে থাকায় রডে মরিচা ধরছে, যা নির্মাণমান ও স্থায়িত্ব নিয়ে গুরুতর শঙ্কা তৈরি করেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রকল্প বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার ও তদারকি কর্তৃপক্ষের গাফিলতি ও উদাসীনতার কারণেই কাজ দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে আছে। এ ছাড়াও এ দুটি ব্রিজ ও প্রায় ৫ কিলোমিটার সংযোগ সড়ক কুলপাল, কাজল গ্রাম, কুমারপাড়া, বারিকান্দি এবং আশপাশের কয়েকটি গ্রামের মানুষের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বর্ষা মৌসুমে এসব এলাকার মানুষকে নৌকাযোগে জগন্নাথগঞ্জের পুরাতন কুলপাল ঘাট হয়ে চলাচল করতে হয়। এতে কৃষকের উৎপাদিত পণ্য বাজারজাতকরণ ব্যাহত হচ্ছে, শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রম ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং কর্মজীবী মানুষ প্রতিদিনই চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন।
এ সড়কটি দিয়ে জামালপুর জেলার পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী সিরাজগঞ্জ জেলার কাজীপুর উপজেলার পানিবাড়ী, ৬ নম্বর চর ও লক্ষীপুর এলাকার মানুষও যাতায়াত করেন।
স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য মোহাম্মদ আলীর ছেলে সমাজসেবক হাফিজুর রহমান (বাবলু সরকার) এবং চর কুলপাল গ্রামের গোলাম মোস্তফা বলেন, দুটি ব্রিজের একটি সংযোগ সড়ক ছাড়াই পড়ে আছে। আরেকটির কাজ শেষই হয়নি। দীর্ঘদিন ধরে একই অবস্থা চলছে। এতে হাজারো মানুষ দুর্ভোগে পড়েছে। আমরা দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা চাই।
এ বিষয়ে মেসার্স এবিএম ফয়সাল কনস্ট্রাকশনের ঠিকাদার মো. মকবুল হোসেন জানান, ব্রিজ নির্মাণ সামগ্রী পরিবহনে খুবই কষ্টসাধ্য সহ ব্যয়বহুল হওয়ায় লোকসানের মুখে হলেও সরকারি কাজ আগামী এক মাসের মধ্যে সম্পন্ন করা হবে।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসের সাব-অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার মো. আরিফুল ইসলাম জানান, একটি গার্ডার ব্রিজের কাজ প্রায় শেষের পথে। অন্যটি ব্রিজের ছাদ নির্মাণের জন্য সেনেটারিং করা হয়েছে শীঘ্রই শুরু হবে বলে আশ্বাস দেন তিনি।
জানতে চাইলে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. শওকত জামিল বলেন, উপজেলার আওনা ইউনিয়নের কুলপাল-আওনা-ঘুইষ্ণা গুচ্ছ গ্রামের সংযোগ দ্রুত সময়ের মধ্যে সংযোগ সড়ক ও ব্রিজের ছাদ ঢালাইয়ের কাজ সম্পন্ন করার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, প্রকল্প পরিদর্শনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের ভূমিকা খতিয়ে দেখা জরুরি। তারা মনে করছেন, যথাযথ তদন্ত ছাড়া গেলে সরকারি অর্থ অপচয় ও দায়িত্বে অবহেলার বিষয়টি আড়ালেই থেকে যাবে। এ কারণে প্রকল্প বাস্তবায়নে জড়িত সকল পক্ষের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা।
ইএইচ