মো. মহসিন তালুকদার, মাদারীপুর
ফেব্রুয়ারি ১৫, ২০২৬, ০৬:২৮ পিএম
মাদারীপুরে বিএনপি নেতার বসতবাড়িতে হামলা, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও শতাধিক হাতবোমা-ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় এখনও কোনো অভিযোগ পায়নি মাদারীপুর সদর থানা পুলিশ। গত শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) রাতে হামলার ঘটনায় পুলিশ, সেনাবাহিনী, বিজিবি ও র্যাব ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বিএনপি নেতার বাড়িতে প্রথমে হামলা শুরু হয় এবং পরে দুই গ্রুপের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও মহুর্মুহু হাতবোমা-ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনার কথা পুলিশ বললেও বিএনপি নেতা লাভলু হাওলাদার বাড়িতে হামলার বিষয়টি অস্বীকার করেন। এমনকি বিবাদমান দুই গ্রুপের কোনো পক্ষই থানায় কোনো অভিযোগ করেনি। এখন পর্যন্ত এলাকায় থমথমে ভাব বিরাজ করছে।
বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, বুধবার বিকেলে শহরের থানতলী ব্রিজের ওপর স্থানীয় হাকিম বেপারীর নাতি রানাকে (১৫) একা পেয়ে লাভলু গ্রুপের কিশোর গ্যাং হামলা করে মারধর করে চলে যায়। রানার ওপর হামলাকারীরা লাভলু হাওলাদারের বাড়িতে অবস্থান করছে এমন খবর পেয়ে হাকিম বেপারীর গ্রুপের কিশোর গ্যাং বিএনপি নেতা লাভলু হাওলাদারের বাড়িতে হামলা করে। সে সময় দুই গ্রুপের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। তৎক্ষণাৎ আক্তার হাওলাদারের বাহিনী হাকিম বেপারীর কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে যোগ দেয়। এরপরই উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। এতে উভয় পক্ষ হাতবোমা ও ককটেল বিস্ফোরণ করে নিজেদের ক্ষমতা প্রদর্শন শুরু করে। প্রথমে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে চেষ্টা করে। অবস্থা ভয়াবহ দেখে পুলিশ সেনাবাহিনী, বিজিবি ও র্যাবের সহযোগিতা নিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নতুন মাদারীপুর ও লক্ষ্মীগঞ্জ এলাকায় আধিপত্য নিয়ে বিএনপি নেতা লাভলু হাওলাদার ও আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক কাউন্সিলর আক্তার হাওলাদার গ্রুপের বিবাদ দীর্ঘদিনের। এই দুই গ্রুপের মধ্যে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে একাধিকবার সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। দুই গ্রুপের এই বিবাদকে কেন্দ্র করে শ্রমিক দল নেতা শাকিল হত্যার শিকার হন। দুই গ্রুপের একাধিক মামলা ও পাল্টা মামলা রয়েছে বলেও জানা যায়। তবে শুক্রবার রাতে বাড়িতে হামলার ঘটনা বিএনপি নেতা লাভলু হাওলাদার অস্বীকার করেন।
বিএনপি নেতা লাভলু হাওলাদার ভয়েস বার্তায় সাংবাদিকদের জানান, তার বাড়িতে কোনো হামলার ঘটনা ঘটেনি। শুক্রবার রাতে যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে তা তার বাড়ি থেকে অনেক দূরে। তিনি এ ঘটনার বিষয়ে কিছুই জানেন না এবং এই ঘটনার সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, আক্তার হাওলাদার ও লাভলু হাওলাদার গ্রুপের মধ্যে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে শুক্রবার রাতে হামলার ঘটনা ঘটে। সে সময় দু’পক্ষই শতাধিক হাতবোমা ও ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। খবর পেয়ে দ্রুত পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের আক্রমণের মাত্রা বেড়ে গেলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে অতিরিক্ত শক্তি হিসেবে সেনাবাহিনী, বিজিবি ও র্যাব যোগ দেয়। প্রায় দেড় ঘণ্টা চেষ্টা করার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। দুই পক্ষের একাধিক আহত হওয়ার খবর পুলিশ জানতে পারে। লাভলু হাওলাদারের বাড়িতে হামলা করার কারণে এ সংঘর্ষের সূত্রপাত হয় বলেও পুলিশ নিশ্চিত হয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে চারটি মোটরসাইকেল জব্দ করেছে। তবে কোনো অস্ত্র উদ্ধার বা কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। এ বিষয়ে কোনো পক্ষ থেকে এখনও কোনো অভিযোগ না পেলেও অস্ত্র ও বোমার উৎস উদ্ঘাটন এবং এ ধরনের সংঘর্ষ বন্ধে পুলিশ কাজ করছে।
এএন