গুরুদাসপুর (নাটোর) প্রতিনিধি
জানুয়ারি ২২, ২০২৬, ০৩:১৩ পিএম
আসন্ন গণভোট ২০২৬-এ ‘হ্যাঁ’ ভোট পড়লে রাষ্ট্র পরিচালনায় ক্ষমতার ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, নির্বাচন ব্যবস্থার স্বচ্ছতা এবং নাগরিকের মৌলিক অধিকার আরও শক্তিশালী হবে এমনটাই জানানো হয়েছে নাটোরের গুরুদাসপুরে অনুষ্ঠিত এক অবহিতকরণ সভায়।
বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় উপজেলা মিলনায়তনে প্রশাসনের আয়োজনে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের নিয়ে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহমিদা আফরোজের সভাপতিত্বে সভায় জানানো হয়, প্রস্তাবিত সংস্কার বাস্তবায়িত হলে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা চালু, নির্বাচন কমিশন ও সরকারি কর্মকমিশনের (পিএসসি) গঠনে সরকারি ও বিরোধী দলের সমন্বিত অংশগ্রহণ নিশ্চিত হবে।
সভায় আরও জানানো হয়, নতুন ব্যবস্থায় সরকার এককভাবে সংবিধান সংশোধন করতে পারবে না; গুরুত্বপূর্ণ সংশোধনের ক্ষেত্রে গণভোট বাধ্যতামূলক হবে। সংসদের গুরুত্বপূর্ণ স্থায়ী কমিটি ও ডেপুটি স্পিকারের পদ বিরোধী দলের হাতে থাকবে, একজন ব্যক্তি সর্বোচ্চ ১০ বছরের বেশি প্রধানমন্ত্রী থাকতে পারবেন না এবং সংসদে নারীদের প্রতিনিধিত্ব ধাপে ধাপে বাড়ানো হবে।
বক্তারা বলেন, প্রস্তাবিত নীতিমালায় বিচার বিভাগ স্বাধীনভাবে কাজ করবে, ইন্টারনেট সেবা ইচ্ছামতো বন্ধ করা যাবে না, দণ্ডপ্রাপ্ত অপরাধীকে রাষ্ট্রপতি ইচ্ছামতো ক্ষমা করতে পারবেন না এবং রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার মধ্যে সুস্পষ্ট ভারসাম্য বজায় থাকবে।
সভায় সঞ্চালনায় ছিলেন উপজেলা সমাজসেবা অফিসার শফিকুল ইসলাম। প্রধান অতিথি ছাড়াও বক্তব্য দেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) আসাদুল ইসলাম, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার সেলিম আক্তার, একাডেমিক সুপারভাইজার মো. বজলুর রশীদ এবং সোনালী ব্যাংক গুরুদাসপুর শাখার ব্যবস্থাপক মনিরুজ্জামান রাসেল। সভায় উপজেলার বিভিন্ন স্কুল ও কলেজের প্রধান শিক্ষক ও অধ্যক্ষরা উপস্থিত ছিলেন।
বক্তারা বলেন, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিলে প্রস্তাবিত সংস্কারের সুফল পাওয়া যাবে, আর ‘না’ ভোটে কোনো পরিবর্তন কার্যকর হবে না। তাই গণতন্ত্র ও সুশাসন নিশ্চিত করতে সবাইকে সচেতন ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তারা। এবং এ বার্তা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এরিয়ার নাগরিকদের হৃদয়ে পৌঁছে দিতে আহ্বান করেন ইউএনও ফাহমিদা আফরোজ।
এর আগেও তিনি গ্রাম পুলিশ, আনসার, প্রাইমারি স্কুল শিক্ষক, কৃষি কর্মকর্তা, বিএডিসি কর্মকর্তা, মহিলা অধিদপ্তর, সমাজসেবা ও সমবায় অধিদপ্তরের সকল মাঠ পর্যায়ের কর্মীদের মাধ্যমে এ বার্তা পৌঁছাচ্ছেন।
ইএইচ