ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Amar Sangbad

ইনস্টাগ্রাম

Amar Sangbad

এক্স

Amar Sangbad


লিংকডইন

Amar Sangbad

পিন্টারেস্ট

Amar Sangbad

গুগল নিউজ

Amar Sangbad


হোয়াটস অ্যাপ

Amar Sangbad

টেলিগ্রাম

Amar Sangbad

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Amar Sangbad


ফিড

Amar Sangbad

ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ভোট না দিলে ঘরবাড়ি জ্বালানোর হুমকি দেওয়া মঞ্জুর বিরুদ্ধে থানায় এজাহার

কুমিল্লা প্রতিনিধি

কুমিল্লা প্রতিনিধি

ফেব্রুয়ারি ১১, ২০২৬, ০৬:২২ পিএম

ভোট না দিলে ঘরবাড়ি জ্বালানোর হুমকি দেওয়া মঞ্জুর বিরুদ্ধে থানায় এজাহার

ভোটের লড়াইয়ে জেতার জন্য ভোটারদের মন জয় করার বদলে ভীতি প্রদর্শনের পথ বেছে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে কুমিল্লার দেবিদ্বার (কুমিল্লা-৪) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর বিরুদ্ধে। ভোটারদের ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়ার হুমকি সম্বলিত একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর তাঁর বিরুদ্ধে দেবিদ্বার থানায় লিখিত এজাহার দায়ের করা হয়েছে। এই ঘটনায় নির্বাচনী এলাকায় সাধারণ ভোটারদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

গত ৯ ফেব্রুয়ারি রাতে দেবিদ্বার উপজেলার বাকসার বাজারে একটি নির্বাচনী পথসভায় বক্তব্য দেন মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী। তিনি ট্রাক প্রতীকের প্রার্থী জসিম উদ্দিনের পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছিলেন। 

সেই সভার একটি ভিডিওতে দেখা যায়, তিনি অত্যন্ত আক্রমণাত্মক ভাষায় ভোটারদের হুঁশিয়ারি দিচ্ছেন। তিনি বলেন, নির্দিষ্ট প্রার্থীকে ভোট না দিলে নির্বাচনের পর ভোটারদের ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে পুড়িয়ে ছারখার করে দেওয়া হবে।

এই ভিডিওটি দ্রুত ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। ভোটাররা একে সরাসরি মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং নির্বাচনী আচরণবিধির চরম অবমাননা হিসেবে দেখছেন।

এই হুমকির ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে রাইসুল ইসলাম আখন্দ নামে এক ভুক্তভোগী বাদী হয়ে মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) রাতে দেবিদ্বার থানায় একটি এজাহার দায়ের করেন। এজাহারে মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী এবং ট্রাক প্রতীকের প্রার্থী জসিম উদ্দিন—উভয়কেই অভিযুক্ত করা হয়েছে।

দেবিদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান এজাহার প্রাপ্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, অভিযোগটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। নির্বাচনী সহিংসতা বা ভীতি প্রদর্শনের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণের কথা জানান তিনি।

মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী দীর্ঘকাল বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং এই আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। তবে এই বিতর্কিত বক্তব্যের ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর বিএনপি কেন্দ্রীয় কমান্ড কঠোর অবস্থানে যায়। দলীয় ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করা এবং শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে তাকে বিএনপির সকল পদ থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। এর ফলে তিনি এখন রাজনৈতিকভাবে পরিচয়হীন হয়ে পড়েছেন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী নিজেই প্রার্থী হতে চেয়েছিলেন। কিন্তু ঋণখেলাপির দায়ে নির্বাচন কমিশন তাঁর মনোনয়নপত্র বাতিল করে দেয়। এরপর তিনি নিজে নির্বাচন করতে না পেরে স্বতন্ত্র প্রার্থী (ট্রাক প্রতীক) জসিম উদ্দিনের পক্ষ নেন এবং তাঁর প্রধান নির্বাচনী প্রচারকের দায়িত্ব পালন করতে থাকেন। তবে অতি উৎসাহী হতে গিয়ে যে ভাষায় হুমকি দিয়েছেন, তা এখন তাঁর ও তাঁর প্রার্থীর জন্য বুমেরাং হয়ে দাঁড়িয়েছে।

নির্বাচনের মাত্র একদিন আগে সাবেক এমপির এমন হুমকির পর দেবিদ্বারের সাধারণ মানুষের মধ্যে এক ধরণের অনিশ্চয়তা কাজ করছে। অনেকেই নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত। স্থানীয় নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা বলছেন, একজন সাবেক জনপ্রতিনিধির মুখে এমন "জ্বালাও-পোড়াও" এর হুমকি গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির জন্য অত্যন্ত লজ্জাজনক।

এদিকে, ট্রাক প্রতীকের প্রার্থী জসিম উদ্দিনের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে এ ধরনের এজাহার তাঁর নির্বাচনী ফলাফলে বড় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

নির্বাচন কমিশনের কড়া হুঁশিয়ারি সত্ত্বেও মাঠ পর্যায়ে এ ধরনের সহিংস বক্তব্য সুষ্ঠু নির্বাচনের পথে বড় অন্তরায়। মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া এই এজাহার শেষ পর্যন্ত কতটুকু কার্যকর হয় এবং প্রশাসন ভোটারদের আস্থা ফেরাতে কী পদক্ষেপ নেয়, তার ওপরই নির্ভর করছে দেবিদ্বারের ভোটের পরিবেশ। আইনের শাসন সমুন্নত রাখতে এ ধরনের উস্কানিমূলক কর্মকাণ্ডের দৃষ্টান্তমূলক বিচার হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এএন

Link copied!