কক্সবাজার প্রতিনিধি
ফেব্রুয়ারি ৬, ২০২৬, ০৫:৫১ পিএম
সীমান্তবর্তী উপজেলা টেকনাফে নির্বাচনী প্রচারণার মিছিলে ভয়াবহ গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার ৫ ফেব্রুয়ারি রাতে উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের আলীখালী এলাকায় বিএনপি প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণা চালানোর সময় এ হামলার ঘটনা ঘটে। এতে এক কিশোরী ও দুই শিশুসহ মোট ৫ জন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।
স্থানীয় বিএনপি নেতাদের দাবি, প্রচারণা মিছিলে আতঙ্ক ছড়াতে পার্শ্ববর্তী রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সন্ত্রাসীরা এ গুলিবর্ষণ করেছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গতকাল রাত ৮টার দিকে হ্নীলা ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের আলীখালী রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরের গা ঘেঁষা একটি বাজারে বিএনপি প্রার্থীর সমর্থকরা নির্বাচনী গান বাজিয়ে প্রচারণায় নামেন। উৎসবমুখর পরিবেশে নারী শিশুরা যখন সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে প্রচারণা দেখছিলেন, তখনই হঠাৎ বাজারের ভেতর থেকে কয়েক রাউন্ড গুলির শব্দ শোনা যায়। মুহূর্তের মধ্যে আনন্দ মিছিলটি রণক্ষেত্রে পরিণত হয় এবং লোকজন দিকবিদিক ছোটাছুটি শুরু করেন।
গুলিবর্ষণের এ ঘটনায় ৫ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে তিনজন স্থানীয় বাংলাদেশি নাগরিক এবং দুজন রোহিঙ্গা শরণার্থী।
তারা হলেন, আলীখালী গ্রামের বাসিন্দা নুসরাত জান্নাত (১৬), যার পিঠে গুলি লেগেছে। আলীখালী গ্রামের শাহাব উদ্দিন (১২), তার কোমরে গুলি লেগেছে। মোছনী গ্রামের বাসিন্দা বাচা মিয়া (৪৫), তার হাতে গুলি লেগেছে। এ ছাড়া আলীখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দা আবদুর রহমান (২৭) ও মোহাম্মদ জিসান (১৩) গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।
টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, গুলিবিদ্ধ দুই রোহিঙ্গাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হলেও নুসরাত ও শাহাব উদ্দিনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের জরুরি ভিত্তিতে রাতেই চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।
গুলিবিদ্ধ নুসরাতের মা ছমিরা বেগম বলেন, রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে ধানের শীষের গান শুনছিলাম আমরা। হঠাৎ করে বৃষ্টির মতো গুলির আওয়াজ। কিছু বুঝে ওঠার আগেই আমার মেয়ের পিঠে দুটি গুলি লাগে। ও মাটিতে লুটিয়ে পড়ে।
আরেক আহত বাচা মিয়া জানান, মানুষ যখন ধানের শীষের সমর্থনে নেচে গেয়ে স্লোগান দিচ্ছিল, ঠিক তখনই অন্ধকার থেকে গুলির শব্দ আসে। কোনো রাজনৈতিক বিবাদ নয়, সরাসরি জমায়েত লক্ষ্য করেই গুলি করা হয়েছে বলে তার ধারণা।
এ হামলার পেছনে রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীদের হাত দেখছে স্থানীয় বিএনপি নেতৃত্ব। টেকনাফ উপজেলা বিএনপির সভাপতি হাসান সিদ্দিকী বলেন, আলীখালী এলাকাটি রোহিঙ্গা অধ্যুষিত। ক্যাম্পের ভেতরে থাকা অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীরা প্রায়ই এখানে গোলাগুলি করে। আমাদের ধানের শীষের জোয়ার দেখে আতঙ্ক সৃষ্টি করতেই রোহিঙ্গাদের ব্যবহার করে এ হামলা চালানো হয়ে থাকতে পারে। আমরা দ্রুত অপরাধীদের শনাক্ত করার দাবি জানাচ্ছি।
উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শাহদাত হোসেনও একই সুর মিলিয়ে বলেন, প্রচারণাকে লক্ষ্য করেই পরিকল্পিতভাবে এ গুলিবর্ষণ করা হয়েছে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করলেও এর পেছনে রাজনৈতিক কোনো যোগসূত্র আছে কি না, তা নিয়ে এখনই মন্তব্য করতে নারাজ পুলিশ। টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম জানান, ঘটনাস্থলে পুলিশের অতিরিক্ত টিম কাজ করছে। সিসিটিভি ফুটেজ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, নির্বাচনী প্রচারণায় গুলির ঘটনা ঘটলেও এর নেপথ্যে অন্য কোনো রহস্য বা অভ্যন্তরীণ কোন্দল আছে কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। ভোটের মাত্র কয়েক দিন আগে টেকনাফের মতো একটি স্পর্শকাতর এলাকায় প্রচারণায় গুলিবর্ষণের ঘটনা সাধারণ ভোটারদের মধ্যে ভীতি তৈরি করেছে।
বিশেষ করে রোহিঙ্গা ক্যাম্প সংলগ্ন এলাকায় নিরাপত্তার ঘাটতি নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয়রা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিজিবি ও পুলিশের টহল জোরদার করা হয়েছে।
ইএইচ