নুরুজ্জামান শেখ, শরীয়তপুর
ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০২৬, ০৮:১৭ পিএম
শরীয়তপুরের ডামুড্যা উপজেলায় মাছ চুরির অপবাদ দিয়ে সেলিম পাইক (৩২) নামের এক যুবককে হাত-পা বেঁধে অমানুষিক নির্যাতনের ঘটনায় ডামুড্যা থানায় ২ জনের নাম উল্লেখ করে আরো অজ্ঞাত ৪/৫ জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেছে। পুলিশ গত ২ দিনেও কোন আসামি গ্রেপ্তার করতে পারেনি। পুলিশ আসামিদের গ্রেপ্তার করতে না পারায় এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমানে সেলিম পাইক (৩২) ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। সেলিম পাইক (৩২) একজন দিনমজুর। অর্থের অভাবে সঠিক চিকিৎসা পাচ্ছে না বলে এলাকাবাসী জানিয়েছেন।
আহত সেলিম পাইকের বড় বোন মাকসুদা বেগম ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত রোববার সকালে ডামুড্যা উপজেলার কনেশ্বর ইউনিয়নের ইকুরি এলাকায় সাবেক জেলা যুবলীগের সদস্য ও বর্তমান শরীয়তপুর পৌরসভা যুবদলের সহ সভাপতি শাহীন মাদবরের মাছের ঘেরের পাশ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন সেলিম পাইক। এ সময় ঘেরের কর্মচারীরা তাকে ‘মাছ চোর’ সন্দেহে ধাওয়া করে ধরে ফেলে। প্রথমে তাকে পানিতে চুবিয়ে পাড়ে আনা হয় এবং সেখানে একদফা মারধর করা হয়।
পরবর্তীতে ঘেরের মালিক শাহীন মাদবর ঘটনাস্থলে পৌঁছে সেলিমের হাত বেঁধে মাটিতে ফেলে, বাঁশের লাঠি দিয়ে তার পায়ে একের পর এক আঘাত করতে থাকে। ৪৩ সেকেন্ডের একটি ভিডিওতে দেখা যায়, সেলিম নিজেকে নির্দোষ দাবি করে আত্মচিৎকার করতে থাকে। এ সময় তার আত্মচিৎকারে কেউ এগিয়ে আসেনি। নির্যাতনের একপর্যায়ে সেলিমের ডান পা ভেঙে যায় এবং মাথায় গুরুতর আঘাত পান। পরে স্থানীয়দের চাপের মুখে অভিযুক্তরা তাকে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়।
তার অপর একটি ১৮ সেকেন্ডের ভিডিওতে দেখা যায়, তার হাত রশি দিয়ে বেঁধে নিচে ফেলা রাখা হয়েছে। মাছের ঘেরের মালিক শাহিন মাদবর মোটা একটি বাঁশের লাঠি দিয়ে সেলিমকে দুই পায়ে সজোরে পিটাচ্ছেন। আর তিন ব্যক্তি দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখছেন। এসময় সেলিম চিৎকার করে কাতর আর্জি জানাচ্ছেন।
আহত সেলিম পাইক জানান, তিনি মাছ চুরির বিষয়ে কিছুই জানেন না। ঘেরের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় তাকে ধরে এই বর্বরতা চালানো হয়েছে।
কনেশ্বর ইউনিয়নের ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি জামার হোসেন বলেন, গতকাল ইকরি এলাকায় মৎস্য খামারে মাছ চোরের অপবাদ দিয়ে শরীয়তপুর পৌরসভা যুবদলের সহ সভাপতি শাহীন মাদবর এলাকার সেলিম পাইককে অন্যায় ভাবে যে নির্যাতন করেছে, এতে আমরা মর্মাহত হয়েছি। মাছের ঘেরের মালিক শাহীন মাদবরের একটি বিশাল ক্যাডার বাহিনী রয়েছে। ১০ বছর পূর্বে সাবেক আইজিপি শহিদুল হকের নাম ভাঙিয়ে জোরপূর্বক ফসলি জমি কেটে মাছের ঘের তৈরি করেন। সে ক্যাডার বাহিনী দিয়ে ব্যাবসা পরিচালনা করে আসছে।
কনেশ্বর ইউনিয়নের যুবদলের সভাপতি ইব্রাহীম মিয়া বলেন, আহত ছেলেটা মূলত নিরীহ ও প্রতিবন্ধী। ছেলেটির মূলত কোন অভিভাবক নেই। ছেলেটাকে যেভাবে মারধর করেছে, তা মধ্যযুগীয় বর্বরতাকে হার মানিয়েছে। আমরা এর শাস্তির দাবি করছি।
একই এলাকার বাসিন্দা সোনিয়া বেগম বলেন, সেলিম পাইকের সাথে জাল ও মাছসহ কিছুই পায় নাই। তবু চোর অপবাদ দিয়ে কীভাবে মারতে পারলো, মানুষ মানুষের উপর এভাবে নির্যাতন করতে পারে না। শাহীন মাদবরের বিচার যদি প্রশাসন না করে, আমরা এলাকা বাসী বিচার করবো।
ডামুড্যা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. রবিউল হক বলেন, আজ মঙ্গলবার বিকালে আহতের বড় বোন বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেছে। এখনো কোন আসামি গ্রেপ্তার করতে পারিনি।
এএন