কোম্পানীগঞ্জ (নোয়াখালী) প্রতিনিধি
জানুয়ারি ২৬, ২০২৬, ০২:৫৭ পিএম
ভূমি অফিসকে দালালমুক্ত ঘোষণা দিয়ে বিশেষ বিজ্ঞপ্তি দিয়েছেন নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রুবাইয়া বিনতে কাশেম। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সেবা পেতে দালাল ছাড়াই সরাসরি হাজির হওয়া বাধ্যতামূলক।
সোমবার সকালে সরেজমিনে গিয়ে বিজ্ঞপ্তির বাস্তব প্রমাণ মেলে। জায়গা-জমির পরিমাপের হিসাব না বুঝেও হাজির হতে হচ্ছে সেবা প্রত্যাশীকে। কোনো প্রকার মাধ্যম বা দালাল ছাড়াই সমাধান হচ্ছে মিসকেস ও নামজারিসহ যাবতীয় সমস্যা। অতীতের সকল রেকর্ড ভেঙে কোম্পানীগঞ্জে সর্বোচ্চ সেবার বাস্তবতা তৈরি করেছেন ৩৮তম বিসিএস ক্যাডারের প্রশাসনিক কর্মকর্তা সহকারী কমিশনার রুবাইয়া বিনতে কাশেম।
জানা যায়, গত বছরের ১৮ সেপ্টেম্বর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় সহকারী কমিশনার হিসেবে যোগদান করেন রুবাইয়া বিনতে কাশেম। সেই থেকে ধারাবাহিক নিষেধাজ্ঞার পর সকল ষড়যন্ত্রকে উপেক্ষা করে অবশেষে ভূমি অফিসকে দালালমুক্ত ঘোষণা করেন তিনি।
এছাড়াও উপজেলার বিভিন্ন হাসপাতাল, ফার্মেসি, খাবার হোটেল, মাটি ও বালু উত্তোলনসহ মানুষের প্রয়োজনীয় জীবনযাত্রায় অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে রেকর্ড পরিমাণে অভিযান, জেল ও জরিমানাসহ জনসচেতনতায় সুনাম কুড়িয়েছেন তিনি। গত ৪ মাসে প্রায় ৫৫টি মোবাইল কোর্টসহ জেল-জরিমানা ও অর্থদণ্ড প্রদান করেন তিনি, যা ইতিপূর্বে কোম্পানীগঞ্জের জন্য প্রথম রেকর্ড।
জানতে চাইলে ভূমি অফিসে নামজারির দায়িত্বে থাকা নাজিম উদ্দিন বলেন, ভূমি অফিসে এখন আর আগের মতো দালালের খপ্পরে পড়ে হয়রানি হতে হচ্ছে না সেবা প্রত্যাশীদের। নামজারিসহ গুরুত্বপূর্ণ ফাইল অল্প সময়েই সম্পন্ন করে দালাল ও প্রতারক মুক্ত ঘোষণা করা হয়েছে এই অফিসকে। সব ধরনের ভূমি সেবার মান বৃদ্ধির পাশাপাশি অপ্রয়োজনীয় ভিড় বা দালালের আনাগোনা এখন আর দেখা যায় না অফিস প্রাঙ্গণে। নেই কোনো বস্তাবন্দি ফাইল, নেই কোনো অনিয়ম ও দুর্নীতি।
বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের কাছে সহকারী কমিশনার (ভূমি) রুবাইয়া বিনতে কাশেম একজন সৎ, দক্ষ ও কর্মনিষ্ঠ অফিসার হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছেন। মাত্র চার মাসে অফিসের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডসহ উপজেলা প্রশাসনের একজন সাহসী নারী অফিসার হিসেবে সুনাম কুড়িয়েছেন তিনি। প্রযুক্তির যথাযথ ব্যবহারের মাধ্যমে ভূমি রেকর্ড ব্যবস্থাপনা ও নামজারিসহ অন্যান্য সেবা এখন খুব সহজেই পেয়ে যাচ্ছেন সেবা প্রত্যাশীরা। সর্বোচ্চ ২৮ দিনের মধ্যেই অবৈধ লেনদেন ছাড়াই সমাধান হচ্ছে নামজারির আবেদন। খাল ও সরকারি সম্পত্তি দখলের বিরুদ্ধে করেছেন একাধিক অভিযান। মাটি ও বালু খেকোদের বিরুদ্ধে করছেন প্রতিনিয়ত আপসহীন মোবাইল কোর্ট। যেখানেই অভিযোগ, দিনে-রাতে ছুটে যাচ্ছেন তিনি। সপ্তাহে একদিন মিসকেস শুনানির কথা থাকলেও প্রায় প্রতিদিন শুনানি হচ্ছে মিসকেস।
জানতে চাইলে সহকারী কমিশনার রুবাইয়া বিনতে কাশেম বলেন, “সরকারি নিয়ম অনুযায়ী সেবা প্রত্যাশীরা অনলাইনে আবেদন করে নির্দিষ্ট দেয়া তারিখে এসে সমাধান নিয়ে যাচ্ছেন। এতে সরকারের দেয়া নির্দিষ্ট ফি ছাড়া কোনো প্রকার লেনদেন আগে হলেও গত ৪ মাস ধরে হয় না। অবৈধ লেনদেন বঞ্চিতরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যে তথ্য রটাচ্ছে যা কাপুরুষের কাজ। তবে এতে বিন্দুমাত্র নৈতিকতায় অবহেলা করার কোনো সুযোগ নেই।”
এ সময় উপজেলার সকল সেবা প্রত্যাশীদের কোনো মাধ্যম ছাড়াই সরাসরি সেবা নিতে ভূমি অফিসে আমন্ত্রণ জানান রুবাইয়া বিনতে কাশেম।
ইএইচ