গাজীপুর প্রতিনিধি
ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০২৬, ০৩:০৪ পিএম
গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (গাকৃবি) কৃষিতে এক নতুন চমক সৃষ্টি হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষিতত্ত্ব বিভাগের প্রফেসর ড. এম. এ. মান্নানের নেতৃত্বে দীর্ঘ এক দশকের গবেষণায় দেশের প্রথম উচ্চ খরা সহনশীল সয়াবিনের ইনব্রিড জাত ‘জিএইউ সয়াবিন ৬’ উদ্ভাবিত হয়েছে। এই উদ্ভাবনের ফলে গাকৃবি উদ্ভাবিত মোট ফসলের জাতের সংখ্যা এখন ৯৪-এ দাঁড়িয়েছে।
গবেষণা সূত্রে জানা যায়, তাইওয়ান, দক্ষিণ কোরিয়া এবং বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট থেকে সংগৃহীত ২৫০টি জার্মপ্লাজমের ওপর তিন বছরের কঠোর পরীক্ষা চালানো হয়। এর মধ্যে ‘জি০০০৫৬’ জার্মপ্লাজমটি খরা-সহনশীল হিসেবে নির্বাচিত হয়। পরবর্তীতে নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর ও ভোলায় পাঁচ বছরের মাঠপর্যায়ের সফল মূল্যায়নের ভিত্তিতে জাতীয় বীজ বোর্ড গত ১১ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে জাতটির আনুষ্ঠানিক ছাড়পত্র প্রদান করে।
‘জিএইউ সয়াবিন ৬’ জাতটি ৫০-৬০ শতাংশ ফিল্ড ক্যাপাসিটির কঠিন খরা পরিস্থিতিতেও উচ্চ ফলন দিতে সক্ষম। প্রতি গাছে ৮০-১০০টি ফল ধরে এবং বীজের দানা বড় হওয়ায় হেক্টরপ্রতি ৩.২ থেকে ৩.৮ টন পর্যন্ত ফলন পাওয়া সম্ভব। উপকূলীয় চরাঞ্চলের লবণাক্ততা ও অনাবৃষ্টির চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এটি কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।
এই জাতের বীজে ট্রিপসিনের মাত্রা কম থাকায় পোল্ট্রি খাদ্যে প্রোটিন শোষণের হার বৃদ্ধি পায়, যা পোল্ট্রি শিল্পে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। এছাড়া মাত্র ১০০ থেকে ১১০ দিনের মধ্যে ফসল পরিপক্ব হওয়ায় কৃষকরা অল্প সময়ে লাভবান হতে পারবেন। সয়াবিনে থাকা উচ্চমানের প্রোটিন ও তেল অপুষ্টি দূরীকরণ ও হৃদরোগের ঝুঁকি হ্রাসেও সহায়ক।
গবেষক ড. এম. এ. মান্নান বলেন, জিএইউ সয়াবিন ৬ আমাদের দীর্ঘ নিরলস গবেষণা ও কৃষকের স্বপ্নের সম্মিলিত ফসল। খরা-প্রবণ জমিতে সয়াবিন চাষে যে অনিশ্চয়তা ছিল, এই জাতটি সেই সমস্যার সমাধান করে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দেবে বলে তিনি জানান।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. জিকেএম মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, এই অর্জন বাংলাদেশের কৃষিতে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। খাদ্য নিরাপত্তা জোরদার ও কৃষকের জীবনে স্থিতিশীলতা আনয়নে এটি টেকসই কৃষির প্রতীক হয়ে উঠতে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেন। উল্লেখ্য, এই গবেষণা দল এর আগে আরও পাঁচটি উচ্চফলনশীল সয়াবিন জাত উদ্ভাবন করেছে।
জেএইচআর