মো. আবদুস সালাম, গুরুদাসপুর (নাটোর)
ফেব্রুয়ারি ৭, ২০২৬, ০৫:১৩ পিএম
নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলায় আসন্ন গণভোটকে কেন্দ্র করে সাধারণ নাগরিকদের মধ্যে আগ্রহ ও আলোচনা বাড়ছে। মাঠপর্যায়ে করা জরিপে দেখা গেছে, উপজেলার মোট ভোটারের একটি বড় অংশ গণভোটের বিষয়বস্তু সম্পর্কে ধারণা পেয়েছেন এবং তাদের অধিকাংশই ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে মত দিয়েছেন।
উপজেলায় ৬টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা মিলিয়ে মোট ভোটকেন্দ্র রয়েছে-৬৮ টি। উপজেলায় মোট ভোটার সংখ্যা ১ লাখ ৮৮ হাজার ৯২৬ জন।
সরেজমিন জরিপে উঠে এসেছে, সম্ভাব্য ভোটার উপস্থিতি ৯৫ হাজার থেকে ১ লাখ পর্যন্ত হতে পারে। জরিপ অনুযায়ী, উপজেলার ৬৫ থেকে ৭০ শতাংশ নাগরিক গণভোটের বিষয়টি স্পষ্টভাবে বুঝেছেন।
অধিকাংশ নাগরিক মনে করছেন, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হলে সংবিধান সংস্কারের মাধ্যমে ভবিষ্যতে ভোটাধিকার ও মৌলিক অধিকার আরও সুরক্ষিত হবে। এ ছাড়া বিরোধী দল সংসদে কথা বলার সুযোগ পাবে এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানে নিয়োগে স্বচ্ছতা নিশ্চিত হবে।
ভোটারদের মতে, এ ধরনের সংস্কার বাস্তবায়িত হলে ৫ আগস্টের মতো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ভবিষ্যতে আর ঘটবে না।
জরিপে আরও দেখা গেছে, প্রায় ২০ শতাংশ নাগরিক এখনো গণভোট সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পাননি। অন্যদিকে ১০ শতাংশ নাগরিক মনে করছেন, গণভোটের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ক্ষুণ্ন হতে পারে; তাই তারা ‘না’ ভোট দেওয়ার কথা জানিয়েছেন।
সার্বিক বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, যদি ১ লাখ ভোটার উপস্থিত হন, তবে ৭৫ থেকে ৮৫ হাজার ভোট ‘হ্যাঁ’ পক্ষে এবং ১০ থেকে ১৫ হাজার ভোট ‘না’ পক্ষে পড়তে পারে।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি একযোগে গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এখন পর্যন্ত গুরুদাসপুর উপজেলায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির বড় কোনো অবনতি ঘটেনি। পর্যাপ্ত নিরাপত্তা জোরদার করেছে প্রশাসন। পুলিশের প্রতিটি টিমের সঙ্গে বডি ক্যামেরা থাকছে।
সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাহমিদা আফরোজ জানান, নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। মাঠে পুলিশের পাশাপাশি সেনাবাহিনী, বিজিবি ও র্যাব-১২ সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন। সিসি ক্যামেরার আওতায় থাকছে ভোটকেন্দ্রগুলো।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, সবার সহযোগিতায় শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচন ও গণভোট সম্পন্ন হবে।
ইএইচ