শিমুল হাছান, ফরিদগঞ্জ (চাঁদপুর)
জানুয়ারি ২৩, ২০২৬, ০৯:৩০ পিএম
চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার রূপসা দক্ষিণ ইউনিয়নের নলগোড়া গ্রামে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে সাবেক এক সেনা সার্জেন্টের বসতঘর সম্পূর্ণ পুড়ে ভস্মীভূত হয়েছে। অগ্নিকাণ্ডে ঘরের ভেতরে থাকা আসবাবপত্র ও প্রয়োজনীয় গৃহস্থালি সামগ্রীসহ প্রায় ১০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার। এ ঘটনায় ফরিদগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায়। অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত হন সাবেক সেনা সার্জেন্ট (ইঞ্জিনিয়ার কোর) মো. আব্দুল আউয়ালের বসতঘর। তিনি বর্তমানে সপরিবারে ঢাকায় বসবাস করছেন। গ্রামের বাড়িতে তার একটি চৌচালা টিনের বসতঘর ছিল, যেখানে দীর্ঘদিন ধরে আসবাবপত্র ও নিত্যপ্রয়োজনীয় মালামাল সংরক্ষিত ছিল। আগুনে ঘরের ভেতরে থাকা সবকিছু সম্পূর্ণভাবে পুড়ে যায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হঠাৎ ঘর থেকে আগুনের লেলিহান শিখা বের হতে দেখা গেলে স্থানীয়রা ছুটে এসে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। পরে ফরিদগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেওয়া হলে তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তবে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা পৌঁছানোর আগেই বসতঘরটি সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়ে যায়।
ফরিদগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের একটি সূত্র অগ্নিকাণ্ডের সত্যতা নিশ্চিত করে জানায়, আগুন লাগার সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো নির্ধারণ করা যায়নি। তবে ঘটনাস্থলে পাওয়া কিছু আলামতের ভিত্তিতে আগুন পূর্বপরিকল্পিতভাবে লাগানো হয়ে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে সন্দেহ করা হচ্ছে।
সোমাই বেপারী বাড়ির বাসিন্দা জাকির হোসেন বলেন, মাগরিবের সময় হঠাৎ আগুন লাগে। কীভাবে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে, তা কেউ বলতে পারছে না। আগুন দেখে সাথে সাথে নেভানোর চেষ্টা করি। পরে ফায়ার সার্ভিস আসে।
ক্ষতিগ্রস্ত মো. আব্দুল আউয়াল বলেন, আমি ঢাকায় অবস্থান করছিলাম। মোবাইলে আগুন লাগার খবর পাই। পরে বাড়িতে এসে ঘটনাস্থলের আলামত দেখে আমার সন্দেহ হয়। কেউ শত্রুতাবশত আগুন লাগিয়ে থাকতে পারে। এ কারণে ফরিদগঞ্জ থানায় অভিযোগ দায়ের করেছি। আগুনে আমার প্রায় ১০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।
এ বিষয়ে ফরিদগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক বোরহান উদ্দিন বলেন, সংবাদ পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। তবে আগুন লাগার সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।
ইএইচ